আকাশবার্তা ডেস্ক :
আন্দোলন বাদ! ক্ষমতা যাওয়ার বিকল্প চ্যাপ্টার। অবশেষে নির্বাচন ঘিরে ঐক্য-সংঘবদ্ধ শক্তি সবই জলে গেল। বিএনপির ঘরে এসে ‘ত্রাণকর্তা’র ভূমিকায় যারা ছিলো তাদের ভূমিকায় দল এখন অন্ধকারে বলে দাবী তৃণমূলের। বিএনপিকে ঐক্যফ্রন্ট কী দিল? নির্বাচনের আগে লন্ডনে বসে দন্ডিত তারেক জিয়ার বাড়াবাড়িতে ঐক্যফ্রন্ট কি পেল? গতকাল গুলশানে যখন প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠক চলছে তখন এমন প্রশ্নই উড়ছে।
বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবারের নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পেছনে ঐক্যফ্রন্টের ৭টি আচরণ আওয়ামী লীগকে আক্রোশের রুপে দাঁড় হতে বাধ্য করেছে। রাজনীতির মাঠে লড়াইয়ে নেমে আমানত রক্ষা না করা, যুদ্ধে নেমে বিরোধী শক্তিকে বিশ্বাস করা। রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে হেয় করার আচরণে আওয়ামী লীগকে মাঠের সিদ্ধান্ত নিতে অনেক সহজ হয়েছে।
নির্বাচনের আগে সভা সেমিনারে এমন ৭টি রাজনৈতিক আচরণে বিএনপিকে বিপদগ্রস্থ করেছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে দাবী উঠেছে। এর মধ্যে পুলিশকে লাঠিয়াল বাহিনী বলে ড. কামাল হোসেন যে আক্রোশ দেখিয়েছেন তা একটি বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল। এরপর ধারাবাহিকভাবে গণফোরামের নেতা সুব্রত চৌধুরীকে তাঁর সকল বক্তব্যে লাঠিয়াল বাহিনী এ শব্দটা জীবিত রেখেছেন!
তখন তাৎক্ষণিক পুলিশ এর প্রতিবাদ না জানালেও নীরবে এর উত্তর দিয়েছেন বলে অনেকের মত। এরপর ভোটের দুইদিন আগে ‘বিজয়’দেখে আগাম উল্লাস ছড়িয়ে দেয়া। কিন্তু ভোট কেন্দ্রে থাকার তাঁর কোনো কৌশল নির্ধারণ না করা। তৃণমূলের সাথে ভালো সমন্ধয় না থাকা। মাঠ কর্মীদের বার্তা না দিয়ে শুধু ৩০ তারিখে ‘ভোট বিপ্লব’র স্বপ্ন দেখা রাজনৈতিক চরিত্রের ভুলপথ ছিলো বলে নানান বিশ্লেষণে উঠে আসছে। এছাড়াও বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে ড. কামালের আরেকটি বিজয় দিবস পালনের ‘আকাশ-কুসুম’চিন্তা। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতে লন্ডনে বসে সিনিয়রদের ডিঙ্গিয়ে তারেক জিয়ার অতিরঞ্জিত বাড়াবাড়ি। ঐক্যফ্রন্টের গোপন সিদ্ধান্ত আগাম গণমাধ্যমে চলে আসা। প্রায় সময় দেখা যেতো ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত নিয়ে গণমাধ্যমে যে সংবাদ প্রচার হতো পরেরদিন কর্মসূচী ঘোষণা হলে হুবহু তা মিলে যেতো।
এরফলে আওয়ামী লীগ ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্তের আলোকে বিকল্পপথ তৈরী করে রুদ্ধ করার কাজ সহজ হয়ে যেতো। সব শেষ বিএনপির জনপ্রিয়তা ও তৃণমূলের শক্তিকে উপেক্ষা করে কয়েকজন উডে আসা ত্রাসের সিদ্ধান্তকে অগ্রাধিকার দেয়া বিএনপির জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্র গুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে ভবিষ্যত কর্মপন্থা নিয়ে দ্বিধান্বিত রয়েছে ফ্রন্টের নেতারা। এখন বিএনপি খুব দ্রুত আন্দোলন শুরু করতে চাইলেও গণফোরামসহ অন্যান্য দলগুলো ধীরে-সুস্থে আন্দোলনে নামার পক্ষে কথা বলছেন। ড. কামাল হোসেন, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, আ স ম আব্দুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না এবং রাজনীতির বাইরে থেকে এসে ‘ত্রাণকর্তা’র ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীদের কর্মের ফসল কী বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরামে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁদের ঐক্যতে বিএনপির কী লাভ হয়েছে অনেক নেতাই বিএনপির কাছে এখন জানতে চাচ্ছেন।
তবে বিএনপি এখন শপথ গ্রহন না করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা সঠিক বলেও সচেতন রাজনৈতিক নেতাদের মত। তাঁদের ভাষ্য, বিএনপির এখন ঐ ৫ টি আসন উপর্নিবাচন দিয়ে আওয়ামীলীগ মহাজোট জিতে যাক, তাহলে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম হবে। এর মাধ্যমে বিশব্ব্যাপি আওয়ামী লীগের চরিত্র উন্মোচিত হবে।
বিএনপির কাছে তৃণমূলের জবাব চাওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম খান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ভোটের পর প্রথম মূল্যায়ন সভায় অনেক বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে। সেখানে জোট শরিকরা তাদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন। আক্ষেপের কথা বলেছেন। প্রয়োজনীয় পরামর্শও দিয়েছেন। সবগুলো বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। জোটের সর্বোচ্চ ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ এদিকে গতকাল নির্বাচন কমিশন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে জাতির সঙ্গে উপহাস করেছে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের নামে জাতির সঙ্গে নজিরবিহীন ঠাট্টা করা হয়েছে।’ সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে বৃহস্পতিবার (৩ জানুয়ারি) বিকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদার কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার পর সাংবাদিকদের তিনি তিনি এসব কথা বলেন।
এদিন বিকালে ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে সাত সদস্যর একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন ভবনে এসে এ স্মারকলিপি জমা দেন।এর আগে গতকাল বেলা ১১টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে যখন বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী নিয়ে বৈঠক শুরু হয়, ঠিক ওই সময়ই জাতীয় সংসদে শুরু হয় একাদশ সংসদে নির্বাচিতদের শপথ অনুষ্ঠান। দীর্ঘ বৈঠক শেষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন একাদশ সংসদ নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করা বিএনপির নির্বাচিতরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন না।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ গণমাধ্যমকে বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে কোনো লাভ হবে না। যে নির্বাচন কমিশন একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করতে সক্ষমতার পরিচয় দেয়নি, সেই নির্বাচন কমিশন এখন কী করবে। নির্বাচনের কয়েক দিন আগে মওদুদ আহমদ ও ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলুর একটি ফোনালাপ ফাঁস ঘিরে বেশ আলোচনার সৃষ্টি হয়েছিল। সেখানে তাঁদের আলোচনায় ছিল সব প্রার্থীকে ঢাকায় ডেকে কোনো কর্মসূচি দেয়া।
এখন নির্বাচনের পর সবাইকে ঢাকায় ডেকে কমিশনে নেয়া প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, এ ধরনের কর্মসূচি নির্বাচনের আগেই করতে হতো। এখন করলে ফলপ্রসূ কিছু হবে বলে মনে হয় না।
সূত্র : দৈনিক আমার সংবাদ