আকাশবার্তা ডেস্ক :
শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের নতুন বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার ‘অচিন পাখি’ ও ‘সোনার তরী’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ইংল্যান্ডের রাজধানী লন্ডনের হিথ্রো ও ম্যানচেস্টার বিমানবন্দরে চলাচল করবে নতুন এ দুটি উড়োজাহাজ। লন্ডনে আগে থেকেই আমাদের ফ্লাইট নিয়মিত যাওয়া-আসা করছে।
ইংল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিম শহর ম্যানচেস্টারে বসবাসকারী বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশির কথা চিন্তা করে ও চাহিদার কথা মাথায় রেখে এই রুটে ফ্লাইট চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উড়োজাহাজে আরোহণ করেন এবং ককপিটসহ বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন।
এরপর কুর্মিটোলায় এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘অচিন পাখি’ এই নামটি রেখেছেন প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট কন্যা শেখ রেহানা।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর অত্যাধুনিক ১২টি বিমান কেনা হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর দেশে ফিরে আসতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশে আসা আমাদের নিষিদ্ধ ছিল। রেহানার তো পাসপার্টটাই রিনিউ করতে দেয়নি। ছয় বছর পর আমি দেশে আসি।’
তিনি বাংলাদেশে বিমান ও বিমানবন্দরের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন। ভাষণ শেষ করার সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভালো থাকুক আমার সোনার তরী ও অচিন পাখি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিমানের যাত্রীদের সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো সকল ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। বিদেশের বিমানবন্দরে যেভাবে নিরাপত্তা থাকে সেভাবে আমাদেরকেও নিশ্চিত করতে হবে। কেউ কোনো অনিয়ম ঘটালে আমি খবর পাই। আমি সারাদিন দেশের জন্য কাজ করি। তাই সবকিছুতে নজরদারি করি। কেউ অনিয়ম করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, যাত্রী সেবা বাড়ানোর সাথে সাথে যাত্রীদেরও সচেতন হতে হবে যে, বিমানটি আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে কেনা, তাই রক্ষণাবেক্ষণে নজর দিতে হবে। যেন বিমানের কোনো ক্ষতি না হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৬ সালে সরকারে এসে আমরা বিমানকে উন্নত করতে পদক্ষেপ নেই। অনেক কাজ শেষ করে যেতে পারিনি তখন। ২০০৮ সালে সরকারে এসে আরও উন্নততর পদক্ষেপ গ্রহণ করি। চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করেছি। কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আমরা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর করে দিচ্ছি। পর্যটনের জন্য তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কক্সবাজারে আমাদের বিরাট সম্ভাবনা আছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু বিমানেই নয়। আমরা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ করছি। আমরা আগামীর প্রজন্মের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে ডেল্টা প্লান ২১০০ নিয়েছি। আমরা চাই জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে। তার জন্য আমরা রাতদিন পরিশ্রম করে যাচ্ছি। এখানে কেউ দুর্নীতি করলে ছাড় দেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, অত্যাধুনিক বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজে বিজনেস ক্লাস ৩০টি, প্রিমিয়াম ইকোনমি শ্রেণি ২১টি ও ইকোনমি শ্রেণি ২৪৭টিসহ মোট ২৯৮টি আসন রয়েছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত ২১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে ‘সোনার তরী’ এবং গত ২৪ ডিসেম্বর রাত ৮টা ২০ মিনিটে অবতরণ করে ‘অচিন পাখি’। উড়োজাহাজ দুটিকে ওয়াটার স্যালুটের মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয়। এ দুটি উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে বিমান বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৮টি।