শুক্রবার ১৩ই মার্চ, ২০২৬ ইং ২৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বেহাল এলজিইডির সড়ক নেটওয়ার্ক

আকাশবার্তা ডেস্ক :

  • আলোর মুখ দেখে না মাননিয়ন্ত্রণ মনিটরিং
  • অনিয়ম দুর্নীতির কারণে ফেটেফুটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে সড়ক
  • মানা হয় না প্রধানমন্ত্রীর কোনো নির্দেশ
  • পানের দোকানদারও ঠিকাদার সেজে বাগিয়ে নিচ্ছে কাজ

পিচ, খোয়া উঠে বড় বড় খানাখন্দ। অল্প বৃষ্টিতেই জমে থাকছে পানি। এলজিইডির অফিসের লোকজন বারবার মাপজোখ করলেও কোনো সুরাহা হয়নি। এর ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চন্ডিপুর-গোহাটা-আড়ানী রেলস্টেশন বাউসা ইউপির মানুষকে।

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার কাইলানী ও টগার হাওরে ১০ কিলোমিটার ফসল রক্ষা বাঁধ কেটে এলজিইডি করছে ডুবন্ত সড়ক। সঠিকভাবে নকশা না করেই হাওর অঞ্চলের বন্যা ব্যবস্থাপনা ও জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় করা হচ্ছে এই সড়ক।

এলজিইডির বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ শুধু সাধারণ মানুষেরই নয়, খোদ সংসদ সদস্যদেরও অভিযোগ। চার-পাঁচ বছর ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে এলাকার বিভিন্ন সড়ক। এলজিইডির প্রকৌশলীকে বলার পরও কোনো কাজ হচ্ছে না।

শুধু তাই নয়, পানের দোকানদারও ঠিকাদার সেজে অধিকাংশ কাজ নিয়ে বিক্রি করে দিচ্ছে। উন্নয়নকাজে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা থাকলেও মানা হচ্ছে না। ঠিকাদাররা নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে দায়সারা কাজ করছে। অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে প্রকল্পের কাজ শেষ না হতেই ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে সড়ক। কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ ব্যয় করেও সুবিধা পাচ্ছে না জনগণ।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতি অর্থবছরে বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দসহ দেখভাল করতে প্রজেক্ট মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন (পিএমই) ইউনিট গঠন করা হয়েছে ১৯৮৪ সালে। এর আওতায় ২০টি টিম বিভিন্ন অঞ্চল পরিদর্শন করে রিপোর্ট তৈরি করে প্রধান প্রকৌশলীর কাছে জমা দেয়।

এছাড়া কাজের ভালো মান নিশ্চিত করতে মান নিয়ন্ত্রণ ইউনিট, প্রকল্প মনিটরিং ও মূল্যায়ন, ডিজাইনসহ ১২টি ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ খানের দায়িত্বে রয়েছে মনিটরিং, মূল্যায়ন ও ডিজাইন ইউনিট। তার নেতৃত্বে এই দুই বিভাগে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীসহ ২৭ জন প্রকৌশলী রয়েছে।

এছাড়া তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ রেজাউল করিমের নেতৃত্বে রয়েছে মাননিয়ন্ত্রণ ইউনিট। এখানেও রয়েছেন সাতজন প্রকৌশলী। এভাবে বিভিন্ন ইউনিটে অসংখ্য প্রকৌশলী রয়েছেন। তারা বিভিন্ন প্রতিবেদন তৈরি করেন।

কিন্তু প্রধান প্রকৌশলী অধিকাংশ সময় বিভিন্ন মিটিংয়ে ব্যস্ত থাকেন। আবার কোনো প্রধান প্রকৌশলী একদিনের জন্য দায়িত্ব পান। যেমন— মো. রেজাউল করিম গত ২৯ ডিসেম্বর দায়িত্ব নিয়েই শেষ কর্মদিবস পার করেন।

এর ফলে কেউ অনিয়ম ও দুর্নীতি করলেও তাদের দেখার সুযোগ পান না। তাই কাজের মানের বেহালদশা। এলজিইডির সড়কের বেহালদশার কথা বর্তমানে সাধারণ মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, খোদ জনপ্রতিনিধি তথা এমপিদের মধ্যেও ব্যাপকভাবে আলোচনার ঝড় উঠেছে।

রাজশাহীর মোহনপুর ও পবা উপজেলার সংসদ সদস্য মো. আয়েন উদ্দিন এলজিইডির কার্যক্রমে অতিষ্ট হয়ে আমার সংবাদকে বলেন, আমার এলাকার সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। চার-পাঁচ বছর থেকে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে বলেও কোনো কাজ হচ্ছে না। শুধু ধান্দায় ব্যস্ত থাকে। উন্নয়নকাজে নজর দেয় না। পানের দোকানদারও কাজ পেয়ে বছরের পর বছর ফেলে রাখছে। শেষ পর্যন্ত এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীকে বলতে বাধ্য হয়েছি।

তিনি আরও বলেন, আসল ঠিকাদাররা কাজ পাচ্ছে না, পানের দোকানদাররা কাজ বাগিয়ে নিচ্ছে। তারা অনেকদিন কাজ ধরে রেখে পরে বিক্রি করে দিচ্ছে। মধ্যস্বত্বভোগীরা কাজ করলেও ভালো মানের উপকরণ দিচ্ছে না। এ কারণে কোনো কোনো জায়গায় কাজ হলেও অল্প সময়ের ব্যবধানে ভেঙে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমার এলাকার মতোই সব উপজেলায় একই দশা।

সূত্র জানায়, এলজিইডি প্রতি অর্থবছরে গ্রামীণ সড়ক, ইউনিয়ন ও উপজেলা সড়ক নির্মাণ করছে। গ্রামেই শহরের সেবা দিতে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তিন লাখ ৫৩ হাজার কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

এর মধ্যে গ্রামীণ সড়ক হচ্ছে প্রায় দুই লাখ ৭৪ হাজার কিলোমিটার। ইউনিয়নপর্যায়ে প্রায় ৪২ হাজার কিলোমিটার এবং উপজেলাপর্যায়ে ৩৭ হাজার কিলোমিটারের বেশি। এর মধ্যে আ.লীগ ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত এক লাখ ২১ হাজার ৮৫ কিলোমিটার অর্জন করতে পেরেছে।

তার মধ্যে ৫৩ হাজার ৫৫৯ কিলোমিটার হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক। ইউনিয়ন সড়ক প্রায় ৩৩ হাজার কিলোমিটার এবং উপজেলা সড়ক প্রায় ৩৫ হাজার কিলোমিটার বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।

এছাড়া ছোট-বড় বিল-খাল পারাপারের জন্য এলজিইডি প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে গ্রামীণ সড়কে এক হাজার ১৮ কিলোমিটার, ইউনিয়ন সড়কে ৪১৬ কিলোমিটার এবং উপজেলাপর্যায়ে প্রায় ৪৯৪ কিলোমিটার ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

শুরু থেকে এ পর্যন্ত এক হাজার ৪০৮ কিলোমিটার বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে গ্রামীণ সড়কে ব্রিজ ও কালভার্টের পরিমাণ হচ্ছে- ৬১১ কিলোমিটার, ইউনিয়ন সড়কে ৩৪৫ কিলোমিটার এবং উপজেলা সড়কে ৪৫২ কিলোমিটার সড়কে ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছে বলে সূত্র জানায়।

মানা হয় না প্রধানমন্ত্রীর কোনো নির্দেশনা : সূত্র জানায়, সরকারি খাতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন পদ্ধতির নিয়ম রয়েছে। সরকার এ ব্যাপারে ২০১৬ সালের অক্টোবরে গাইডলাইন বা পরিপত্র জারি করে। তাতে বলা হয়েছে- ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ফার্স্ট ট্র্যাক প্রজেক্ট মনিটরিং কমিটির তৃতীয় সভায় নির্দেশ দেয়া হয় ২৫ কোটি টাকার বেশি প্রকল্প বাস্তবায়নের পূর্বে আবশ্যিকভাবে ফিজিবিলিটি স্টাডি (সম্ভাব্যতা সমীক্ষা) করতে হবে।

২০১৫ সালের ২৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন— প্রকল্পের কার্যক্রম সুষুমভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ব্যয় ৫০ কোটি টাকার বেশি হলে পূর্ণকালীন অভিজ্ঞ ও যোগ্য প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ অবশ্যই পরিচালন করতে হবে।

সব প্রকল্পে এই অনুশাসন প্রযোজ্য হবে। ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী আরও নির্দেশ দেন— ইউনিয়নপর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রমের তালিকা বিলবোর্ডের মাধ্যমে জনসাধারণকে অবহিত করতে হবে।

এছাড়া ২০১৮ সালের ২৩ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, ছোট ছোট সড়কগুলোতে যাতে ভারী মালামালসহ বড় গাড়ি প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য স্থানীয় সরকার বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

কিন্তু এলজিইডির কোনো প্রকল্পেই এ নির্দেশ মানা হচ্ছে না। কোথাও তারা সাইন বোর্ড দিয়ে রাখে না। একজন পিডি এখনো একাধিক প্রকল্পের দায়িত্বে রয়েছেন। এর ফলে প্রকল্পের কাজও ভালো হচ্ছে না। নির্মাণ শেষ না হতে ভেঙে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। শুরু না করতে প্রকল্প সংশোধন করতে হচ্ছে।

তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রাজশাহীর চারঘাট এলাকার শফিক এ প্রতিবেদককে বলেন, চন্ডিপুর-গোহাটা-আড়ানী রেলস্টেশন বাউসা ইউপি রাস্তার বেহালদশা। চলাফেরা করা কঠিন হয়ে গেছে। তারপরও সংস্কার করা হচ্ছে না। এক সময়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এই রাস্তার উদ্বোধন করলেও বর্তমানে বেহালদশা।

অধিকাংশ প্রকল্পে কচ্ছপগতি : গ্রামীণ যোগাযোগ ও কৃষি উৎপাদনে সহায়তা করতে এলজিইডি সারা দেশে প্রায় ২৯ কিলোমিটার সেতু নির্মাণ করার প্রকল্প হাতে নেয়। এ জন্য ২০১০ সালে কাজও শুরু করে।

এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৬২৮ কোটি টাকা। কাজ শুরু হলেও শেষ হচ্ছে না। সময় লাগবে এক দশক অর্থাৎ ২০২০ সালের জুনে শেষ হবে। বিভিন্ন সময়ে সংশোধন করে ব্যয় বাড়তে বাড়তে চার গুণ হয়েছে।

একইভাবে হাওর অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নে গ্রামীণ সড়ক ও কালভার্ট করার প্রকল্প নেয়া হলেও তিন শতাংশও অগ্রগতি হয়নি সাত বছরে। এখনো হয়নি দুটি মডেল গ্রাম। অথচ গাড়ি কেনা হয়েছে ২০৭টি। এলজিইডির শুধু এই দুটি প্রকল্পেই ধীরগতি, তা নয়। চলমান ১২১টি প্রকল্পেরই একই দশা।

বিদেশে অভিজ্ঞতা অর্জনের নামে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করলেও সংশ্লিষ্টরা তার সুফল কাজে লাগাতে পারছে না। প্রতি বছর ইচ্ছামতো বেশি করে বরাদ্দ নিয়েও ব্যয় করতে পারছে না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তারা অনেক ক্ষেত্রে নিয়ম মানে না। তাই কাজেরও গতি বাড়ে না। বাধ্য হয়ে জনগণকে কাঁচাখিচের মধ্যেই যাতায়াত করতে হচ্ছে।

সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতায় এলজিইডি সারা দেশে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ব্যবস্থা করছে। আ.লীগ সরকার তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় এসে বিভিন্ন প্রকল্পও হাতে নিয়েছে। প্রতি অর্থবছরে চাহিদা মাফিক অর্থও বরাদ্দ দিচ্ছে সরকার।

চলতি অর্থবছরে ১২১টি প্রকল্প বাস্তবায়নে ১৩ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তাতে ছয় মাসে আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৩৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ। এছাড়া ৫০ কোটি টাকার নিচে আরও ৩০টি প্রকল্প রয়েছে।

বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ নিয়ে এলজিইডি এ পর্যন্ত উপজেলা সড়ক, ইউনিয়ন ও গ্রাম সড়ক এক লাখ ২১ হাজার ৮৫ কিলোমিটার সড়ক পাকা করতে পেরেছে। প্রতি বছর প্রায় ছয় হাজার কি.মি. সড়ক নির্মাণ করছে এ সংস্থাটি।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অনুকূলে ১৯৯০-৯১ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দের পরিমাণ ছিলো ২০৪ কোটি টাকা। যা গত অর্থবছরে বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৬৭২ কোটি টাকায়।

চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে পল্লী সেক্টরে পাঁচ হাজার ৫০০ কিলোমিটার নতুন সড়ক নির্মাণ, ৩০ হাজার ৫০০ মিটার ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ, ১৩ হাজার কিলোমিটার পাকা সড়ক এবং তিন হাজার ৭০০ মিটার ব্রিজ ও কালভার্ট রক্ষণাবেক্ষণ করার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

এসব বাস্তবায়নের ফলে দেশের সড়ক নেটওয়ার্ক কভারেজ ৩৬.৯০ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৩৭ দশমিক ৭০ শতাংশে উন্নীত হবে। তারপরও সারা দেশে দুই লাখ ৪০ হাজার কি.মি. কাঁচা সড়ক রয়েছে।

সার্বিক ব্যাপারে জানতে যোগাযোগ করা হলে প্রধান প্রকৌশলী সুশংকর চন্দ্র আচার্য্য আমার সংবাদকে বলেন, ৩১ ডিসেম্বর দায়িত্ব নিয়েছি। সবকিছু জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ফিজিবিলিটি স্টাডির ব্যাপারে বলেন, তৃতীয় পক্ষ বলতে আমরা কনসালটেন্ট নিয়োগ করে এসব কাজ করা হচ্ছে। আমাদের লোকবল কম। তাই অনেককেই অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়েও কাজ করা হচ্ছে।

সড়ক না হওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে এই প্রধান প্রকৌশলী বলেন, সবাই চাচ্ছে যেন আমি পাই। সারা দেশে অসংখ্য রাস্তার চাহিদা। বাজেট সীমিত থাকে মন্ত্রণালয়ে। চাহিদা দিলেও সব পাওয়া যায় না। তাই সবার চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয় না। এবার ১৩ হাজার কোটি টাকার বেশি পাওয়া গেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের টার্গেট অনুযায়ী কাজ করতে হচ্ছে।

বছরের পর বছর কাজ ফেলে রেখে ঠিকাদারদের কাজ বিক্রি করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা আমাদের নজরে এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও এই ম্যাসেজ পাওয়া গেছে। সেখানেও একই অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাই ঠিকাদারদের তালিকা হালনাগাদ করা হবে। যাদের পারফরমেন্স ভালো না তাদের বাদ দেয়া হবে।

সারা দেশে সড়কের মান ভালো না প্রসঙ্গে ঢাকা বিভাগের দায়িত্বে থাকা সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বলেন, সব সড়কই তৈরি করার পর সাথে সাথে নষ্ট হয় না। এ ধরনের রেকর্ড নেই। সামান্য নষ্ট হতে পারে। শার্ট বানালে একটা বুতাম খোলার মতো হতে পারে। ডিফেক্ট পিরিয়ডে তা সারানোর জন্য ঠিকাদারদের বলা হয়।

কর্মকর্তাদের দুর্নীতি প্রসঙ্গে ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার সুশংকর চন্দ্র আচার্য্য বলেন, কারো বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে বিধি-বিধান মেনে তাদের শাস্তির আওতায় আনা হয়। চাকরি থেকে পদাবনতি ও বহিষ্কার করা হচ্ছে। আবার এলজিইডির এখতিয়ারের বাইরে হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হয়।

সড়কের বেহাল অবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তালিকা অনুযায়ী সংস্কারে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত কি পরিমাণ সড়ক সংস্কার করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ মুহূর্তে এটা বলা সম্ভব নয়।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধসহ দেশের প্রায় বাঁধের উপর জনগণের সুবিধার্থে পাকা রাস্তা করা হয়। কার্পেটিংয়ের জন্য হয়তো একটু নিচু করা হয়। তবে বাঁধ কেটে রাস্তা করার কথা নয়। করলেও তা সমান করার কথা। তাই, না জেনে বলা যাবে না বলে জানান তিনি।

আগে যাই হোক দায়িত্ব নেয়ার পর ব্যতিক্রম কিছু উদ্যোগ নিয়েছেন কি বা আপনার পরিকল্পনা কি— এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মন্ত্রণালয়ে আলাপ হয়েছে। চাহিদাপত্র দেয়া হবে। এডিপিতে বরাদ্দ পেলে সারা দেশে কাজ শুরু করা হবে।

সূত্র : দৈনিক আমার সংবাদ।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১