সোমবার ১৬ই মার্চ, ২০২৬ ইং ২রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শোভন-রাব্বানী আউট

আকাশবার্তা ডেস্ক :

নাহিয়ান খান জয় ও লেখক ভট্টাচার্যকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ :

অবশেষে নানা বিতর্ক, সমালোচনা আর অভিযোগের মুখে থাকা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন সংগঠনের অভিভাবক ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে সংগঠনের প্রথম সহ-সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রথম যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

গতকাল আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে ছাত্রলীগের নেতৃত্বের বিষয়টি আলোচনায় উঠলে সাংগঠনিক অভিভাবক শেখ হাসিনা এই সিদ্ধান্ত দেন। বৈঠক সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি সূত্র আমার সংবাদকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এদিকে, আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিভিন্ন ইউনিটের কমিটি গঠন ও ভেঙে দেয়ার অভিযোগে এবার নিজ সংগঠনের কর্মীদের তোপের মুখে পড়েছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। একই সাথে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উন্নয়ন প্রকল্প থেকে চাঁদা দাবি নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে। আর এই চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে ত্রিমুখী অবস্থানে রয়েছে জাবি উপাচার্য, শাখা ছাত্রলীগ এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। তিনটি পক্ষই নিজেদের নির্দোষ দাবি করছে। শোভন-রাব্বানীর বিরুদ্ধে দুপুর পর্যন্ত ঘুমানো, দলের সিনিয়র নেতাদের অবজ্ঞা করা, নেশা করা, অর্থের বিনিময়ে বিতর্কিত এবং জামায়াত সংশ্লিষ্টদের দলে ভেড়ানো, নিজ দলের কর্মীদের অবমূল্যায়ন করার অভিযোগ বেশ পুরনো হলেও কমিটি গঠন এবং ভাঙার জন্য আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ নতুন করে আসতে শুরু করেছে।

তাদের দাপটে এ বিষয়ে এতদিন কেউ কথা না বললেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্যের কাছে চাঁদা দাবির বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায় থেকে শোভন-রাব্বানীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আসতে শুরু করেছে। ছাত্রলীগের একটি বিশ্বস্ত সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

চলমান উন্নয়ন প্রকল্প থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শাখা ছাত্রলীগকে এক কোটি ৬০ লাখ টাকা দিয়েছে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর এমন বক্তব্যের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মাঝে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। রাব্বানীর এই বক্তব্য অস্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছে জাবি ছাত্রলীগ।

জানা যায়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠে ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদকের বিরুদ্ধে। তাদের বরাদ্দের চার থেকে ছয় শতাংশ দিতে হবে এমন অভিযোগ তোলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফারজানা ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। এরপর শোভন-রাব্বানীর এই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জন্য ক্ষুব্ধ হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এমন পরিস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী বরাবর লেখা একটি চিঠিতে রাব্বানী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নীতির প্রসঙ্গ টানেন।

চিঠির শেষাংশে রাব্বানী উল্লেখ করেন, জাবি প্রশাসন (বিশ্ববিদ্যালয়) শাখা ছাত্রলীগকে এক কোটি ৬০ লাখ টাকা দিয়েছে। রাব্বানীর এমন চিঠির পরই ক্ষুব্ধ হন শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। শাখা উপদপ্তর সম্পাদক এম মাইনুল হোসাইন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে জাবি ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে উন্নয়ন প্রকল্প থেকে টাকা নেয়ার বিষয়ে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের অভিযোগকে মিথ্যাচার উল্লেখ করে এর প্রতিবাদ জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে এই বক্তব্যকে ‘সম্পূর্ণ অসত্য’ দাবি করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পকে ঘিরে জাবি ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনে জড়িত থাকার যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা অসত্য ও মিথ্যা। দাবি করা হয়- গত ৮ আগস্ট উপাচার্যের বাসভবনের কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সঙ্গে একটি বৈঠকের কথা বলা হয়। কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী আদেশে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়। কিন্তু এই বৈঠকের আলোচ্যসূচি ও আলোচনা সম্পর্কে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদক অবগত ছিলেন না।

দুর্নীতির প্রশ্নে শাখা ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে চ্যালেঞ্জ করছে কি না জানতে চাইলে সভাপতি জুয়েল রানা বলেন, আমরা কাউকে চ্যালেঞ্জ করছি না। রাব্বানী হয়তো না জেনে এই তথ্য দিয়েছেন। অভিযোগবিদ্ধ হয়ে আলোচনার মধ্যে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদিন রাসেল। সংঘর্ষের জের ধরে কমিটি বিলুপ্তের প্রায় সাত মাস পর শেখ রাসেল কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাব্বানীর বিরুদ্ধে অর্থ দাবির অভিযোগ তুলেছেন।

জানা যায়, গত ৩ ফেব্রুয়ারি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি তরিকুল ইসলাম ও সম্পাদক শেখ রাসেলের সমর্থকদের সংঘর্ষের পর ওইদিনই কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করেছিল কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বিলুপ্ত করা হয় এ কমিটি। এরপর গত শুক্রবার কমিটি বাতিলের বিষয় নিয়ে শেখ রাসেল তার ফেসবুক ওয়ালে একটি পোস্টে লিখেছেন, ওই কমিটি টিকিয়ে রাখার বিনিময়ে তার কাছে অর্থ চেয়েছিলেন রাব্বানী।

শেখ জয়নুল আবেদিন রাসেল বলেন, সংঘর্ষের পর সভাপতি তরিকুল ইসলাম ও তিনি কমিটির স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করতে রাব্বানীকে অনুরোধ করেছিলেন। তখন তিনি (রাব্বানী) বলছিলেন, এর আগে সোহাগ ভাই-নাজমুল ভাই ছিলো, তাদের বিভিন্নভাবে সুবিধা দিত শরীফ-সিরাজ (জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি-সম্পাদক)। তোরা তো আমাকে কিছু দিস না। তোরা মাসে কত দিতে পারবি বল, তাহলে দেখি কমিটি ঠিক করা যায় কিভাবে। কেরানীগঞ্জে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস স্থাপন প্রকল্প নিয়েও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ কমিটির নেতারা নাখোশ ছিলেন বলে দাবি করেছেন রাসেল। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প আছে, তারা যখন দেখছে আমরা তাদের মতো চলছি না; তখন তারা বুঝছে আমরা থাকলে প্রকল্প থেকে ওরা কিছু পাবে না।

তবে এই বিষয়টি মানতে নারাজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। তিনি বলেন, এখানে জগন্নাথের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কমিটি বাঁচানোর বিষয়ে কথা বলার প্রশ্নই উঠে না। অনেক তদবির করে কমিটি টিকিয়ে না রাখতে পেরে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা তো কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নিয়ে সব সময়ই ফেসবুকে নানা বিরূপ মন্তব্য করে যাচ্ছে। এখন ছাত্রলীগের অদৃশ্য সিন্ডিকেটের পরামর্শে নতুন অভিযোগ দাঁড় করিয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, যার কোনো ভিত্তি নেই।

শোভন-রাব্বানী কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি-সম্পাদকের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত জেলা সমমর্যাদার দুটি কমিটি ঘোষণা করেছে। এর একটি কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটি। গত ১৩ জুলাই কমিটি ঘোষণা করেন তারা। তবে কমিটি ঘোষণা করার পর থেকেই অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে সভাপতি-সম্পাদকের বিরুদ্ধে। সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলামের সঙ্গে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির কথোপকথনের ফাঁস হওয়া একটি অডিওতে তার সত্যতাও পাওয়া যায়। প্রায় পাঁচ মিনিটের ফাঁস হওয়া অডিওতে নেতা হওয়ার জন্য টাকার দেনদরবার, কমিটি ভাঙা ও নতুন কমিটি আনাসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। তবে অডিওর বিষয়টি অস্বীকার করে রাকিবুল ইসলাম দাবি করেন, ওই কণ্ঠ আমার নয়। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি।

ছাত্রলীগের একটি সূত্র বলছে, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটি ঘোষণার সময় আওয়ামী লীগের এক শীর্ষস্থানীয় নেতা তার পছন্দের ব্যক্তিকে শীর্ষ দুটি পদের একটি দিতে ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বলেছিলেন। কিন্তু তারা তা না করে অর্থের বিনিময়ে বর্তমান নেতৃত্বকে নিয়ে আসেন। ইবি শাখার সাধারণ সম্পাদকের এ সংক্রান্ত একটি ফোনালাপ প্রকাশ হয়। ওই ফোলালাপে জানা যায়, ৪০ লাখ টাকায় নেতা হয়েছেন তিনি। আর ওই টাকা নিয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।

এদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে তা নিয়ে ত্রিমুখী অবস্থনে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য, শাখা ছাত্রলীগ এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। তিনটি পক্ষই নিজেদের নির্দোষ দাবি করছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ বলছে, শাখা ছাত্রলীগকে দেড় কোটি টাকা দিয়েছে উপাচার্য। বিষয়টি অস্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছে শাখা ছাত্রলীগ। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী নিজেকে নির্দোষ দাবি করে প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠি লিখেছেন। ওই চিঠিতে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে উপাচার্যের বিরুদ্ধে শাখা ছাত্রলীগকে টাকা দেয়ার অভিযোগ করেন। তবে বিষয়টি অস্বীকার করে চিঠিতে ছাত্রলীগ মিথ্যা গল্প ছুড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম। তিনি ছাত্রলীগকে চ্যালেঞ্জও করেছেন। গতকাল শনিবার নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তিনি।

উপাচার্য বলেন, ছাত্রলীগ মিথ্যা গল্প ছুড়েছে। আমি তাদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলাম। এ বিষয়ে আমি তদন্ত করতে বলব বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে ও উপাচার্যকে। আমি যাব তাদের কাছে। এতে আমার কোনো সমস্যা নেই।জাবির উন্নয়ন প্রকল্পের প্রথম ধাপের ৪৫০ কোটি টাকার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের মধ্যে দুই কোটি টাকা ভাগাভাগি করে দেয়া হয় বলে সমপ্রতি সংবাদ প্রকাশ করা হয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে।

প্রসঙ্গটি টেনে অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন, অর্থ লেনদেনের বিষয়টি সম্পূর্ণ বানোয়াট একটি গল্প। টাকা-পয়সা নিয়ে তাদের সাথে আমার কোনো কথা হয়নি। তারা তাদের মতো করে কাজ করে। তারা কার কাছে কমিশন পায় বা না পায় তা আমি জানি না।

অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে তারা (ছাত্রলীগের দুই নেতা) আমাকে ইঙ্গিত দিলে আমি বলি, তোমরা টাকা-পয়সা নিয়ে কোনো আলাপ আমার সাথে করবে না। তোমরা যা চাও তা তোমাদের মতো কর। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীও জানেন। তিনি আরও বলেন, তাদের (ছাত্রলীগ) মূল উদ্দেশ্য ছিল যে তারা ঠিকাদারের কাছ থেকে কিছু শতাংশ হিসেবে নেবে। তারা এ বিষয়ে আমাকে ইঙ্গিত দিয়েছে। কিন্তু আমার কাছে এসে তারা হতাশ হয়েছে। তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে যে খোলা চিঠি লিখেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক কেন মিথ্যা কথা বলবেন- এমন প্রশ্নে উপাচার্য বলেন, আমি দুর্ভাগ্যক্রমে শেষ তীর ছিলাম। এটা হয়তো আমার দিক থেকেই গেল। তার পটভূমি পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে। কি-না করেছে সে, শুধু যে এ গল্প তা কিন্তু না। ঢাবি, ইবি, জবির এই পটভূমিতে যেন তার প্রিয় ছাত্রলীগের পচন না ধরে সে জন্য প্রধানমন্ত্রী তদন্ত শুরু করেছিলেন। কিন্তু শেষমেশ হয়তো আমারটা দিয়ে শেষ হয়ে গেল। তারা এ পটভূমি করেছে এ থেকে বাঁচতে। তাই ক্যাম্পাসের আন্দোলনের সাথে এ বিষয়টিও জড়িয়ে দিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে আন্দোলনের মাধ্যমে কিছু মানুষ আমাকে দুর্নীতিবাজ বানাতে চাচ্ছে। তাই আমি চাই দুর্নীতি যেই করুক তার তদন্ত হোক। যে বা যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান নষ্ট করেছে তার তদন্ত হোক। হয়তো আমাকে বের করতে গিয়ে অন্যকিছু বেরিয়ে আসবে।

তথ্যমতে, দুই সদস্য কমিটি ঘোষণার প্রায় এক বছরের মাথায় গত মে মাসের ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেন ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই শুরু হয় কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদবঞ্চিত নেতাদের আন্দোলন। কমিটিতে স্থান পাওয়া শতাধিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে যোগ্যদের বাদ দিয়ে মাদকসেবী, মাদক ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, শিবির ও ছাত্রদলের নেতাদের কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে বলে শোভন-রাব্বানীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন পদবঞ্চিতরা। যা নিয়ে দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছেন তারা। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন বিতর্কে জড়ান সংগঠনটির দুই শীর্ষ নেতা।
বিভিন্ন সময় উঠে আসা নানা বিতর্ক আর সমালোচনার মুখে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন সংগঠনের অভিভাবক ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে সংগঠনের প্রথম সহ-সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়, ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রথম যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১১-১২ মে ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের আড়াই মাস পর (৩১ জুলাই) সভাপতির পদে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক পদে গোলাম রাব্বানীর নাম ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ শাখার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১