আকাশবার্তা ডেস্ক :
বঙ্গবন্ধুকন্যার হাতকে আরও শক্তিশালী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানালেন লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মেয়র আবু তাহের। তিনি বলেন, জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করাই আমার প্রধান লক্ষ্য। সম্প্রতি রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে আমার সংবাদের সাথে একান্ত আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আমার সংবাদের নিজস্ব প্রতিবেদক রফিকুল ইসলাম
প্রশ্ন : মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি কিভাবে নিলেন।
আবু তাহের : ১৯৭১ সাল। শুরু হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ। লক্ষ্মীপুর বর্ডার থেকে পালিয়ে যাই ভারতে। উঠলাম পাতাওয়ালা একটি শরণার্থী শিবিরে। সেখান থেকে উদয়পুর ক্যাম্পে। ওই ক্যাম্পটি উদ্বোধন করেছিলেন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী।
এখনো মনে পড়ে সেদিন ট্রেনিংয়ের অপেক্ষায় থাকা আড়াই হাজার মুক্তিযোদ্ধার রান্নার দায়িত্ব নিয়েছিলাম নিজেই। এরপর প্রতি গ্রুপে দেড়শজনের ট্রেনিং শুরু হয়। ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণ দেন। প্রথমে ওখানেই রাইফেল, এলএমজিসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রের ট্রেনিং নেই।
প্রশ্ন : প্রশিক্ষণ শেষে যুদ্ধের ময়দানে কীভাবে ফেরা।
আবু তাহের : ট্রেনিং শেষে দেশে ফিরেই ফেনীর সীমান্ত এলাকায় সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেই। মহুরী নদীর কাছাকাছি ছিলো পাক সেনাদের একটি ক্যাম্প। নদী দিয়ে যাচ্ছিলো পাক সেনাদের ১৮টি স্পিড বোট। সেখানে মর্টার হামলা চালাই। কর্নেল জাফর ইমাম ছিলেন আমাদের কমান্ডার। তীরবর্তীস্থান থেকে গুলি করতে শুরু করি। সবগুলো স্পিডবোট ভাসতে থাকে।
আমি নিজে একজন পাকবাহিনীর সদস্যকে ক্যাম্পে ধরে নিয়ে আসি । ক্যাম্পে তাকে দুই হাত ও দুই পা বেঁধে ঝুলিয়ে রাখি। এরপর লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন এলাকায় সরাসরি যুদ্ধ করি। প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ হওয়ার কারণে আর্টিলারি গ্রুপ কমান্ডার হিসেবে পরশুরাম, মহুরী নদী, কোম্পানীগঞ্জ, রামগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর, রায়পুর, চাটখিল, বেগমগঞ্জ ইত্যাদি সেক্টরের এলাকায় বীরত্বের সাথে সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। ৪ ডিসেম্বর স্বাধীন হয় লক্ষ্মীপুর। পরে স্বাধীন হয় দেশ।
প্রশ্ন : দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে কখন দেখা হয়?
আবু তাহের : দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধু একদিন ডেকে পাঠালেন আমাকে। তোফায়েল ভাই আমাকে বঙ্গবন্ধুর কাছে নিয়ে গেলেন। আমি বঙ্গবন্ধুর পায়ের কাছে গিয়ে বসলাম। এসময় বঙ্গবন্ধু আমার এবং লক্ষ্মীপুরের সাধারণ মানুষের বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর নিলেন। সেখানে উপস্থিত জাতীয় চার নেতার সামনেই বঙ্গবন্ধু আমাকে ‘মুজিববাদী তাহের’ নাম দিলেন।
স্বাধীনতা-পরবর্তী অস্থিরতা প্রসঙ্গে মুজিববাদী এ নেতা বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে দেশের ভেতরেও লুকিয়ে ছিলো একটি অশুভ চক্র। যুদ্ধকালীন সময়ের অস্ত্র জমা না দিয়ে এরা শুরু করে অরাজকতা। বঙ্গবন্ধুর বিপরীতে অবস্থান নেয় এরা। চরমপন্থি উগ্রবাদ কোথাও কোথাও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।
লক্ষ্মীপুরও এর বাইরে নয়। বরং উগ্রবাদীদের ঘাঁটি হয়ে উঠেছিলো লক্ষ্মীপুর। জরুরিভিত্তিতে বঙ্গবন্ধু আমাকে ডেকে পাঠালেন। আমি দেখা করলাম। তিনি বললেন, লক্ষ্মীপুর তো স্বাধীন হলো না। চরমপন্থি-নকশালের ঘাঁটি হয়েছে। এগুলো মুক্ত করতে হবে। দায়িত্বটা তিনি আমাকে দিলেন। সাথে পরামর্শ দিলেন কিভাবে কি করতে হবে। তার নির্দেশনায় সরকারি কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় লক্ষ্মীপুর থেকে চরমপন্থি নির্মূল করি।
প্রায় প্রতিদিনই পুকুর থেকে, বিভিন্ন বাড়ি থেকে কিংবা চরমপন্থিদের আস্তানা থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে ভূমিকা রাখি। ১৯৭৫ সালের ১১ আগস্ট পর্যন্ত এ কাজটি করি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিলো সুন্দর একটি দেশ। কিন্তু দেশ বিরোধীরা তার এ স্বপ্ন পূরণ হতে দিলো না।
প্রশ্ন : রাজনীতিতে কীভাবে এলেন?
আবু তাহের : ছাত্রজীবন ও রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কে আবু তাহের বলেন, ৬১ সাল। তখন সপ্তম শ্রেণিতে পড়ি। সরকারি সামাদ উচ্চবিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাজনৈতিক জীবনের যাত্রা শুরু হয়। ১৯৬৮-৬৯ এর আইয়ুববিরোধী ও ১৯৬৯ সালের ৬ দফা আন্দোলনে মুজিব আদর্শের সদস্য হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করি।
১৯৬৯ সালে বৃহত্তর নোয়াখালী জেলার ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে দীক্ষিত, অনুপ্রাণিত ও আস্থাভাজন হয়ে বঙ্গবন্ধুর সব কাজে-কর্মে ও রাজনীতিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করি।