বুধবার ১৮ই মার্চ, ২০২৬ ইং ৪ঠা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাছাইয়ে সারাদেশে ৭৮৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল

আকাশবার্তা ডেস্ক :


আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমা পড়া ৩০৬৫টি মনোয়নপত্রের মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বাছাইয়ে উৎরাতে পেরেছে ২ হাজার ২৭৯টি। গতকাল রোববার (০২ডিসেম্বর) দেশের ৩০০ আসানের মনোনয়ন যাচাই বাছাই শেষে রিটার্নিংকর্মকর্তারা সারাদেশে ৭৮৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছেন। নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক যুগ্মসচিব এস এম আসাদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট অভিযোগ করেছে, বাদ পড়াদের মধ্যে ৮০ জনই ছিলেন তাদের প্রার্থী। তবে দেশের ৩৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে কোন দলের কতজনের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে সে তথ্য ইসি দিতে পারেনি। তবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিদ্রোহী) হিসেবে যাঁরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, তাঁদের অনেকের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর ভোট সামনে রেখে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় রয়েছে। তার আগে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের (গ্রহণ ও বাতিল) বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করা যাবে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ৬ থেকে ৮ ডিসেম্বর এসব আপিলের শুনানি করে তা নিষ্পত্তি করবে কমিশন।

মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার কারণ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, খেলাপি ঋণ ও আদালতে সাজার বাইরে প্রার্থীর স্বাক্ষর না থাকা, দলীয় প্রত্যয়নপত্র ছাড়া দলের নাম ব্যবহার করা, হলফনামায় তথ্য গোপন করা, সরকারি সেবার বিলখেলাপি হওয়াসহ বিভিন্ন কারণে অনেকের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

ছোটখাটো কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল না করার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু বিএনপির মহাসচিবের সই মেলেনি, এমন সন্দেহেও কয়েকজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। যদিও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইসি ও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়ে বলেছেন, তাঁর সই ঠিক আছে।

উপজেলা, পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে যাঁরা পদে থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন, তাঁদের প্রায় সবার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। অনেকে পদত্যাগ করলেও পদত্যাগপত্র গৃহীত হওয়ার চিঠি না থাকায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। আইন অনুযায়ী, লাভজনক পদে থেকে নির্বাচন করা যায় না। তবে স্থানীয় সরকারের পদগুলো লাভজনক কিনা বা সংসদ নির্বাচন করতে হলে আগে পদত্যাগ করতে হবে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক আছে।

গতকাল মনোনয়নপত্র বাতিল করার মাধ্যমে নির্বাচনে লড়ার সুযোগ শেষ হয়ে যায়নি। যাঁদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, তাঁরা নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করতে পারবেন। ইসির সিদ্ধান্তও মনঃপুত না হলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। গতকাল ইসি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা সোমবার (০৩ডিসেম্বর) থেকে আগামী বুধবার (৩ থেকে ৫ ডিসেম্বর) পর্যন্ত ইসিতে আপিল করার সুযোগ পাবেন। ইসি ৬,৭ ও ৮ ডিসেম্বর আপিলগুলোর শুনানি করে রায় দেবে।

দলওয়ারি হিসেবে বেশি বাদ পড়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ বেশ কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ অনেক নেতা বাছাইয়ে বাদ পড়েছেন। বিএনপির পক্ষে অবশ্য মনোনয়নপত্রও জমা পড়েছিল বেশি। অর্থাৎ ২৯৫টি আসনে বিএনপির ৬৯৬ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। প্রায় সব আসনে বিএনপি কৌশলগত কারণে একাধিক প্রার্থীকে প্রাথমিক মনোনয়ন দিয়েছে। কোনো কোনো আসনে দুই থেকে নয়জন বিকল্প প্রার্থীও দেওয়া হয়। গতকালের বাছাইয়ে ৬টি আসনে বিএনপির সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। ঢাকা–১, বগুড়া–৭, মানিকগঞ্জ–২, রংপুর–৫, জামালপুর–৪ ও শরীয়তপুর–১ আসন এখন বিএনপির প্রার্থীশূন্য।

ক্ষমতাসীন দলের কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। ২৬৮টি আসনে আওয়ামী লীগের ২৮১ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের মিত্র জাতীয় পার্টির মহাসচিবসহ দলটির কয়েকজনের মনোনয়নপত্রও বাতিল হয়েছে। ২১০টি আসনে জাতীয় পার্টির ২৩৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।

সংবিধান অনুযায়ী নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ন্যূনতম দুই বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তি নির্বাচনের যোগ্য নন। দণ্ডিত ব্যক্তি সাজা শেষ হওয়ার পাঁচ বছর পরে নির্বাচন করতে পারেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুর্নীতির দুটি মামলায় দণ্ডিত। ফেনী-১, বগুড়া-৬ ও ৭ আসনে কারাবন্দী খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল। তিনটি আসনেই তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। নির্বাচন–সংক্রান্ত আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, ঋণখেলাপী ও সরকারি সেবা সংস্থার বিলখেলাপিরা নির্বাচনে অযোগ্য। বিএনপির বাদ পড়া প্রার্থীদের একটি বড় অংশ ঋণখেলাপি।

৬টির বেশি মনোনয়ন বাতিল যেসব আসনে : 
ঢাকা-১৭ আসনে ২৭টির মধ্যে ১১টি; ফরিদপুর-৪ আসনে ১৪টির মধ্যে ১০টি; ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে ২৭টির মধ্যে ১১টি; ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে ১৬টির মধ্যে ১০টি; কুমিল্লা-৩ আসনে ২৭টির মধ্যে ১০টি বাতিল হয়েছে। বগুড়া-৭ আসনে ১৪টির মধ্যে ৭টি; রাজশাহী-১ আসনে ১২টি মধ্যে ৮টি; যশোহর-২ আসনে ১৫টির মধ্যে ৭টি; ময়মনসিংহ-৩ আসনে ১৭টির মধ্যে ১০টি; কিশোরগঞ্জ-২ আসনে ১০টির মধ্যে ৭টি; ঢাকা-৮ আসনে ২২টির মধ্যে ৭টি বাতিল হয়েছে।

কারো মনোনয়নপত্র বাতিল হয়নি ৩৫ আসনে : 
ঠাকুরগাঁও-২, দিনাজপুর-৫, জয়পুরহাট-২, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩, নওগাঁ-২, নাটোর-৩, পাবনা-২ ও ৪, কুষ্টিয়া-৩, বাগেরহাট-৩, খুলনা-১, ৩, ৪, ৫, সাতক্ষীরা-৩, পটুয়াখালী-৪, ভোলা-৩, বরিশাল-৪ ও ৫, পিরোজপুর-২, টাঙ্গাইল-২, ৫, জামালপুর-২, নেত্রকোণা-৩, ঢাকা-১২ ও ১৩, নরসিংদী-৪, গোপালগঞ্জ-২, মৌলভীবাজার-৪, কুমিল্লা-৭, চাঁদপুর-৩, ফেনী-২, নোয়াখালী-৫, লক্ষ্মীপুর-৩, কক্সবাজার-১ আসনে কারও মনোনয়ন বাতিল হয়নি।

বাদ পড়েছে কোথায় কত :

বিভাগওয়ারি আসন দাখিল মনোনয়নপত্রের সংখ্যা বাছাইয়ে বাতিল বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা
রংপুর ৩৩ ৩৫৩ ৯১ ২৬২
রাজশাহী ৩৯ ৩৫৫ ৯৬ ২৫৯
খুলনা ৩৬ ৩৫১ ৯০ ২৬১
বরিশাল ২১ ১৮৩ ৩৮ ১৪৫
ময়মনসিংহ ২৪ ২৩১ ৬২ ১৬৯
ঢাকা ৭০ ৭৩১ ১৯২ ৫৩৯
সিলেট ১৯ ১৮৪ ৪৪ ১৪০
চট্টগ্রাম ৫৮ ৬৭৭ ১৭৩ ৫০৪
৩০০ আসন ৩০৬৫টি ৭৮৬টি বাদ ২২৭৯টি বৈধ

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১