আকাশবার্তা ডেস্ক :
আগামী ১৭ মার্চ ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকীর বর্ষব্যাপী উদযাপন অনুষ্ঠানে নরেন্দ্র মোদির অংশ নেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ উদ্দেশ্যে ১৬ মার্চ বাংলাদেশ সফরে আসতে পারেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান বক্তা হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ভারতের নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইন নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান বিক্ষোভ, বিশেষ করে দিল্লিতে হওয়া টানা সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও হতাহতের ঘটনাকে সামনে রেখে অনেকেই এ অবস্থায় মোদিকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে।এমনকি তাকে না আনার জন্য ক্যাম্পেইনও হচ্ছে।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনে কক্ষে সমসাময়িক ইস্যুতে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমাদের দেশেও রাজনীতিতে বিভিন্ন বিষয়ে ভিন্নমত রয়েছে। এ নিয়ে সরকার আর বিরোধী দলের মধ্যে সম্পর্কটা সুখকর নয়।
ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সাহায্যকারী ও সবচেয়ে বড় মিত্র দেশ ভারত। বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্বকে আমরা বাদ দেবো-এটাতো চিন্তাও করা যায় না।
ওবায়দুল কাদের বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সাহায্যকারী ও মিত্র দেশ হিসেবে ভারতে মুজিববর্ষে আমন্ত্রণ করেছি। তাদের দেশের অভ্যন্তরের কোনো বিষয়ে যে সংঘাত, সংঘর্ষ, রাজনৈতিক বিরোধ- এটা চিন্তা করে তো আমরা তাদের আমন্ত্রণ জানাইনি।
আর তাদের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে আমাদের এখানে কোনো বিরোধ- প্রতিক্রিয়া হলে এ বিষয়ে আমরা ভারত সরকারের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করেই সমাধান করতে পারি। কিন্তু এ রকম একটা অনুষ্ঠানে সবচেয়ে বড় মিত্র দেশ ভারত এবং স্বাধীনতার যুদ্ধে সহযোগিতাকারী প্রধান দেশ হিসেবে সে দেশের প্রতিনিধিত্বকে আমরা বাদ দেবো- এটাতো চিন্তাও করা যায় না।
তিনি বলেন, মুজিববর্ষ বাংলাদেশের জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের বিষয়। অনেক আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেছি। ভারতকে আমন্ত্রণ জানানোর মূল কারণ-তারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় সহযোগিতা করেছে। আমাদের শরণার্থীদের সাহায্য করেছে। ভারতই আমাদের অস্ত্র ও ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করেছে।
সর্বোপরি মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর যৌথ কমান্ডে মুক্তিযুদ্ধের শেষ অংশে আমরা বিজয় ছিনিয়ে এনে ছিলাম। এখানে আমাদের রক্তের সঙ্গে ভারতের রক্ত মিশে আছে। কাজেই ভারতকে এই মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না জানানো তো কৃতঘ্নতার পরিচয়। পাশাপাশি অসম্পূর্ণ একটা বিষয় হিসেবে থেকে যায়।
করোনাভাইরাস বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন করোনা থেকে বাঁচতে সর্বোচ্চ সতর্কতা এবং প্রস্তুতি বাংলাদেশের রয়েছে।