সোমবার ১৬ই মার্চ, ২০২৬ ইং ২রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সেই সুলতানের বাসায় যা মিললো

আকাশবার্তা ডেস্ক :

ডিএনসিসির কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান। এই পরিচয় ছাড়াও সকলেই তাকে সুলতান নামেই জানতেন-চিনতেন। কারণ তার চলন, বলন ছিল ঠিক তেমনই। তবে সেই সুলতান এখন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে।

সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অবৈধ জমি দখলের অভিযোগে শনিবার (১৯ অক্টোবর) রাতে তাকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। এরপর তার দুই বাসায় অভিযান চালিয়ে কোটি টাকার চেকসহ অস্ত্র উদ্ধার করেছে এই বাহিনী।

জানা যায়, রোববার ভোর পর্যন্ত রাজধানীর বসুন্ধরা ও মোহাম্মদপুরের অবস্থিত তার দুই বাসায় এই অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব। এ সময় তার বাসা থেকে বহু অবৈধ সম্পত্তির কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে বলে জানা যায়।

র‌্যাব সূত্র জানায়, রাজীবের মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে ৫ কোটি টাকার বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই জব্দ করা হয়েছে। একইসঙ্গে জমিজমার বিভিন্ন কাগজপত্রও জব্দ করা হয়েছে। একই সময় আলামত ধ্বংস এবং কাজে অসহযোগিতার কারণে রাজীবের সহযোগী (পিও) সাদেককে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

র‌্যাব জানায়, শনিবার দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে কাউন্সিলর রাজীবকে নিয়ে মোহাম্মদপুরে তার নিজ বাসায় অভিযান শুরু করে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। ভোর চারটার দিকে বাসায় মোটামুটি অভিযান শেষ করে রাজীবকে নিয়ে তার অফিসে অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে র‌্যাব-২ ছাড়াও র‌্যাব-১ এবং র‌্যাব সদর দপ্তরের একাধিক টিম কাজ করছে। এদিকে রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে রাজীবকে গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগজিন, ৭ বোতল বিদেশি মদ, একটি পাসপোর্ট ও ৩৩ হাজার নগদ টাকা জব্দ করা হয়।

মূলত ২০১৫ সালে সুলতান তারেকুজ্জামান রাজিব কাউন্সিলর হওয়ার পরপরই বদলে যায় তার জীবন। চালচলনে আসে ব্যাপক পরিবর্তন। হঠাৎ কেউ দেখলে মনে হবে মধ্যপ্রাচ্যে কোনো রাজা, বাদশাহ বা সুলতান।

কোথাও গেলে সঙ্গে থাকতো একাধিক গাড়ি আর মোটরবাইকের বহর। রাস্তা বন্ধ করে চলে এসব গাড়ি। রোদে গেলে আশেপাশের কেউ ধরে রাখতো ছাতা। সঙ্গে ক্যাডার বাহিনী তো আছেই। মাত্র চার বছরে মালিক বনে গেছেন অঢেল সম্পত্তি, গাড়ি আর বাড়ির। ইচ্ছে হলেই তিনি বদলাতেন গাড়ি। রয়েছে মোটা অঙ্কের ব্যাংক ব্যালেন্স।

এমনকি কাউন্সিলর হয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও তিনি দিয়েছেন বাড়ি-গাড়ি। এই কাউন্সিলর নিজের এলাকায় গড়ে তুলেছিলেন রাজত্ব। চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, টেন্ডারবাজি, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ আর মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত করেছেন তার সাম্রাজ্য।

মোহাম্মদপুরের বসিলা, ওয়াশপুর, কাটাসুর, গ্রাফিক্স আর্টস ও শারীরিক শিক্ষা কলেজ, মোহাম্মদিয়া হাউজিং সোসাইটি এবং বাঁশবাড়ী এলাকায় তৈরি করেছেন একক আধিপত্য। ২০১৫ সালের কাউন্সিলর নির্বাচনে তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী। বিভিন্ন কারসাজি করে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতা ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ বজলুর রহমানকে হারান।

অভিযোগ রয়েছে, এরপর থেকেই নিজ এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করছেন না তিনি। মোহাম্মদপুর এলাকায় যুবলীগের রাজনীতি দিয়েই শুরু হয় রাজীবের রাজনৈতিক জীবন। চালাক চতুর রাজীব অল্পদিনেই নেতাদের সান্নিধ্যে এসে মোহাম্মদপুর থানা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক পদ বাগিয়ে নেন। এই পদ পেয়েই থানা আওয়ামী লীগের এক নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধাকে প্রকাশ্যে জুতা পিটাসহ লাঞ্ছিত করেন। সে সময় যুবলীগ থেকে তাকে বহিষ্কারও করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, তারেকুজ্জামান রাজীব মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বহিষ্কারাদেশ বাতিল করে উল্টো ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বনে যান। কেন্দ্রীয় যুবলীগের আলোচিত দপ্তর সম্পাদক আনিসুর রহমানকে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা দিয়ে এ পদ কেনেন রাজীব। যুবলীগের সাইনবোর্ড আর কাউন্সিলরের পদটি ব্যবহার করে এলাকায় সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসা, ডিশ ব্যবসাসহ নানা মাধ্যমে হয়ে তিনি উঠেন আরো দুধর্ষ।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১