আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর গণহত্যার দায়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলার শুনানি শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) নেদারল্যান্ডসের রাজধানী হেগে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়।
দেশের হয়ে আইনি লড়াই চালাতে আদালতে উপস্থিত আছেন মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সু চি।
আদালতে মামলা দায়েরকারী আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী আবু বকর তাম্বাদু রোহিঙ্গাদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন।
তিনি বলেন, ‘সভ্য মানুষ হিসেবে আমরা এ গণহত্যার দায় এড়াতে পারি না। এর বিচার হওয়া উচিত।’
গাম্বিয়া গত মাসে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের ১৯৪৮ সালের গণহত্যা কনভেনশন লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে হেগের আদালতে মামলা করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক এই আদালতে গণহত্যার দায়ে তৃতীয় মামলা এটি।
শুনানির শুরুতে এ মামলার প্রধান বিচারপতি আব্দুল কাই আহমেদ ইউসুফ অভিযোগ পড়ে শোনান। সোমালীয় বংশোদ্ভূত এই বিচারপতি পরে গাম্বিয়া ও মিয়ানমারের পক্ষে একজন করে অ্যাডহক বিচারক নিয়োগ দেন।
দুই অ্যাডহক বিচারপতি গাম্বিয়ার নাভি পিল্লাই এবং মিয়ানমারের প্রফেসর ক্লাউস ক্রেস। তারা মামলার বিচারপ্রক্রিয়ার শুরুতে শপথ নিয়েছেন।
মামলার চূড়ান্ত রায় আসতে আট সপ্তাহ থেকে কয়েক বছর সময়ও লেগে যেতে পারে। তবে গাম্বিয়া প্রাথমিক শুনানিতে বিচারক প্যানেলের কাছে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য ‘অন্তর্বর্তী পদক্ষেপ’ জারির আবেদন করবে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। সামরিক বাহিনীর জ্বালাও-পোড়াও, খুন, ধর্ষণের মুখে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। তারা এখন মানবেতর জীবন যাপন করছে।