আকাশবার্তা ডেস্ক :
রাজনৈতিক মাঠের গুরুত্বপূর্ণ শহর ঢাকার দুই সিটি ভোটের দু’দিন আগে সমাবেশের উদ্যোগ নেয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
একই সঙ্গে রাজধানীজুড়ে গণমিছিলও করবে দলটির নেতাকর্মীরা। মূলত দুই সিটি নির্বাচনের আগে নিজেদের জনপ্রিয়তা তুলে ধরার পরিকল্পনা হিসেবে সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।
এছাড়া ২১তম কাউন্সিলে কেন্দ্রীয় কমিটি নির্বাচিত হওয়ার পর এটাই প্রথম সমাবেশ। সব মিলিয়ে সমাবেশে সর্ববৃহৎ জনসমাগম ঘটানোর টার্গেট নিয়েছে দলটির হাইকমান্ড। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এমনটাই জানিয়েছে।
দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের প্রধান প্রতিপক্ষ চির প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি। প্রচারণার শুরু থেকেই ভোটের পরিবেশ নিয়ে নানা অভিযোগ তুলেছে বিএনপির প্রার্থী ও নেতারা। একই সঙ্গে সরকারের জনপ্রিয়তা শূন্যের কোঠায় রয়েছে বলে প্রচার করছেন তারা।
যার কারণে সিটি ভোটে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর তৎপরতা মাথায় রেখেই নির্বাচনি হিসাব কষছে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনকে মর্যাদার লড়াই হিসেবে দেখছে ক্ষমতাসীন দলটি।
গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের ধারাবাহিকতায় দুই সিটির নির্বাচনে মেয়র পদে জয় নিশ্চিত করতে চায় দলটি। এ সব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সিনিয়র নেতারা।
সমাবেশকে সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনগুলো। সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে আয়োজিত এ সমাবেশে বড় ধরনের শোডাউন করতে চায় আওয়ামী লীগ। মু
ক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণকারী সব শ্রেণি ও পেশার মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। সাধারণ মানুষকে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানাতে সমাবেশ ও মিছিলে থাকবে প্রচারণা। সংবর্ধনায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, শ্রমিক লীগ, ছাত্রলীগের সব ইউনিটের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ থাকবে।
ঢাকার সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরাও মিছিল সহকারে সমাবেশে যোগ দেবেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয়, মহানগরের পাশাপাশি সমাবেশ সফল করতে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
ইতোমধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের উদ্যোগে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার ঢাকা উত্তর মহানগর নেতাকর্মীদের নিয়ে বর্ধিত সভা করেছে যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। এর আগে গত মঙ্গলবার দক্ষিণ মহানগর যুবলীগের সঙ্গে সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ যুবলীগের মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, সমাবেশ সফল করতে অতীতের মতো যুবলীগ সর্ববৃহৎ সমাগম ঘটাবে। যুবলীগের প্রতিটি ইউনিটের নেতাকর্মীরা দলে দলে যোগদান করবে। এর মাধ্যমে সিটি ভোটে মানুষ নৌকার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন, সেটা তুলে ধরা হবে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী বলেন, সমাবেশকে কেন্দ্র করে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দেবে। আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগও সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছে।
আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ বলেন, সমাবেশকে কেন্দ্র করে আমাদের দুটি দায়িত্ব। স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মীরা শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেবকের দায়িত্ব পালন করবে। অন্যদিকে, দুই মহানগরসহ প্রতিটি ইউনিটের নেতাকর্মীরা মিছিল সহকারে সমাবেশে যোগ দেবে।
আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আজগর নস্কর বলেন, সমাবেশ সফল করতে ইতোমধ্যে আমরা সভা সম্পন্ন করেছি। মৎস্যজীবী লীগের মহানগর, থানা, ওয়ার্ড, ইউনিট থেকে নেতাকর্মীরা দুপুরের মধ্যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমবেত হবেন।
এর আগে গত ২৭ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলীয় কার্যালয়ে সব সহযোগী সংগঠন ও মহানগর নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা।
সভা শেষে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু ৩০ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ ও গণমিছিল করার কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
আমির হোসেন আমু বলেন, ভোটের আগে এ সমাবেশ অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ভোটারদের কাছে বার্তা দিতে হবে নৌকাতে ভোট দিলে তিলোত্তমা শহর তৈরি হবে। সমাবেশ থেকে মতিঝিল শাপলা চত্বরের দিকে গণমিছিল বের করা হবে।