নিজস্ব প্রতিবেদক :
লক্ষ্মীপুর-রায়পুর মহাসড়কের রতনপুর এলাকায় বুধবার (২৩ জানুয়ারী) ভোরে ট্রাক-সিএনজির মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় একই পরিবারের ৬ জনসহ ৭ জন নিহত হওয়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ কর্মকর্তারা।
এদিন সকালে জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট সফিউজ্জামান ভূঁইয়া, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহা. শাজাহান আলি এবং বিআরটিএ লক্ষ্মীপুর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলে যান।
দুপুরে সাংবাদিকদের আনোয়ার হোসেন জানান, ৭ জন নিহত হওয়ার খবর পেয়ে তিনিসহ প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তদন্তকালে দেখা গেছে ট্রাকের সকল কাগজপত্র থাকলেও সিএনজি চালকের কোনো কাগজপত্র ছিলনা। এমনকি দীর্ঘ দিন যাবৎ ওই চালক ট্যাক্স টোকেন ও ফিটনেস ছাড়াই মহাসড়কে সিএনজি চালাচ্ছেন। চালকের ছিলনা কোন ড্রাইভিং লাইসেন্সও। ট্রাকের নাম্বার ঢাকা মেট্রো-ট ১৪-৬৭৭৭, সিএনজি নাম্বার-লক্ষ্মীপুর থ-১১-৩০৪৪।
তবে চন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহজাহান খাঁন জানান, ট্রাক এবং সিএনজি দুটো গাড়ির চালকেরই কোনো কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রচন্ড কুয়াশার মধ্যে বেপরোয়া এবং অসাবধানতার কারণেই মূলত মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়ে ৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
এছাড়া দুর্ঘটনার কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা যায়, ট্রাক এবং সিএনজি চালকের মূলত অদক্ষতার কারণেই সিএনজি চালক ও যাত্রীরা প্রাণ হারায়।
তিনি আরও জানান, নিহতদের লাশ ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তবে ট্রাকের চালক পলাতক রয়েছে।
লক্ষ্মীপুর-ঢাকা মহাসড়কের পশ্চিম মান্দারীর রতনপুর এলাকায় ট্রাক-সিএনজি অটোরিক্সার মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের ৬ জনসহ নিহত হন ৭ জন। বুধবার ভোররাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- সিএনজি অটোরিকশার যাত্রী একই পরিবারের শাহ আলম ও তার শিশু পুত্র অমিত হোসেন, স্ত্রী সামছুন নাহার ও তার দুই মেয়ে নাছিমা আক্তার, রোকেয়া বেগম এবং মেয়ের জামাতা রুবেল হোসেন ও সিএনজি চালক নুর হোসেন।
একই পরিবারের নিহত সবাই সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জের রামকৃষ্ণপুর গ্রামের (সাদারঘর) ও সিএনজি চালক নুর হোসেন একই উপজেলার নেয়ামতপুর এলাকার বাসিন্দা।