সোমবার ১৬ই মার্চ, ২০২৬ ইং ২রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দলের কাছে সবাই চায় আন্দোলন

আকাশবার্তা ডেস্ক :

খালেদা জিয়ার অসুস্থতার খবরে বিএনপির তৃণমূল, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, ভাইস চেয়ারম্যান, যুবদল, নির্বাহী কমিটি, মহিলাদলসহ শীর্ষ নেতারা কর্মসূচি নেয়ার সিদ্ধান্ত রাখা নেতাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছেন। স্থায়ী কমিটির শীর্ষ নেতারাও দাবি করছেন, আইনি প্রক্রিয়া কিংবা কোনো সমঝোতায় খালেদা জিয়ার মুক্তি আসবে না, খালেদা জিয়ার মুক্তি আসবে রাজপথে।

এরপরও কেন কর্মসূচি দেয়া হচ্ছে না এ জন্য দলে-জোটের নেতারাও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছেন। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের ভাষ্য— খালেদা জিয়া কারাগার থেকে তাকিয়ে আছেন, কখন নেতারা রাস্তায় নেমে ভূমিকা পালন করবে। শুধু শীর্ষরা নয়, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য বিএনপির সব সেক্টরের নেতাই এখন আন্দোলন চাচ্ছেন।

অনেকে দাবি করছেন, খালেদা জিয়ার কিছু হলে বিএনপির রাজনৈতিক নেতারা সরকারকে নয় প্রথমে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মাজায় লাথি দেবে। খালেদার অঘটন ঘটলে বিএনপির নীতিনির্ধারকদের পতনের দাবি উঠবে স্বয়ং নিজ দল থেকে। এছাড়া সমপ্রতি যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দলের এক স্থায়ী কমিটির সদস্য খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গে দলের ভেতরে গৃহবিবাদে জড়ানোরও ইঙ্গিত দিয়েছেন।

খালেদা জিয়ার আটকের ২০ মাস পর সবার মুখ থেকেই দাবি উঠছে— দীর্ঘ এই সময়ে খালেদা জিয়ার মুক্তিতে ভূমিকা পালন করতে বিএনপি ব্যর্থ হয়েছে। রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করে, উত্তপ্ত করে নেত্রীর মুক্তিতে সরকারকে বাধ্য করতে পারেনি দলটি। দলের অঙ্গ সংগঠনের নেতারা শীর্ষ নেতাদের কাছে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য নির্দিষ্ট কর্মসূচি দাবি করছেন, তারা রাজপথে নামতে প্রস্তুত বলেও হাইকমান্ডকে জানাচ্ছেন।

জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক, সুলতানা আহমেদ বলেন, খালেদা জিয়ার কিছু হলে এর দায়ভার সরকারকে বহন করতে হবে। খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দিলে কঠিন আন্দোলন হবে, এমন বক্তব্য আর কতদিন…? তিনি আরো বলেন, কিছু হয়ে যাওয়ার আগে আপনারা কিছু করছেন না কেন? কোটি তৃণমূলের প্রশ্ন! আমার ব্যক্তিগত মত, আমি বিশ্বাস করি, শুধু আপনারা যারা হাইকমান্ডের দায়িত্বে আছেন তারা এককাতারে দাঁড়িয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান দেন, আপনাদের পেছনে আরও কয়েক কোটি স্বাধীনতাকামী জনতা স্লোগান দেবে। আপনারা সবাই ঐক্যবদ্ধ হোন সরকার পতনে, বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে এক সপ্তাহের বেশি সময় লাগবে না। বেগম জিয়ার কিছু হলে আগে সরকার নয়, প্রথমে আপনাদের মাজায় লাথি দেবে তৃণমূল, কাজেই মাজায় লাথি নয়, সম্মান নেয়ার ব্যবস্থা করুন।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য বিএনপি এখনো দৃশ্যমান কোনো আন্দোলন করতে পারেনি এটা আমাদের ব্যর্থতা। এটা এই দলের ব্যর্থতা। তাই আমাদের এখনই প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। আগামী ’২০ সালের আগে খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে বের করতে হবে।

যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, আপনারা (বিএনপির নীতিনির্ধারক) আন্দোলনের ঘোষণা দিন, আমরা রাজপথে থাকবো। সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করবো। ম্যাডাম খালেদা জিয়া কারাগারে, কিন্তু আমরা আন্দোলন করতে পারেনি। জেল থেকে খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তি চান না। আন্দোলনের মাধ্যমে ম্যাডাম মুক্ত করতে হবে। আমরা নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকবো।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, এই সরকার দুর্নীতি, লুট, গুমসহ কোনো কুকর্মই বাদ দেয়নি। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরোধী দল থেকে যে ধরনের নেতৃত্ব আসার কথা ছিলো, তা আসেনি। রাজপথ উত্তপ্ত করে সরকারকে বাধ্য করতে পারিনি। খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য রাজনৈতিক ভূমিকা সঠিকভাবে পালন হয়নি। আমাদের চেয়ারপারসন মিথ্যা মামলায় কারাগারে, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনকে মিথ্যা মামলা দিয়ে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। তাই অনেক ক্ষেত্রে আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, আন্দোলন দেবেন দেবেন বলে মাস চলে যাচ্ছে, খালেদা জিয়ার কষ্ট হচ্ছে। আর কত কষ্ট করবে? সবাই প্রস্তুত, তারপরও আন্দোলন নয় কেন? ফারুক বলেন, তৃণমূল প্রস্তুত, প্রস্তুত কে না? তারা প্রস্তুত না? যখন বেগম জিয়ার গাড়ি গুলশান থেকে রওনা দেয়। তখন হাজার হাজার মানুষ যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন মাকে জেলে যেতে দেবো না। এই স্লোগানে ঢাকার শহর মুখরিত হয়েছিল। তিনি বলেন, ২০ মাস হলো, আরও কতদিন হবে জানি না। আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার কোনো গুণ নেই। আমি কোনো গুণান্বিত নই।

কিন্তু আমি একজন সাচ্চা বিএনপির রাজনৈতিক কর্মী। আমি আজকে প্রশ্ন রাখতে চাই যে, প্রস্তুত কারা না? প্রস্তুত তো তৃণমূল। কেউ বলে ঢাকা শহরে কোনো অবদান নেই বিএনপির। আমি বিশ্বাস করি না। ঢাকার শহরে মিটিংয়ে যখন পুলিশ বাধা দেয়, তখন কত লোকের সমাগম হয়। কে বলে ঢাকার শহরে লোক নামে না। তাহলে প্রস্তুত কে না? এই প্রশ্ন রেখে তৃণমূল নেতারা আমাদের জিজ্ঞেস করে। এর উত্তর দেয়ার শক্তি আমার নেই।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, আমরা রাস্তায় নামি না কেন? সবাই বলে— আমরা মুক্ত করবো। মুক্ত করার জন্য সবাই প্রস্তুত। ছাত্রদল বলেন, যুবদল বলেন, আন্দোলনের জন্য সবাই প্রস্তুত। সে উদ্যোগটা কখন নেয়া হবে। হুকুম দেন, মরিনি, আমি এখন মরলে কোনো অসুবিধা নেই। কারণ আমার পাওয়ার কিছু নেই।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১