সোমবার ১৬ই মার্চ, ২০২৬ ইং ২রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যুবলীগের শীর্ষ দুই পদ : তদবির চালাচ্ছেন যারা

আকাশবার্তা ডেস্ক :

যুবলীগসহ আওয়ামী লীগের চার সংগঠনের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে আরো আগে। চারটি সংগঠনের মধ্যে রয়েছে তিনটি সহযোগী সংগঠন ও একটি ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন। গত বুধবার (৯ অক্টোবর) আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, আগামী ২ নভেম্বর কৃষক লীগ, ৯ নভেম্বর শ্রমিক লীগ, ১৬ নভেম্বর স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ২৩ নভেম্বর যুবলীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা হলে প্রতিবারই উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করে সারাদেশের যুবলীগ নেতাকর্মীদের মাঝে। কিন্তু এবার প্রেক্ষাপট পুরোপুরি ভিন্ন।

শুদ্ধি অভিযানের মতো বড় ধাক্কার পর অনেকটা চুপচাপই রয়েছেন তারা। ক্যাসিনো, মাদক ও টেন্ডারের সঙ্গে সম্পৃক্ততায় কারো কারো নাম আসায় গাঁ ঢাকাও দিয়েছেন অনেকেই।

তবে কারা আসছেন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের নেতৃত্বে? জানার কৌতূহল সবারই।

যুবলীগের সাবেক নেতাদের চাওয়া- তরুণ, যুববান্ধব ও সৎ নেতৃত্ব। আর বর্তমানরা চান, ছাত্র ও যুবরাজনীতির অভিজ্ঞতাসমৃদ্ধ কর্মিবান্ধব, গতিশীল ও সহজপ্রাপ্য কাউকে।

এদিকে এরইমধ্যে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন সংগঠনের শীর্ষ দুটি পদের প্রত্যাশীরা। যদিও তাদের অনেকেই প্রকাশ্যে নিজ নিজ প্রার্থিতার বিষয়ে এখনই ঘোষণা দিচ্ছেন না। অনেকটা চুপচাপই রয়েছেন তারা।

তবে শোনা যাচ্ছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকেই বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ ও ধানমন্ডির দলীয় কার্যালয়ে নিয়মিত যাওয়া-আসা করছেন। যোগাযোগ বাড়িয়েছেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে।

তবে এও জানা গেছে, এবার সরাসরি নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই তিনি নিজেই বিভিন্ন মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। এবার সংগঠনে স্থান পাবেন পরিচ্ছন্ন ইমেজ, দক্ষ সংগঠক, ত্যাগী নেতারা। এ ছাড়া ছাত্রলীগের ব্যাকগ্রাউন্ড আছে এরকম দেখে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের সম্পর্কে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ইতোমধ্যেই খোঁজ-খবর নেয়া শুরু করেছে।

২৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত সম্মেলনে চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক পদে অনেকেই আলোচনায় আছেন। তাদের মধ্যে যুবলীগের চেয়ারম্যান পদে যাদের নাম আলোচনার শীর্ষে, তারা হলেন- সংসদের চীফ হুইপ নূরে আলম চৌধুরী লিটন, যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে ব্যারিষ্টার শেখ ফজলে নুর তাপস এমপি, এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট শেখ ফজলে ফাহিম ও তার ভাই শেখ নাঈম।

এছাড়াও পরিবারের বাইরে যুবলীগের রাজনীতিতে এক সময়ের সফল সাধারণ সম্পাদক মির্জা আজম এমপি ছাড়াও মুজিবর রহমান চৌধুরী,অ্যাডভোকেট বেলাল হোসেন,আতাউর রহমানের নাম জোরেশোরে আলোচনা হচ্ছে। এখন দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত কে হন?

এদিকে যুবলীগের শীর্ষ দুই পদের জন্য (উত্তর, দক্ষিণ) তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন অনেকেই। শোনা যাচ্ছে, যুবলীগের শীর্ষ দুই পদের একটি পেতে প্রেসিডিয়াম সদস্য আতাউর রহমান আতা, মো. ফারুক হোসেন, আবদুস সাত্তার মাসুদ, অ্যাডভোকেট বেলাল হোসাইন, ইঞ্জিনিয়ার নিখিলগুহ প্রমুখ সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বেশ সময় দিচ্ছেন।

আর সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্যে আলোচনায় আছেন- ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বাহাদুর বেপারি, লিয়াকত শিকদার, মাহমুদ হাসান রিপন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু, মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন। এ ছাড়া জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ও সংসদ সদস্য মাশরাফী বিন মর্তুজার নামও আলোচনায় আছে।

দুজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকও শীর্ষ দুই পদের একটি পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা হলেন মহিউদ্দীন আহমেদ মহি ও সুব্রত পাল। এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদকদের মধ্যেও বেশ কয়েকজন সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য ভেতরে ভেতরে লবিং করে যাচ্ছেন।

তবে এবারের কংগ্রেসে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কথাই হবে ফাইনাল কথা। তিনি নিজেই যুবলীগকে ঢেলে সাজাবেন বলে একাধিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১