শনিবার ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ইং ১৬ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরে আগুনে পুড়ে ৯ দোকান ছাই, ৭৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে সবার সহযোগিতা চাই নবনির্বাচিত ২৯৭ সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ নির্বাচনে ভোটের বক্স নিয়ে যাবে নদীর দিকে, আশঙ্কা জেএসডি নেতার ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মহিমান্বিত রজনী-শবে বরাত জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশ পাকিস্তান হয়ে যাবে : ফজলুর রহমান লক্ষ্মীপুরে ৬ সিলসহ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার : বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন যাদের জন্য দেশে আসতে পেরেছেন, তারা জুলাইয়ের অবদান অস্বীকার করছেন : ডা. শফিকুর রহমান লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে নিখোঁজের ৭দিন পর কলেজ ছাত্রের লাশ উদ্ধার লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে যৌথবাহিনীর অভিযানে অস্ত্রসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘চিতা’ গ্রেপ্তার

উন্নয়নের নেত্রী শেখ হাসিনার কাছে লক্ষ্মীপুরবাসীর প্রত্যাশা

আকাশবার্তা ডেস্ক :

প্রায় ষোল বছর পর আসছে ১৪ মার্চ লক্ষ্মীপুরে আসছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যোগ্য উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনে ভূমিধ্বস বিজয়ের মধ্যদিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেন তিনি। এরপর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনেও টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে সফলভাবে দেশ পরিচালনা করছেন শেখ হাসিনা। এর আগে ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনে প্রায় ২১ বছর পর প্রথমবারের মত ক্ষমতায় আসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ।

দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মত মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এসে শুরু করেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার প্রক্রিয়া। ওই মেয়াদেই ১৫ আগষ্টের সকল ঘাতকের বিচার কাজ সম্পন্ন করা হয়। এ বিচারের মধ্যদিয়ে দীর্ঘদিনের জনগণের দাবি পূরণ হয়। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ১৯৯৬-২০০১ শাসনামলে বাংলাদেশ খাদ্যে সয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে। ওই সময় দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীলতার পাশাপাশি সারাদেশে ব্যাপক উন্নয়ন করা হয়। এছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, স্বামী পরিত্যক্ত ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতাসহ দরিদ্র জনগোষ্ঠির জন্য কল্যাণমূলক প্রকল্প শুরু করেন শেখ হাসিনার সরকার। পাশাপাশি একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প চালু করেন তিনি।

২০০৮ সালের নির্বাচনে দ্বিতীয় মেয়াদে আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ক্ষমতায় এসে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ সম্পন্ন করাসহ ব্যাপক উন্নয়ন করা হয়েছে সারাদেশে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় ক্ষমতার বিকেন্দ্রীয় করণ, নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি, মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতাসহ দরিদ্র জনগোষ্ঠির সকল ভাতা বৃদ্ধি করা হয়। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সড়ক উন্নয়ন, গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন এখন দৃশ্যমান। স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে চালু করা হয় ইউনিয়ন ভিত্তিক কমিউনিটি ক্লিনিক। বার্ষিক জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং মাথাপিছু আয় ৭শ’ ডলার থেকে ১৪শ’ ডলারে উন্নীত হয়েছে বিগত কয়েক বছরে। দরিদ্র জনগোষ্ঠির সংখ্যা হ্রাস করাসহ ভূমিহীনদের জন্য নেয়া হয়েছে আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন। ব্যাপক উন্নয়ন করা হয়েছে বিদ্যুৎখাতে। ৩৩শ’ মেগাওয়াট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে ১২ হাজার মেগাওয়াটে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে (তৃতীয়বারের মত) ক্ষমতায় আসার পর উন্নয়ন কার্যক্রম আরো বেগবান হয়েছে।  এ সময় বিশ্বব্যাংকের ভুয়া দুর্নীতির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে পদ্মসেতু প্রকল্প। ইতোমধ্যে পদ্মাসেতুর কাজ প্রায় ৪০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। নেওয়া হয়েছে উন্নয়নমুখী বিভিন্ন মেগাপ্রকল্প। ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিপুল সংখ্যাক ফ্লাইওভার নির্মাণের মধ্যদিয়ে যানজট নিরসন করাসহ সিটি করপোরেশনগুলোর আধুনিকায়ন করা হয়েছে। আরো বেশ কয়েকটি মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলছে দ্রুতগতিতে। মেট্রোরেল নির্মাণ, পাতাল রেললাইন নির্মাণ, পায়রা সমুদ্র বন্দর, বিভিন্ন জেলায় অর্থনৈতিক জোন বাস্তবায়ন, সড়ক ও মহাসড়কগুলো ৪ লেনে উন্নীত করণ, গ্রামীণ রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। দেশের সামগ্রীক উন্নয়নে শেখ হাসিনার সরকার এখন সারাবিশ্বে একটি মডেল।

বিগত ৭ বছরে জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার জনগণের কাঙ্খিত উন্নয়নে সফল হয়েছেন বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। এ সময়ের মধ্যে সমাজে ধনী দরিদ্রের বৈষম্য হ্রাস পেয়েছে। ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে জনগণের। আর্থসামাজিক নানামুখি উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি চাকুরীজীবীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। সর্বক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিগত ৭ বছরে লক্ষ্মীপুর জেলায় ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। বহু কাঙ্খিত মেঘনার ভাঙন রোধে ২শ’ কোটি টাকার প্রকল্প সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়ন হচ্ছে। রামগতি-কমলনগর সড়ক উন্নয়ন হয়েছে। লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় চলছে প্রায় শত কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প। ইতোমধ্যে লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীর হাটে নৌ-বন্দর, এবং লক্ষ্মীপুরে রেললাইন সংযোগ স্থাপন প্রকল্প অনুমোদন লাভ করেছে। লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে “চন্দ্রগঞ্জ থানা” এবং “চন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে থানা” বাস্তবায়ন হয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন করা হয়েছে।

১৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষ্যে আনন্দের জোয়ারে ভাসছে লক্ষ্মীপুরবাসী। প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফরে তাঁর কাছে লক্ষ্মীপুরবাসীর প্রত্যাশা আরো বেড়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্মীপুর শুভাগমনকে কেন্দ্র করে এ জেলার মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন দাবি প্রকাশ করে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন।

এ জেলার মানুষ ফেসবুক পেইজে স্ট্যাটাসের মাধ্যমে উন্নয়নের নেত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। তারা চান, নৌ-বন্দর এবং রেললাইন সংযোগ স্থাপনের কার্যক্রম যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে শুরু করা হয়। জেলার নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জবাসীর দাবি চন্দ্রগঞ্জ থানাকে যেন চলতি সরকারের মেয়াদেই উপজেলায় উন্নীত করা হয়।

এ ছাড়া লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজকে পুর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর, সদর হাসপাতালের আধুনিকায়ন এবং ১০০ সয্যা থেকে ২০০ সয্যায় উন্নীত করণ, সয়াবিন এবং নারিকেল ভিত্তিক শিল্প কারখানা স্থাপন, চন্দ্রগঞ্জে পৌরসভা বাস্তবায়ন, ইলিশ ও চিংড়ি মাছ সংরক্ষণে উন্নতমানের হিমাগার নির্মাণ লক্ষ্মীপুরবাসীর প্রাণের দাবি। এসব দাবি পূরণে প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেছেন লক্ষ্মীপুরবাসী।

সম্পাদনায় : মো. আলী হোসেন।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« জানুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮