আকাশবার্তা ডেস্ক :
নোট ও গাইড বিক্রি বন্ধ করার ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকদের সহায়তা চেয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ নির্দেশনা দেন তিনি।
চলমান এসএসসি পরীক্ষায় বাংলা প্রথমপত্রের প্রশ্ন গাইড বইয়ের প্রশ্নের সঙ্গে মিলে যাওয়ার ঘটনার পর মন্ত্রী এ বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন বলে জানান।
এদিকে গাইড বইয়ের সঙ্গে প্রশ্নপত্র হুবহু মিলে যাওয়ার ঘটনায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড তদন্ত শুরু করেছে। বিভিন্ন গাইড বই নিয়েও তদন্ত করা হচ্ছে। আগামী রোব-সোমবারের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার কথা।
এসএসসির প্রশ্নপত্রের সঙ্গে গাইড বইয়ের প্রশ্ন হুবহু মিলে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘গাইড বই নোট বই ব্যবহারকে আমরা বন্ধ করতে চাই। সৃজনশীল পদ্ধতিতে এটির প্রয়োজন হবার কথা নয়।
আমরা এর আগেও বলেছি কোনও কোনও গাইড ও নোট বই মূদ্রণকারী প্রতিষ্ঠান অনৈতিকভাবে কোনও কোনও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষককে প্রভাবিত করে শিক্ষার্থীদের কিনতে বাধ্য করেন। আমাদের সব স্তরে এই সচেতনতা দরকার, গাইড ও নোট বই থেকে নিজেদের দূরে রাখার বিষয়ে।
অভিভাবকরাও যদি আর একটু সবেচন হন যে সৃজনশীল পদ্ধতিতে আমার সন্তানের নোট বই গাইড বই প্রয়োজন হবার কথা নয়। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ হয়তো এর সঙ্গে জড়িত থাকে না। গুটি কয়েক হয়তো জড়িত থাকেন। এ বিষয়ে যাতে সবই সচেতন হন। ’
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমি জেলা প্রশাসকদের বলবো— নোট ও গাইড বই যাতে বাজোরে বিক্রি না হয়, তাদের আমরা সহযোগিতা চাই। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সারা বাংলাদেশে এটি বন্ধ করা সম্ভব নয়, যদি আমরা সবাই সচেষ্ট না হই। আপনাদেরও সহযোগিতা প্রয়োজন।
গাইড বই থেকে প্রশ্ন প্রণয়নের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘একোরে কোনও প্রশ্ন রিপিট হবে না সেটা করা খুবই কষ্টকর। গাইড বইগুলেতে প্রশ্ন আসে কোথা থেকে। আগের বছরে যেসব প্রশ্ন থাকে সেগুলোই গাইড বইতে ছাপায়। এবার আমাদের পাঁচ হাজার ৫৮০ সেট প্রশ্ন প্রণয়ন করা হয়েছে। কী বিশাল কর্মযজ্ঞ একবার চিন্তা করে দেখেন।
সেখান থেকে ২ হাজার ৭৯০ সেট প্রশ্ন ছাপানো হয়েছে। এখানে কত প্রশ্নপত্র সেটা এবং মডারেটর লাগে। প্রশ্ন যখন সেট করছে করছে, মডারেটররা যখন মডারেট করছে সেখানে কারও দেখার সুযোগ থাকে না।
কিছু না কিছু প্রশ্ন সারা জীবনই রিপিট হয়। আমরা যখন পড়েছি তখন গত ১০ বছরের প্রশ্নপত্র দেখে পড়েছি। কোনও প্রশ্নই রিপিট হবে না এটা অসম্ভব। তবে হুবহু না হওয়াই উচিত। ইতোমধ্যে সনাক্ত করেছি ওই প্রশ্নপত্র কে করেছেন। সেটি আমরা দেখবো। ’
এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র বিতরণে বিশৃঙ্খলার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রশ্নপত্র বিতরণে সমস্যা হয়েছে প্রথম দিন। ৫২ হাজার কক্ষে পরীক্ষা হয়। সেই ৫২ হাজারের মধ্যে ১৫টি কক্ষে সমস্যা হয়েছে। সংখ্যার হিসেবে এটা খুবই নগন্য, কিন্তু সেটিই বা কেনও হবে।
এই সমস্যাগুলো পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষার উৎকণ্ঠায় না দেখতে পারেন কিন্তু যারা দায়িত্বে থাকেন তাদের তো দেখবার কথা। মূলত নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র নিয়ে সমস্যাটি হয়েছে।
এসব ক্ষেত্রে সব কিছু আলাদা করে রেখেছি যাতে পরীক্ষার্থীরা কোনওভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এসব সমস্য শূন্যের কোটায় নিয়ে আসার চেষ্টা আমাদের অব্যাহত আছে।