আকাশবার্তা ডেস্ক :
পঞ্চমী তিথিতে বিদ্যাদেবী সরস্বতীর বন্দনায় মিলিত হয়েছেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। ফুল, বিল্বপত্র অর্পণ করেছেন মায়ের পাদপদ্মে।পুরোহিতের অঞ্জলি মন্ত্রের সাথে মিলিয়েছেন কণ্ঠ।
রোববার (১০ ফেব্রুয়ারি) নগরের জেএমসেন হল, চট্টগ্রাম কলেজ, মহসিন কলেজ, কমার্স কলেজ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সহ বেশ কিছু শিক্ষালয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাণী অর্চনা। পাশাপাশি তুলসীধাম, রামকৃষ্ণ মিশন, কৈবল্যধাম, চকবাজার, টেরীবাজার, হাজারী লেইন, ঘাটফরহাদবেগ, কাতালগঞ্জ, মুরাদপুর, আগ্রাবাদের মন্দির ও পূজামণ্ডপে সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অনেক গৃহস্থ বাসার মণ্ডপেও করেছেন মায়ের পূজা।
নবযুগ পঞ্জিকার তিথি অনুযায়ী, সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটের মধ্যে শেষ হয় মাতৃপূজা। এরপর পূজার্থীরা ‘নমঃ ভদ্রকাল্যৈ নমো নিত্যং সরস্বত্যৈ নমো নমঃ। বেদ বেদাঙ্গ বেদান্ত বিদ্যাস্থানেভ্য এব চ। এস সচন্দন পুষ্পবিল্ব পত্রাঞ্জলি সরস্বতৈ নমো নমঃ’ মন্ত্রে পুষ্পাঞ্জলি দেন, গ্রহণ করেন প্রসাদ। সন্ধ্যায় মণ্ডপগুলোতে ধূপ-দীপের আরতিতে হবে আরাধনা।
তুলসীধামের মোহন্ত শ্রীমৎ দেবদীপ পুরী মহারাজ বাংলানিউজকে বলেন, সরস্বতী অর্থ জ্যোতির্ময়ী। ঋষিরা দেবী সরস্বতীর কাছে ব্রহ্মবিদ্যা চেয়ে তা লাভ করেন। তাই মা ব্রহ্মবিদ্যারূপিনী নামেও পরিচিতা। ধ্যানমন্ত্রে বর্ণিত প্রতিমাকল্পে দেবী সরস্বতীকে শ্বেতবর্ণা, শ্বেতপদ্মে আসীনা, মুক্তার হারে ভূষিতা, পদ্মলোচনা ও বীণাপুস্তকধারিণী মূর্তিরূপে কল্পনা করা হয়েছে।
শাস্ত্রবিশারদ পণ্ডিত অমল চক্রবর্তী বাংলানিউজকে বলেন, সংসারে নিত্য ও অনিত্য দুটি বস্তুই বিদ্যমান। বিবেক বিচার দ্বারা নিত্য বস্তুর বিদ্যমানতা স্বীকার করে তা গ্রহণ করা শ্রেয়, অসার বা অনিত্য বস্তু সর্বতোভাবে পরিত্যাজ্য। দেবী সরস্বতীর বাহন রাজহংস জলে বিচরণ করলেও তার দেহে জল লাগে না। জল ও দুধের পার্থক্য করতে সক্ষম এই প্রাণীটি। এমন বৈশিষ্ট্য যে প্রাণীর, সেই রাজহাঁসই পারে দেবী সরস্বতীকে বহন করতে৷