সোমবার ২রা মার্চ, ২০২৬ ইং ১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের নির্দেশ ইসরায়েলে ও যুক্তরাষ্ট্রে এমন হামলা হবে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি লক্ষ্মীপুরে আগুনে পুড়ে ৯ দোকান ছাই, ৭৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে সবার সহযোগিতা চাই নবনির্বাচিত ২৯৭ সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ নির্বাচনে ভোটের বক্স নিয়ে যাবে নদীর দিকে, আশঙ্কা জেএসডি নেতার ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মহিমান্বিত রজনী-শবে বরাত জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশ পাকিস্তান হয়ে যাবে : ফজলুর রহমান লক্ষ্মীপুরে ৬ সিলসহ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার : বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন যাদের জন্য দেশে আসতে পেরেছেন, তারা জুলাইয়ের অবদান অস্বীকার করছেন : ডা. শফিকুর রহমান

বছরের শুরুতেই ধর্ষণের লজ্জা

আকাশবার্তা ডেস্ক :

  • চার দফা ধর্ষণ, ধর্ষককে দেখে মনে হচ্ছিল সিরিয়াল কিলার; দাবি ভুক্তভোগী ছাত্রীর
  • লাইফ থ্রেট নেই কিন্তু ট্রমাটাইজড : ঢামেক চিকিৎসক
  • ঘটনাস্থলে পড়েছিল ফেন্সিডিলের বোতল, বই, ঘড়ি, চাবির রিং ও ইনহেলার
  • তদন্তে নেমেছে র্যাব, ডিবি ও সিআইডি
  • আইন রক্ষায় শৈথিল্য, বিচারে দীর্ঘসূত্রতায় বাড়ছে ধর্ষণ : ঢাবি শিক্ষক সমিতি

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি না থাকায় রাজধানীর কুর্মিটোলায় ধর্ষণের শিকার হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রী। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারাও বলছেন, এটি সংবেদনশীল এলাকা। এ নিয়ে তারা বেশি কথাও বলতে চান না। সে জায়গায় ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটছে কীভাবে এমন প্রশ্নেও উত্তর মিলছে না তাদের কাছ থেকে।

ওই ছাত্রীর ভাষ্য, গত রোববার বিকাল পাঁচটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে উঠে শেওড়ায় বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার পথে কুর্মিটোলা বাসস্ট্যান্ডে নামতেই দাম্ভিক প্রকৃতির অজ্ঞাত একব্যক্তি পেছন থেকে ধরে ওই ছাত্রীকে পাশের ঝোপঝাড়ে নিয়ে যায়। বারবার পরিচয়ও জানতে চায় ওই ছাত্রীর।

ঢাবির ছাত্রী পরিচয় দিলে প্রাণের হুমকি রয়েছে ভেবে মুখ খুলেননি ওইছাত্রী। তবে ওই ছাত্রী জানিয়েছেন, ধর্ষককে দেখে মনে হচ্ছিল সিরিয়াল কিলার। ঠাণ্ডা মাথায় ধর্ষণের মতো অপরাধ ঘটিয়েছে একাধিকবার এবং তাকে জোর করে পোশাকও পরিবর্তন করিয়েছে, আবার ধর্ষণ করেছে।

ওই ছাত্রী জানিয়েছে, ধর্ষক তার পরিচয় জানতে চেয়েছে বারবার এবং চার দফায় ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে অচেতন হয়ে পড়েন ওই ছাত্রী। এরই মধ্যে রাত ১০টার দিকে জ্ঞান ফিরলে ধর্ষককে তার ব্যাগে কিছু খুঁজতে দেখে পালিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা করে বান্ধবীর বাসায় গিয়ে ঘটনাটি জানায়।

পরে সহপাঠীরা তাকে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসে এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। রাত শেষে গতকাল সকাল থেকেই এ ঘটনায় ঢাবি ক্যাম্পাসসহ রাজধানীর বিভিন্নস্থানে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠে ঢাবি। নতুন বছরের শুরুতেই এ ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয় দেশজুড়ে।

গতকাল সকাল থেকেই উত্তাল ঢাবিতে রাতেও আন্দোলনে সরব থাকতে দেখা গেছে। সন্ধ্যার পর থেকেই ক্যাম্পাসে মশাল মিছিল, রাজু ভাস্কর্যে গান-কবিতা, স্লোগানে এবং মোমবাতি মিছিল নিয়ে শহীদ মিনারে অবস্থান নিতে দেখা যায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি প্রগতিশীল ছাত্রজোটও মশাল মিছিল বের করে। এসময় তারা ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে স্লোগান দেয়।ওই ছাত্রীর অবস্থা জানতে গতকাল ঢামেকে গিয়ে ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) সামনেই কথা হয় ওই ছাত্রীর বিভাগীয় শিক্ষিকা ও আবাসিক হলের হাউজ টিউটরের সঙ্গে।

তিনি বলেন, বাচ্চা মেয়ে, তার ছোট্ট শরীরে অনেকগুলো মারাত্মক জখমের চিহ্ন। গলাটিপে ধরা হয়েছিল। সেখানেও কালশিটে দাগ। আমাদের মেয়েটা এখন মানসিকভাবে ভীষণ বিপর্যস্ত, ওর পাশে বেশিক্ষণ দাঁড়াতে পারিনি। ও অনেক কিছু বলতে চাচ্ছিল।

ওই শিক্ষিকা জানান, চারদফায় ধর্ষণ করা হয়েছে তাকে। আইনজীবী পরিচয়ে আরেক নারী বলেন, মেয়েটি আমার ভাগ্নি। আর যার সঙ্গে কথা বললাম তিনি আমার বোন। আমার বোন ও দুলাভাই ঢাকার বাইরে থাকেন। কাল রাতেই মেয়ের খবর শুনে এসেছেন।

ভাগ্নি কেমন আছে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ও তো ভেতরে, আমাদের যাওয়া নিষেধ, একটু আগে শুনলাম ঘুমাচ্ছে। লাইফ থ্রেট নেই। কিন্তু ট্রমাটাইজড। এ অবস্থায় আমরা সবাই শক্ত থাকার চেষ্টা করছি।

ওসিসিতে থাকা এক সহপাঠীর বড়বোন বলেন, ওর শরীরে অনেক আঘাত, প্রচণ্ড ব্যথাও আছে। গলাসহ সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন। ওকে অনেক মারপিট করা হয়েছে। মানসিকভাবে শক্ত রাখার চেষ্টা করছি।

ওসিসির সিনিয়র এক নার্স জানান, ওই ছাত্রীর শরীরে অনেক জখমের চিহ্ন। তাকে কোনো ধরনের প্রশ্ন করছি না আমরা। নিজে থেকে কিছু বললে শুনছি। মেয়েটি অ্যাজমা রোগে আক্রান্ত।

তিনি বলেন, ফরেনসিক পরীক্ষায় তার গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনার সময় ধর্ষক তার গলাচেপে ধরেছিল। এই কারণে চিকিৎসাধীন মেয়েটির কথা বলতে একটু কষ্ট হচ্ছে।

সাত সদস্যের মেডিকেল বোর্ড সূত্র জানায়, তার (ছাত্রী) গলার দুই পাশে নখের আঁচড় দেখা গেছে। গলাচেপে ধরার কারণেই কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে। নাকের উপরেও নখের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

ঢামেকের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, মেয়েটির গলা, হাত, গালসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন আছে। কিছু আঘাত হয়েছে ধর্ষণকারীর দ্বারা, আর কিছু হয়েছে ঘটনাস্থলের কারণে। জঙ্গলের কারণে তার পায়ে কিছু আঘাত হয়েছে। তার গলায় আমরা ধর্ষণকারীর হাতের চিহ্ন পেয়েছি। বোঝা গেছে যে, ধর্ষণকারী তার গলাটিপে ধরেছিল। হাতেও একই ধরনের চিহ্ন আছে যেটা থেকে অনুমিত হচ্ছে যে তাকে জোর করে আঘাত করা হয়েছে। লাথি মারা হয়েছে এরকম আঘাতের চিহ্নও পেয়েছি শরীরে।

তিনি বলেন, তার শরীরে ধর্ষণের আলামত পেয়েছি। একজন করেছে, না একাধিক ব্যক্তি ছিলো- তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। যদিও ওই ছাত্রী পুলিশকে ধর্ষক একজন বলেই জানিয়েছে। সোহেল মাহমুদ আরও বলেন, শারীরিকভাবে ওই তরুণী শঙ্কামুক্ত। যেহেতু তার শরীরে বড় ধরনের কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই, ফলে দু-একদিনের মধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠবে।

ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া বলেন, রোববার বিকালে ক্লাস শেষে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে করে কুর্মিটোলায় নামেন ওই তরুণী। উদ্দেশ্য ছিলো রাতে বান্ধবীর বাসায় থেকে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়া। সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাস থেকে নামার পরপরই অজ্ঞাত পরিচয় কোনো এক ব্যক্তি তার মুখচেপে ধরে এবং পাশের একটি নির্জনস্থানে নিয়ে ধর্ষণ করে।

একপর্যায়ে তিনি চেতনা হারান। রাত ১০টার দিকে চেতনা ফিরলে ওই শিক্ষার্থী একটি অটোরিকশা নিয়ে বান্ধবীর বাসায় যান এবং তাকে পুরো ঘটনা বলেন। এরপর সহপাঠীরা তাকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে এবং পরে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যায়।

গতকাল সকালে ক্যান্টনমেন্ট থানায় অজ্ঞাতপরিচয় একজনকে আসামি করে ওই ছাত্রীর বাবা মামলা করেছেন। ঢামেকের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সালমা রউফকে প্রধান করে গঠিত সাত সদস্যের মেডিকেল বোর্ড সার্বক্ষণিক কাজ করছে।

ঢামেকের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন বলেন, ওই শিক্ষার্থী স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা মানসিক ট্রমায় আছেন। তবে কিছু সময় কাটলে তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ হয়ে যাবেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, ধর্ষণের এ ঘটনার তদন্ত চলছে, সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সবগুলো সংস্থা ঘটনাটি তদন্ত করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আগে অনেক বড় বড় ঘটনা তদন্ত করে বের করেছে। এ ঘটনায়ও দ্রুত সময়ের মধ্যে হবে এবং দোষীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনা হবে।

এদিকে ধর্ষকের হাত থেকে নিজেকে রক্ষায় আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন ঢাবির ওই শিক্ষার্থী। নিজেকে বাঁচানোর সেই চিত্রও ঘটনাস্থলে পাওয়া গেছে। সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিলো তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ব্যবহূত সামগ্রী। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ১৫ ধরনের আলামত সংগ্রহ করেছে ঘটনাস্থল থেকে, যার বেশিরভাগই ওই শিক্ষার্থীর ব্যবহূত জিনিসপত্র।

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের প্রধান ফটক থেকে উত্তরার দিক ১০০ গজ যেতেই ফুটপাতের সৌন্দর্য বর্ধনের ফুল গাছের ঝোপে তাকে জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে নিজেকে বাঁচাতে ধর্ষকের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি হয় বলে ঘটনাস্থল দেখে ধারণা করছে পুলিশ। ব্যস্ততম সড়ক হলেও রাতে এই ফুটপাতে পথচারীদের তেমন যাতায়াত থাকে না।

গুলশান জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) সুদীপ চক্রবর্তী বলেন, সড়কটি ব্যস্ততম হলেও এই ফুটপাতে মানুষের যাতায়াত কম থাকে। এই সড়কে গাড়ি চলাচল করে বেশি। ভিকটিম আমাদের কাছে একজনের কথা বলেছেন। আমরা আলামত সংগ্রহ করেছি।

ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ভিকটিমের শরীরে জখম রয়েছে। নিজেকে রক্ষা করতে তিনি চেষ্টা করেছিলেন।

ঘটনাস্থলে সরেজমিন দেখা গেছে, শিক্ষার্থীর ব্যবহূত হাতঘড়ি, চাবির রিং, ঢাবির বিভিন্ন কাগজপত্র, জুতা, ফাইল সেখানে পড়ে আছে। এছাড়া তার ব্যবহূত ইনহেলার ও ওষুধসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। ঘটনাস্থলে কালো একটি জিন্স প্যান্ট পড়েছিল।

এছাড়া ছয়টি ফেন্সিডিলের বোতল সেখানে পড়েছিল যেগুলো সাম্প্রতিক ও পুরনো বলে মনে করছেন আলামত সংগ্রহকারী পুলিশ কর্মকর্তারা। সিআইডির এক কর্মকর্তাও বলেন, ঘটনাস্থলে ধস্তাধস্তির চিহ্ন রয়েছে।

ডিসি সুদীপ চক্রবর্তী বলেন, আমরা প্রযুক্তির সহায়তায় আলামত ও সোর্স নিয়োগ করে তদন্ত শুরু করেছি। সিআইডি ক্রাইম সিন ভিকটিমের বই, পরিধেয় কাপড় ও কিছু কাগজপত্র সংগ্রহ করেছে। ভিকটিমের ভাষ্য অনুযায়ী, ধর্ষক একজন। ব্যস্ততম সড়ক হলেও সেখানে মানুষ হাঁটা-চলা কম করে। ধর্ষক এটির সুযোগ নিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে ঘটনাস্থলে ধর্ষকের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

ভিকটিম শিক্ষার্থীর এক সহপাঠী বলেন, তার শ্বাসকষ্ট সমস্যা রয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে হয়তো তিনি আক্রান্ত হয়েছেন। কী ভীষণ যন্ত্রণা পেতে হয়েছে। তার সাহসের কারণেই আজ আমরা তাকে ফিরে পেয়েছি। মানসিকভাবে শক্ত থেকে তিনি সেখান থেকে বেঁচে ফিরতে চেয়েছেন। এ ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানায় ভিকটিমের বাবার করা ধর্ষণ মামলাটি পুলিশের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ও র‌্যাব তদন্ত শুরু করেছে।

র‌্যাব সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ান বিন কাশেম বলেন, চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় র‌্যাব ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। আপাতত তদন্তের স্বার্থে বেশি কিছু বলছি না।

তবে ধর্ষিত ছাত্রীর পাশে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পাশে আছে উল্লেখ করে ভিসি অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি খুবই নিন্দনীয়, দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা মর্মাহত। আমরা সবাই তার পাশে আছি। তাকে মানসিকভাবে শক্ত ও সমর্থ করে তোলাই আমাদের প্রধান কাজ।

তিনি বলেন, প্রথমত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছে। মেয়েটির পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যা প্রয়োজন তাই করা হবে। তাকে মনে রাখতে হবে সে আমাদের মেয়ে, আশা রাখি তার মনোবল শক্ত থাকবে।

এদিকে ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ক্ষোভে ফুঁসছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। পৃথকভাবে বিক্ষোভ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠনগুলো। গতকাল ধর্ষকের শাস্তির দাবিতে স্লোগানে উত্তাল ছিলো পুরো ক্যাম্পাস।

ধর্ষকের কঠোর শাস্তির দাবিতে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রলীগ। এসময় তারা ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবিসহ দ্রুত ট্রাইব্যুনালে বিচারের দাবি জানান। ধর্ষণে জড়িতদের শাস্তির দাবিতে বামদের সাথে নিয়ে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।

অবরোধ পালনকালে ভিপি নুর বলেন, ধর্ষকদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা সকল শিক্ষার্থীর প্রাণের দাবি। আমরা আর বিচারহীনতা চাই না। এই ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কেউ যেন আন্দোলন থেকে সরে না যায় সে আহ্বানও জানান তিনি।

এ ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বরাবর স্মারকলিপি দেবে ডাকসু। একইসঙ্গে দুদিনব্যাপী কর্মসূচিও ঘোষণাও করা হয়েছে। এছাড়া সর্বশেষ ঢাবির শিক্ষার্থীদের কুর্মিটোলা এলাকায় বিক্ষোভ করতেও দেখা যায়। ধর্ষকের কালো হাত ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও স্লোগানে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১