বিশেষ প্রতিনিধি :
হামলা-পাল্টা হামলার জেরে লক্ষ্মীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৬ জনসহ ৭ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের মতে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে হযরত দেওয়ান শাহ (রঃ) মেলায় খেলাধূলার আয়োজনসহ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দু’পক্ষের মধ্যে পাল্টা পাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে।
আর এই ঘটনায় আহত ছাত্রলীগ কর্মী অন্তরকে বুধবার ভোরে পরিবারের স্বজনরা হাসপাতালে দেখতে যাওয়ার পথে লক্ষ্মীপুরের রতনপুরে ট্রাকের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে একই পরিবারের ৬ জনসহ ৭ জন নিহত হন। অবশ্য পুলিশ হামলার ঘটনায় একপক্ষের মামলায় শাকিল ও সাজু নামের দুইজনকে আটক করেছে। হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন- একই পরিবারের গৃহকর্তা শাহ আলম, স্ত্রী নাছিমা আক্তার, ছেলে অমিত, নাছিমার বোন রোকেয়া বেগম, দাদি শামছুন নাহার, রুবেল ও অটোরিকশাচালক নুরু। নিহতরা সবাই নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার জগদীশপুর ও চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত সাড়ে ৭টার দিকে হযরত দেওয়ান শাহ মেলায় চন্দ্রগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াজ হোসেন জয়কে একই কমিটির আহ্বায়ক কাজী বাবলু গ্রুপের নেতাকর্মীরা মারধর করে। জয় পাঁচপাড়া এলাকার সাহাবউদ্দিনের ছেলে। এ ঘটনায় রিয়াজ হোসেন জয় বাদি হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় এজাহারনামীয় ৭ জনসহ অজ্ঞাত আরো ৪/৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন, (মামলা নং-১১)। পুলিশ এ ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতা শাকিল ও সাজু নামের দুইজনকে আটক করেছেন।
এর জের ধরে মঙ্গলবার রাতে রিয়াজের অনুসারীরা বাড়ি ফেরার পথে সাধরগড় নামক এলাকায় বাবলু গ্রুপের ছাত্রলীগ কর্মী নাদিম মাহমুদ অন্তর কুপিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে। ঘটনার পর মুমূর্ষুবস্থায় তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ দিকে একই রাতে ফের রিয়াজের বাড়িতে কাজী বাবলুর সমর্থকরা হামলা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন রিয়াজ হোসেন জয়।
অপরদিকে বুধবার ভোরে আহত অন্তরকে দেখতে পালিত পিতা শাহ আলমসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা চন্দ্রগঞ্জ বাজার থেকে সিএনজি যোগে হাসপাতালে যাওয়ার পথে লক্ষ্মীপুরের রতনপুর এলাকায় পৌঁছলে বিপরীতদিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহতসহ সিএনজি অটোরিকশাটি ধুমড়ে মুছড়ে যায়। এতে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
তবে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় জড়িতরা অনেকেই ইতিমধ্যে আত্মগোপনে চলে গেছে। কিন্তু এলাকাবাসী ঘটনার আড়ালে থাকা প্রকৃত রহস্য উদঘাটনসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

লক্ষ্মীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মো. আবদুল্যাহ জানান, ট্রাক-অটোরিকশার সংঘর্ষে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে।
চন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে থানার পরিদর্শক (ওসি) মো. শাহজাহান খাঁন জানান, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
হামলা পাল্টা হামলার এ বিষয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানার এসআই মুজিবর রহমান জানান, রিয়াজের করা মামলায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে। এ মামলায় এজাহারনামীয় ৭ জনসহ ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।