অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক :
রমজান মাসকে সামনে রেখে বাজারগুলোতে আগের তুলনায় বেড়েছে পেঁপে, পেঁয়াজ, আলু ও টমেটোর দাম। পেঁপে, পেঁয়াজ, টমেটো ও আলুর দাম কেজিপ্রতি ২ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সপ্তাহ ব্যবধানে কিছুটা কমেছে সব ধরনের ডিমের দাম।
বিক্রেতাদের দাবি, গত সপ্তাহে কয়েকদিনের শিলাবৃষ্টিতে প্রচুর সবজি নষ্ট হয়েছে। তাই সরবরাহ কমায় দাম বেড়েছে। আর ক্রেতাদের অভিযোগ রমজান মাসকে সামনে রেখে কারসাজি করে পেঁপে, আলু, টমোটো, পেঁয়াজ, কাচামরিচ ও বেগুনের দাম বাড়াচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ বাজারসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি বাজার ঘুরে এমনই চিত্র দেখা গেছে।
বাজারগুলোতে দেখা যায়- আগের তুলনায় পেঁপে, পেঁয়াজ, আলু, বেগুন, টমেটো ও কাচামরিচসহ বিভিন্ন প্রকারের সবজির দাম বেড়েছে। তবে মাছ-মাংসের দাম আগের মতোই রয়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে কিছুটা কমেছে ডিমের দাম। এছাড়া ব্রয়লার মুরগীর দাম শবে বরাতের সময় বৃদ্ধি পেলেও এখন কিছুটা দাম কমেছে। আগে প্রতিকেজি ১৫০ টাকা থেকে দাম কমে এখন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা। বিক্রেতারা বলছেন, রমজানের আগে আবারও দাম বাড়তে পারে। তবে দেশি মুরগীর দাম এখনও নাগালের বাইরে বলে ক্রেতারা জানান।
দীর্ঘ দিন ধরে অপরিবর্তিত থাকা মুদি পণ্যের মধ্যে গত সপ্তাহে বেড়েছে চিনির দাম। প্রতিকেজি চিনি দাম ২ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৪ টাকায়। তবে সবজি, মাছ ও মাংসের চড়া দামে অস্বস্তিতে রয়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষেরা।

বাজারে মানভেদে দেশি পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩৪ টাকা এবং আমদানিকৃত পেঁয়াজ ১৬ থেকে ১৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে । গত সপ্তাহে যা ২ থেকে ৫ টাকা কম ছিল। আর প্রতিকেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ১৮ থেকে ২০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিলো ১৫ টাকা। অর্থাৎ খুচরা বাজারে আলুর দাম কেজিতে বেড়েছে ৫ টাকা পর্যন্ত। আর বাজার ও মানভেদে কাঁচা পেঁপে কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকায়। যা গত সপ্তাহে ছিলো ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। সে হিসাবে কেজিপ্রতি পেঁপের দাম বেড়েছে সর্বোচ্চ ১০ টাকা।
সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানিয়েছেন, রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে ও চাঁদাবাজি বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোনো অযুহাতেই রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে দেওয়া হবে না। বাজার মনিটরিং চলছে। এছাড়া সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে চিঠি দেওয়া হবে। বাজারে চাহিদার তুলনার অনেক বেশি পণ্য মজুত রয়েছে।
এছাড়া গত সপ্তাহের মতো সব থেকে কম দামে বিক্রি হচ্ছে তেলাপিয়া মাছ, দাম ১৬০ থেকে ২০০ টাকা কেজি। পাঙ্গাস মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি, রুই ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি, পাবদা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি, টেংরা কেজি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, শিং ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি, বোয়াল ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি, চিতল ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।