প্রতিনিধি, কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) :
হঠাৎ করে প্রবল জোয়ারের পানির চাপে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার মেঘনা নদীতে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে তীব্র স্রোতের মুখে চোখের পলকেই নদী গর্ভে চলে গেছে লুধুয়া ফলকন এলাকায় বালুভর্তি জিও ব্যাগের নির্মাণাধীন ৪০০ মিটার বাঁধের প্রায় ৩শ’ মিটার।
বিলীন হওয়ার পথে নদী তীরবর্তী একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দু’টি দ্বিতল ভবন, পাকা মসজিদ ও একটি কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবন। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ভাঙনকবলিত এলাকার লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
খবর পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফেনী সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শাহজাহান, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মুছা ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।
জানা গেছে, প্রায় দেড়শ’ বছরের পুরোনো ওই এলাকাসহ স্থানীয় স্থাপনা সমূহ রক্ষায় জুলাই মাসে পানি উন্নয়ন বোর্ড আপদকালীন একটি প্রকল্প হাতে নেয়। প্রায় চার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রকল্পটির আওতায় সেখানকার ৪শ’ মিটার এলাকায় বাঁধ নির্মাণের জন্য বালুভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে। কাজটি শুরু হওয়ার পর এলাকাবাসী নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। কিন্তু গত দুইদিনের মেঘনার ভাঙনের তীব্রতা এলাকাবাসীর সেই স্বপ্ন কেড়ে নিতে শুরু করেছে।

স্থানীয়রা জানান, গত বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে মেঘনার ভয়াবহ ভাঙন শুরু হলে নির্মাণাধীন ৪শ’ মিটারের বাঁধটির প্রায় ৩শ’ মিটার ধসে পড়ে। চোখের পলকেই বালুভর্তি জিও ও টিউব ব্যাগগুলো নদীতে তলিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে স্কুল, মসজিদ ও কমিউনিটি ক্লিনিকের মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে এ ভবনগুলো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাঁধ তীরবর্তী এলাকা ছাড়াও চরফলকন ইউনিয়নের ৭ নম্বর পাটারীরহাট ইউনিয়নের ২, ৭ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় মেঘনার তীব্র ভাঙন চলছে। গত দুই সপ্তাহে ওইসব এলাকার বেশ কয়েকটি বসতবাড়িসহ বির্স্তীণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
স্থানীয় সাংসদের প্রতিনিধি হিসেবে আপদকালীন জিও ব্যাগের বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ দেখভালের দায়িত্বে থাকা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম নুরুল আমিন মাস্টার জানান, প্রকল্পটির আওতায় জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে। স্কুল-মসজিদ ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো রক্ষায় প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আবদুল মান্নান জানান, ভবনগুলো রক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। ইতোমধ্যে সেখানে আরও ১৫ হাজার জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের অনুমতি নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।