নিজস্ব প্রতিবেদক :
লক্ষ্মীপুরে বোরো মৌসুমে ফসলের ক্ষেতে পর্যাপ্ত সেচের পানি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২টি খাল পুনঃখননের কাজ শুরু হয়েছে। সাড়ে ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এ খাল পুনঃখননের কাজে বরাদ্দ ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা। এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে স্থানীয় অন্তত ১২টি গ্রামের ২ হাজার কৃষক সুফলভোগ করবেন বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের ৬৪ জেলার অভ্যন্তরীণ ছোট নদী, খাল ও জলাশয় পুনঃখনন প্রকল্পের প্রথমপর্যায়ে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বাঙ্গাখাঁ ইউনিয়নের নেয়ামতপুর ডিসি খাল ও ছাগলছিড়া খাল পুনঃখনন করা হচ্ছে। পূর্ব বাঙ্গাখাঁ কাছিদবাড়ি পোল সংলগ্ন এলাকা থেকে দেবানন্দ রায়েরখিল পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার এবং জকসিন টু মিরিকপুর সড়ক সংলগ্ন ছাগলছিড়া খালের আড়াই কিলোমিটার। খালের তলদেশ ১ মিটার গভীর, ৭ মিটার প্রশ্বস্ত এবং উপরিভাগে প্রায় ১৭ মিটার প্রশ্বস্ত করা হচ্ছে। লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকার এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ইউনুস এন্ড ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড’। তাছাড়া জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পালের সভাপতিত্বে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি প্রকল্প কমিটি এ কাজের তদারকি করছেন।
স্থানীয় কৃষক মোহাম্মদ আলী বলেন, গত কয়েক বছর ধরে বোরো মৌসুমে পানির অভাবে আমরা চাষাবাদ করতে পারিনি ঠিকমতো। তবে এবার সরকার আমাদের দিকে মুখ তুলে চেয়েছেন। এবার সেচের পানি নিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হবেনা বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রোপ্রাইটর গোলাম রাব্বানী বলেন, টেন্ডারের মাধ্যমে এ প্রকল্পের কাজটি পেয়েছি। গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে আমরা পুরোদমে কাজ শুরু করেছি। নির্ধারিত নিয়মনীতি মেনেই কাজ করা হচ্ছে। আশা করি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজটি শেষ করতে পারবো।
লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মুসা বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নের জন্য খাল পুনঃখনন প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে চাষাবাদে পানি সংকট নিরসন হবে। এ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে সম্পন্ন হবে।