রবিবার ১৫ই মার্চ, ২০২৬ ইং ১লা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পাল্টাচ্ছে যুবলীগের রাজনীতি

আকাশবার্তা ডেস্ক :

গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসেও রাজধানীসহ সারা দেশের রাস্তাঘাট, অলিগলি ছিলো যুবলীগের দখলে। যুবলীগের নামে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের বিশাল বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন শোভা পেতো।

মূলত এসব প্রচারণা দলের চেয়ে নিজেদের কর্তৃত্ব হাসিলের চেষ্টা ছিলো দৃশ্যনীয়। কিন্তু হঠাৎ করে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরুর পর পাল্টে যেতে শুরু করে চিত্র।

শুদ্ধি অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসাসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে যুবলীগের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতাদের জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে। অভিযানে আটক ও পদ হারান সংগঠনটির একাধিক প্রভাবশালী নেতা। অব্যাহতি দেয়া হয় তৎকালীন যুবলীগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরীকে। লাপাত্তা হয়েছেন অন্তত অর্ধশতাধিক নেতা।

যুবলীগের মতো একটি সংগঠিত ও শক্তিশালী সংগঠনের এ ধরনের বিতর্কিত নেতাদের নিয়ে সারা দেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে ত্যাগী, মেধাবী এবং পরীক্ষিত নেতাদের নেতৃত্বে আনার উদ্যোগ নেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পরবর্তীতে গত বছরের ২৩ নভেম্বর সপ্তম জাতীয় কংগ্রেসে যুবলীগের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশ এবং সাধারণ সম্পাদক হন দীর্ঘ সময় যুবলীগের রাজনীতিতে স্বচ্ছ পরিচ্ছন্ন নেতা হিসেবে পরিচিত মাইনুল হোসেন খান নিখিল।

পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর যুবলীগের ঐতিহ্য ফিরিয়ে এনে ক্যাসিনো, দুর্নীতি, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ও বিতর্কমুক্ত যুবলীগ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন শীর্ষ দুই নেতা। নির্বাচিত হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই সংগঠনে শৃঙ্খলা ফেরাতে দেন কঠোর সাংগঠনিক নির্দেশনা।

কেন্দ্রের পাশাপাশি মহানগর, জেলা-উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডপর্যায়ের যুবলীগকেও ঢেলে সাজাতে যুবলীগের নামে আত্মপ্রচারের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

জেলা-মহানগরাধীন উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড নেতারা পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড, বিলবোর্ড করার পূর্বে ওয়ার্ড নেতৃবৃন্দ ইউনিয়ন ও মহানগর নেতৃবৃন্দের, ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ উপজেলা নেতৃবৃন্দের, উপজেলা নেতৃবৃন্দ জেলা নেতৃবৃন্দের এবং জেলা-মহানগর নেতৃবৃন্দ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের অনুমতি নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়।

সংগঠনের অননুমোদিত কোনো ব্যক্তি পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড, বিলবোর্ড বানাতে পারবেন না। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড এবং মহানগর, মহানগরাধীন থানা, ওয়ার্ড, ইউনিট কমিটি বিলুপ্ত করা বা নতুন করে গঠন করার নির্দেশনা দেন চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক।

তৃণমূলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার অংশ হিসেবে প্রতিনিধি সভার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকা বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় মহানগর, জেলা-উপজেলাপর্যায়ের নেতারা অংশ নেবেন।

সভায় প্রতিনিধিদের কাছ থেকে সাংগঠনিক তথ্য নেয়া হবে, এরপর তৃণমূলকে সুসংগঠিত করতে সাংগঠনিক নির্দেশনা দেবেন যুবলীগ চেয়ারম্যান। এছাড়া মুজিববর্ষ ঘিরে তৃণমূলের প্রতিটি জনগণের দ্বারে জাতির জনকের আদর্শ তুলে ধরতে যুবলীগের উদ্যোগে কর্মসূচির রূপরেখা তুলে ধরা হবে।

জানতে চাইলে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল আমার সংবাদকে বলেন, যুবলীগ চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই যুবলীগের ঐতিহ্য ফেরাতে কাজ করছি।

তৃণমূল থেকে কেন্দ্র ঢেলে সাজানো হবে। মুজিব আদর্শের যুবকদের যুবলীগের নেতৃত্বে আনা হবে। এরই অংশ হিসেবে আগামীকাল (আজ) ঢাকা বিভাগের সভা ডাকা হয়েছে। সভায় তৃণমূলকে শক্তিশালী করতে সাংগঠনিক নির্দেশনা দেয়া হবে।

যুবলীগ সূত্র মতে, হাইকমান্ডের কঠোর নির্দেশনার পর যুবলীগের রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তন আসে। যুবলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনে শীর্ষ নেতা নির্বাচন পরবর্তী এবং সদ্য অনুষ্ঠিত ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পর রাজধানীতে কোথাও যুবলীগের বিলবোর্ড বা ব্যানার দেখা যায়নি।অন্য সময় হলে গোটা ঢাকা বিলবোর্ডে ছেয়ে যেতো।

সূত্র আরও জানায়, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই যুবলীগকে ঢেলে সাজাতে মনোযোগী হন চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক। দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ব্যস্ত থাকার কারণে কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কাজ কিছুটা বিলম্ব হলেও গত সপ্তাহ থেকে কাজ প্রক্রিয়াধীন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী- ত্যাগী, পরিচ্ছন্ন ও মেধাবী নেতৃত্ব আনতে কাজ করছেন তারা। কেন্দ্রীয় কমিটিতে বিতর্কিত এবং ভিন্নপন্থি কাউকে ঠাঁই না দিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন তারা। এজন্য পদপ্রত্যাশী নেতাদের দপ্তরে জমাকৃত বায়োডাটা অধিকতর যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

পদপ্রত্যাশী নেতাদের এবং পরিবারের ইতিহাস সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে পদে আনা হবে। কোনোভাবেই স্বাধীনতাবিরোধী পরিবার, ভিন্নমতের এবং বিতর্কিত কাউকে যুবলীগের রাজনীতিতে সুযোগ না দিতে কঠোর অবস্থানে দুই নেতা।

এ বিষয়ে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, স্বাধীনতাবিরোধী কারো যুবলীগে ঠাঁই হবে না। আমরা কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছি।

সূত্র : দৈনিক আমার সংবাদ।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১