বুধবার ২৫শে মার্চ, ২০২৬ ইং ১১ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাষ্ট্রহীন হলো আসামের ১৯ লাখ মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ভারতের বাংলাদেশ লাগোয়া রাজ্য আসামের চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা (এনআরসি) প্রকাশিত হয়েছে। প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ আবেদনকারীর মধ্যে তালিকায় স্থান পেয়েছেন ৩ কোটি ১১ লাখ নাগরিক। অর্থাৎ নাগরিকত্বের তালিকা থেকে ১৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫৭ জন বাঙালিকে বাদ দেয়া হয়েছে। ফলে এসব নাগরিক রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়েছেন। তারা আগামী ১২০ দিনের মধ্যে আপিলের সুযোগ পাবেন।

জম্মু ও কাশ্মীরের কয়েক দশকের পুরনো স্বায়ত্তশাসন বাতিল করার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরেই এই এনআরসি তালিকা প্রকাশ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বিতীয় মেয়াদের অন্যতম বৃহত্তম পদক্ষেপ হিসাবে মনে করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এই রাজ্য জুড়ে কয়েক হাজার আধাসামরিক বাহিনী এবং পুলিশ মোতায়েন করে অাসামের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কেন্দ্র অবশ্য বলেছে যে যাঁদের নাম চূড়ান্ত নাগরিক তালিকায় স্থান পাবে না সমস্ত আইনি বিকল্প শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের এখনই বিদেশি ঘোষণা করা যাবে না।

শনিবার (৩১ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকাল ১০ টায় অনলাইনে ও এনআরসি সেবাকেন্দ্রে এই তালিকা দেয়া হয়। যাদের ইন্টারনেট সংযোগ নেই, তারা সরকার পরিচালিত সেবাকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের অবস্থা দেখতে পারছেন বলে আনন্দবাজার জানিয়েছে। তালিকায় নাম না থাকলেই নাগরিকত্ব বাতিল কিংবা বন্দিশিবিরে নেয়া হবে না বলে ইতোমধ্যে জানিয়েছে আসাম রাজ্য সরকার।

তালিকায় যাদের নাম নেই, তাদের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে বলা হয়েছে ১২০ দিনের মধ্যে। এই বিষয়ে শুনানির জন্য রাজ্যজুড়ে ১ হাজার ট্রাইব্যুনাল গড়ে তোলা হবে বলে জানানো হয়েছে।

ইতোমধ্যেই ১০০ ট্রাইব্যুনাল খোলা হয়েছে। আরও ২০০টি ট্রাইব্যুনাল সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই খোলার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনালে মামলায় হেরে গেলে হাই কোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সুযোগও রয়েছে।

তালিকায় নাম না থাকা আসামে বসবাসরতদের জন্য কি ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে তা নিয়ে তৈরি হয়েছে উৎকণ্ঠা। তবে আসামের পুলিশ বিবৃতি সবাইকে অনুরোধ করেছে যেকোনো ধরনের সহিংসতা ও গুজব থেকে দূরে থাকার জন্য।

১৯৫১ সালের পর পরিচালিত প্রথম আদম শুমারির মধ্য দিয়ে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে প্রথম ধাপে ১ কোটি ৯০ লাখ অধিবাসীকে নাগরিক তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছিল। দ্বিতীয় দফায় ২০১৮ সালের জুনে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা ৩ কোটি ২৯ লাখ অধিবাসীর মধ্যে ২ কোটি ৮৯ লাখকে সংশোধিত নাগরিকত্ব তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়।

রয়টার্স নিবন্ধন-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে সে সময় জানিয়েছিল, রাজ্যের ৪০ লাখ, ৭ হাজার ৭০৭ মানুষ তালিকায় স্থান পায়নি। এদের অধিকাংশই বাংলা ভাষাভাষী কিংবা মুসলমান ধর্মাবলম্বী। এ বছর জুনে তালিকায় আরেক দফা সংশোধনী আনা হয়। ২০১৮ সালে সংশোধিত তালিকায় স্থান পাওয়াদের মধ্যে থেকে ১ লাখেরও বেশি মানুষকে বহিষ্কার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়।

উল্লেখ্য, মুসলিম জনসংখ্যার দিক থেকে আসামের অবস্থান ভারতে দ্বিতীয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ২০১৬ সালে আসামে সরকার গঠন করে।

বিজেপি সরকার আসার পরেই বাংলাদেশি শরণার্থী উৎখাতে উদ্যোগী হয় আসাম সরকার। কে বাংলাদেশ থেকে এসেছে আর কে অসমের বাসিন্দা এই নিয়ে চলছে টানাপড়েন।

অনুপ্রবেশকারীরা স্থানীয় হিন্দুদের কর্মসংস্থান নষ্ট করছে দাবি করে ‘অবৈধ’ মুসলিমদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার শপথ নিয়েছিল তারা। এরই ধারাবাহিকতায় একটি আদমশুমারি চালানো হয়, যার মধ্য দিয়ে নাগরিক তালিকা চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১