আকাশবার্তা ডেস্ক :
এবার ভেঙে গেলো জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)। নিজেদের আসল দল দাবি করে আগামী ১১ জানুয়ারি কনভেনশন ডেকেছে দলটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন পন্থীরা।
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
এরমধ্য দিয়ে ছোট ছোট বাম রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আরেক দফা বিভক্তি স্পষ্ট হলো। এর আগে জাসদ ইনু, ওয়ার্কার্স পার্টি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে নেতৃত্বের কোন্দলে ভাঙন দেখা দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতাউল করিম ফারুক বলেন, জেএসডি সব অন্যায়, অবিচার, জাতীয় স্বার্থবিরোধী পদক্ষেপ এবং ক্রিয়াকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী দল হিসেবে পরিচিত। এই পরিচয় অর্জন করতে গিয়ে কর্নেল তাহের ফাঁসির মঞ্চে ঝুলেছেন এবং সিদ্দিক মাস্টার, অ্যাডভোকেট মোশারফ হোসেনসহ প্রায় ২৪ হাজার নেতাকর্মীকে জীবন দিতে হয়েছে।
অথচ জেএসডি নেতৃত্বের একাংশ আজ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী দল ও গোষ্ঠীর সঙ্গে আঁতাত করেছে। প্রথমে একে নির্বাচনি ঐক্য বলা হলেও নির্বাচনের পর এটি আরও ঘনিষ্ঠ থেকে ঘনিষ্ঠতর হচ্ছে। তারা দলের ভেতরে গণতন্ত্র চর্চা বাদ দিয়ে ব্যক্তিতন্ত্র, পরিবারতন্ত্র ও কোটারিতন্ত্রের দিকে ঝুঁকে পড়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার রতন বলেন, দলের গঠনতন্ত্র না থাকায় কাউন্সিলের কোনও বৈধতা থাকে না। আমরা বলেছিলাম, আগে গঠনতন্ত্র তৈরি হোক, এরপর কাউন্সিল করা যাবে। কিন্তু রব ভাই তা মানলেন না। ফলে আমরা নতুন করে আগে কনভেনশন করবো।
এর আগে, জেএসডির কেন্দ্রীয় কাউন্সিল আহ্বান করা হয়েছিল আগামী ২৮ ডিসেম্বর। এ নিয়ে গত ১২ নবেম্বর গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জেএসডি সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতনসহ দলের শীর্ষ আট নেতা ওই কাউন্সিলকে অবৈধ বলে দাবি করেন।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল গণফোরামে ভাঙনের পর এবার আ স ম রবের নেতৃত্বাধীন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলেও (জেএসডি) ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে দলটির সভাপতি আ স ম আব্দুর রব ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতনের মধ্যে নেতৃত্বের দ্বন্দ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ থেকেই ভাঙনের সৃষ্টি।