বৃহস্পতিবার ৫ই মার্চ, ২০২৬ ইং ২১শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
চন্দ্রগঞ্জ প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়ার মাহফিল ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের নির্দেশ ইসরায়েলে ও যুক্তরাষ্ট্রে এমন হামলা হবে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি লক্ষ্মীপুরে আগুনে পুড়ে ৯ দোকান ছাই, ৭৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে সবার সহযোগিতা চাই নবনির্বাচিত ২৯৭ সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ নির্বাচনে ভোটের বক্স নিয়ে যাবে নদীর দিকে, আশঙ্কা জেএসডি নেতার ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মহিমান্বিত রজনী-শবে বরাত জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশ পাকিস্তান হয়ে যাবে : ফজলুর রহমান লক্ষ্মীপুরে ৬ সিলসহ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার : বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২৩ ডিসেম্বর

আকাশবার্তা ডেস্ক :


*মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ১৯ নভেম্বর*বাছাই ২২ নভেম্বর*প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ নভেম্বর*শহরে অল্প কেন্দ্রে ইভিএম

আগামী ২৩ ডিসেম্বর, রোববার একাদশ জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিন রেখে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ১৯ নভেম্বর (সোমবার), মনোনয়নপত্র বাছাই ২২ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) এবং প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার)।বৃহস্পতিবার (০৮নভেম্বর) সন্ধায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণের মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা এ তফসিল ঘোষণা করেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারসহ অন্যান্য বেসরকারি টেলিভিশনও সিইসির এই ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করে। তফসিল ঘোষণা থেকে ভোটগ্রহণের দিন পর্যন্ত ব্যবধান রাখা হয়েছে ৪৪ দিন। প্রার্থীতা প্রত্যাহারের পর চূড়ান্ত প্রচারণার সময় রাখা হয়েছে ২২ দিন। এই সময়ের মধ্যেই প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ভোট প্রার্থনার সুযোগ পাবেন।ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবং বিএনপির নেত্বাধীন ২০ দলীয় জোট এবং গণতান্ত্রিক বাম জোটের তফসিল পেছানোর দাবীর মধ্যেই কমিশন এ তফসিল ঘোষণা করলো। যদিও আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল যথাসময়ে তফসিল ও নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলেছিল ইসির সংলাপে। সিইসি তার ভাষণে উল্লেখ করেন, সকলের জন্য অভিন্ন আচরণ ও সমান সুযোগ সৃষ্টির অনুকূলে নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা হবে। সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি প্রতিযোগিতাপূর্ণ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন প্রত্যাশা করেন। ভোটার, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, প্রার্থী, প্রার্থীর সমর্থক এবং এজেন্টরা যেন বিনা কারণে হয়রানির শিকার না হন বা মামলা-মোকদ্দমার সম্মুখিন না হন তার নিশ্চয়তা প্রদানের জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকরি বাহিনীর উপর কঠোর নির্দেশ থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এবার সরাসরি অথবা অনলাইনেও মনোয়নপত্র দাখিলের বিধানও রাখা হয়েছে। শহরগুলোর সংসদীয় নির্বাচনি এলাকা থেকে দ্বৈবচয়ন প্রক্রিয়ায় বেছে নেয়া অল্প কয়েকটিতে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট নেওয়া হবে। এই নির্বাচন পরিচালনায় প্রায় ৭ লাখ কর্মকর্তা ও নিরাপত্তায় ৬ লক্ষাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন থাকছে। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে সহায়তায় থাকবে সেনাবাহিনী। প্রত্যেক নির্বাচনি এলাকায় নির্বাহী এবং বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট থাকবে। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন কে এম নূরুল হুদা। এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ইসির ৩৯তম মুলতবি সভায় ভোটগ্রহণের দিনসহ নির্বাচন সংক্রান্ত খুঁটিনাটি চূড়ান্ত করে কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে এ সভায় চার নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, শাহাদাত হোসেন চৌধুরী এবং ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ অংশ নেন এ সভায়। ওই বৈঠক শেষে বিটিভি, বেতারের কর্মীরা সিইসির ভাষণ রেকর্ড করার জন্য তার কক্ষে প্রবেশ করেন। নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদসহ বিটিভি, বেতার ও পিআইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

সিইসির ভাষণে যা বলেছেন : প্রিয় দেশবাসী আসসালামু আলাইকুম
আমি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার জন্য আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। একই সাথে নির্বাচনের প্রস্তুতির ওপর কিছুটা আলোকপাত করবো। নির্বাচন পরিচালনায় সকল নাগরিকের সহযোগিতার আহ্বান জানাবো। শুরুতেই আমি স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। যেসব বীর সন্তান স্বাধীনতার জন্য জীবন দিয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, সম্ভ্রম বিসর্জন দিয়েছেন-তাঁদেরকে স্মরণ করছি। স্মরণ করছি ৫২’র ভাষা শহীদদের-যাদের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মায়ের ভাষা; অর্জিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। আন্দোলন, আত্মদান আর সংগ্রামের ফসল স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। ভাষা আন্দোলনে আত্মদানের প্রত্যয় নিয়ে স্বাধীকার আন্দোলন। স্বাধীকার আন্দোলনের প্রেরণায় মুক্তি সংগ্রাম। মুক্তিযুদ্ধের শ্রেষ্ঠ অর্জন লাল-সবুজ পতাকার এক খ- বাংলাদেশ। চরম ক্ষুধা-দারিদ্র, অবনতকর আর্থ-সামাজিক অবস্থান এবং যুদ্ধ-বিধ্বস্ত ভৌত অবকাঠামো নিয়ে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জন্ম। নবীন সে দেশটি আজ উন্নত বিশ্ব অভিমুখ অভিযানে দীপ্তপদে এগিয়ে চলছে। উন্নয়নের আর একটি আরোধ্য সোপান গণতন্ত্রের মজবুত ভিত্তি। সামাজিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জনে উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে সমান্তরাল পথ ধরে অগ্রসর হতে হবে। গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় নির্বাচন একটি নির্ভরশীল বাহন। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন তা এগিয়ে নিয়ে যেতে জনগণের কাছে হাজির হয়েছে। জনগণের হয়ে সব রাজনৈতিক দলকে সে নির্বাচনে অংশ নিয়ে দেশের গণতন্ত্রের ধারা এবং উন্নয়নের গতিকে সচল রাখার আহ্বান জানাই।

প্রিয় দেশবাসী
আমরা একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আইন সংস্কার, ভোটার তালিকা প্রস্ততসহ ৭টি করণীয় বিষয় স্থির করে ২০১৭ সালে একটি কর্মপরিকল্পনা প্রস্তত করেছিলাম। সংলাপের মাধ্যমে ৪০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম প্রতিনিধি, পর্যবেক্ষক সংস্থা, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও নারীনেত্রী সংগঠনের কাছে কর্মপরিকল্পনাটি তুলে ধরেছিলাম। তাদের পরামর্শ এবং সুপারিশ বিচার-বিশ্লেষণের পর করণীয় বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করা হয়েছে। যেমন- কতিপয় আইন ও বিধি সংশোধন করা হয়েছে। সংসদীয় এলাকার সীমানা পুনঃনির্ধারণ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রায় ৪০ হাজার ভোটকেন্দ্রের বাছাই কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ৭৫ টি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের সক্ষমতা অর্জন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চলমান রয়েছে। প্রথমবারের মত পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ২৮ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখের মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ইতোমধ্যে নির্বাচনের ক্ষণ গণনা শুরু হয়েছে। কমিশনাররা সংবিধানের আলোকে সংসদ নির্বাচন পরিচালনা করার শপথ নিয়েছেন। এবং তাতে তাঁরা নিবিষ্ট রয়েছেন। নির্বাচনি সামগ্রী ক্রয় এবং মুদ্রণের কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। আন্ত:মন্ত্রণালয় বৈঠকে পারস্পারিক পরামর্শ আদান-প্রদান করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারি নির্বাচনি দায়িত্বে নিবেদিত রয়েছেন। আমাদের প্রস্তুতি সম্পর্কে মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেছি।

প্রিয় দেশবাসী
নির্বাচন পরিচালনার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় ৭ লাখ কর্মকর্তা নিয়োগের প্রাথমিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। প্রত্যেক নির্বাচনি এলাকায় নির্বাহী এবং বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বিভিন্ন বাহিনী থেকে ৬ লক্ষাধিক সদস্য মোতায়েন করা হবে। তাদের মধ্যে থাকবে পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, কোস্ট গার্ড, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। তাদের দক্ষতা, নিরপেক্ষতা ও একাগ্রতার উপর বিশেষ দৃষ্টি রাখা হবে। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার কারণে নির্বাচন ক্ষতিগ্রস্ত হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে অসামরিক প্রশাসনকে যথা-প্রয়োনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন থাকবে।

প্রিয় দেশবাসী
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সর্বস্তরের জনগণের মধ্যে স্বতস্ফুর্ত আগ্রহের জাগরণ ঘটে। তাদের বিপুল উৎসাহ, উদ্দীপনা আর উচ্ছাসে গোটা দেশ উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। রাজনীতিবিদদের কৌশল প্রণয়ন, প্রার্থীদের নিধুম প্রচারণা, সমর্থকদের জনসংযোগ, ভোটারদের হিসেব-নিকেশ, হাট-বাজারে মিছিল-স্লোগান, পোস্টারে অলি-গলি ছয়লাব, চা দোকানে বিতর্কের ঝড়, কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, প্রশাসনে রদবদল এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক প্রস্তুতির ঘটনা ঘটে। ভোটের দিনে ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার মধ্যে আনন্দঘন ও উৎসবমূখর পরিবেশ বিরাজ করে। ২০১৮ সাল সেই নির্বাচনের একটি বছর। নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলো প্রস্ততি নেওয়া শুরু করে দিয়েছে। সুশীল সমাজ মতামত প্রকাশ অব্যাহত রেখেছে। গণমাধ্যমে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ এবং রাজনৈতিক বিশে¬ষকদের মতামত, বক্তব্য, প্রবন্ধ, প্রতিবেদন, আলােচনা-সমালোচনা ও সুপারিশ প্রকাশ করা হচ্ছে। টেলিভিশন চ্যানেলগুলো নির্বাচন নিয়ে প্রতিনিয়ত টক-শো প্রচার করে যাচ্ছে সব সংবাদ মাধ্যম। নির্বাচন নিয়ে বিশেষ খবর ও প্রতিবেদন প্রচার করছে। দেশের প্রখ্যাত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ দলগতভাবে অংশগ্রহণমূলক এবং সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরামর্শ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সংলাপে মিলিত হয়েছেন। সভা-সমাবেশ নির্বাচনি বক্তব্যে উত্তপ্ত হচ্ছে। দেশি-বিদেশি বহুসংখ্যক সংগঠন নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। দেশব্যাপী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুকূল আবহ সৃষ্টি হয়েছে।

প্রিয় দেশবাসী
জাতির এমন উচ্ছসিত প্রস্তুতির মধ্যখানে দাড়িয়ে আমি প্রত্যাশা করবো, অনুরোধ করবো এবং দাবি করবো: প্রার্থী এবং তার সমর্থক নির্বাচনি আইন ও আচরণ বিধি মেনে চলবেন। প্রত্যেক ভোটার অবাধে এবং স্বাধীন বিবেকে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট প্রদান করবেন। স্ব স্ব এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং নির্বাচিত প্রতিনিধি/ভোটকেন্দ্রে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতকরণে সহায়তা করবেন। পোলিং এজেন্টরা ফলাফলের তালিকা হাতে না পাওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রে অবস্থান করবেন। নির্বাচনি কর্মকর্তারা নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনে অটল থাকবেন। নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটরা আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করবেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী ভোট কেন্দ্র, ভোটার, প্রার্থী, নির্বাচনি কর্মকর্তা এবং এজেন্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। গণমাধ্যমকর্মী বস্তনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশ করবেন। পর্যবেক্ষকরা নির্বাচন কমিশনের নীতিমালা মেনে দায়িত্ব পালন করবেন এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সামগ্রিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও তত্ত্বাবধানের আওতায় রাখবে। এভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হবে।

প্রিয় দেশবাসী
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় জনগণের মালিকানার অধিকার প্রয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হয়; নতুন সরকার গঠনের ক্ষেত্র তৈরী হয়। এমন নির্বাচনে দেশের সব রাজনৈতিক দলকে অংশগ্রহণ করার জন্য আবারো আহ্বান জানাই। তাদের মধ্যে কোন বিষয় নিয়ে মতানৈক্য বা মতবিরোধ থেকে থাকলে রাজনৈতিকভাবে তা মীমাংসার অনুরোধ জানাই। প্রত্যেক দলকে একে অপরের প্রতি সহনশীল, সম্মানজনক এবং রাজনীতিসুলভ আচরণ করার অনুরোধ জানাই। সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি প্রতিযোগিতাপূর্ণ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন প্রত্যাশা করি। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে প্রার্থীর সমর্থকদের সরব উপস্থিতিতে অনিয়ম প্রতিহত হয় বলে আমি বিশ্বাস করি। প্রতিযোগিতা এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেন কখনও প্রতিহিংসা বা সহিংসতায় পরিণত না হয় রাজনৈতিক দলগুলোকে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানাই।

প্রিয় দেশবাসী
ভোটার, রাজনৈতিক নেতাকর্মী,প্রার্থী, প্রার্থীর সমর্থক এবং এজেন্ট যেন বিনা কারণে হয়রানির শিকার না হন বা মামলা-মোকদ্দমার সম্মুখিন না হন তার নিশ্চয়তা প্রদানের জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকরি বাহিনীর উপর কঠোর নির্দেশ থাকবে। দলমত নির্বিশেষে সংখ্যালঘু, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, ধর্ম, জাত, বর্ণ ও নারী-পুরুষভেদে সকলে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ভোট শেষে নিজ নিজ বাসস্থানে নিরাপদে অবস্থান করতে পারবেন। নির্বাচনি প্রচারণায় সকল প্রার্থী ও রাজনৈতিক দল সমান সুযোগ পাবে। সকলের জন্য অভিন্ন আচরণ ও সমান সুযোগ সৃষ্টির অনুকূলে নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা হবে। এ সব নিয়ে শীঘ্রই প্রয়োজনীয় পরিপত্র জারি করা হবে।

প্রিয় দেশবাসী
নির্বাচনি ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহারের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। কমিশনের নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রার্থীদের তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং নির্বাচনের পারিপার্শিক পরিস্থিতি আদান-প্রদান পদ্ধতি সংক্রান্ত সফ্টওয়ার ও প্রোগ্রাম আধুনিক ও যুগোপযোগী করা হয়েছে। সরাসরি অথবা অনলাইনেও মনােনয়নপত্র দাখিলের বিধানও রাখা হয়েছে। পুরাতন পদ্ধতির পাশাপাশি ভােট হণে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অনেকগুলো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে আংশিক ও পূর্ণাঙ্গ ভোটগ্রহণে ইভিএম ব্যবহার-সফল হয়েছে। জেলা এবং অঞ্চল পর্যায়ে প্রদর্শনীর মাধ্যমে ইভিএম-এর উপকারিতা সম্পর্কে ভোটারদেকে অবহিত করা হয়েছে। ইভিএম ব্যবহারে তাদের মধ্যে উৎসাহব্যঞ্জক আগ্রহ দেখা গিয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি ইভিএম ব্যবহার করা গেলে নির্বাচনের গুণগত মান উন্নত হবে এবং সময়, অর্থ ও শ্রমের সাশ্রয় হবে। সে কারণে শহরগুলোর সংসদীয় নির্বাচনি এলাকা থেকে দ্বৈবচয়ন প্রক্রিয়ায় বেছে নেয়া অল্প কয়েকটিতে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ করা হবে।

এ পর্যায়ে সিইসি সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১২৩ দফা (৩) উপ-দফা (ক)-এর বরাতে এবং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করেন। সংসদ নির্বাচনকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন উল্লেখ এই নির্বাচন পরিচালনায় দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন। বলেন, সকলকে সাথে নিয়েই অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে সফল হবো-ইনশাআল্লাহ।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১