সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরে গুলি করে সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধানকে হত্যা লক্ষ্মীপুরে ৫ কোটি টাকা পাওনা আদায়ে ব্রিকফিল্ড মালিকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন : চলছে সংস্কার কাজ মান্দারী ক্লাবের কমিটি ঘোষণা : সভাপতি বাবলু, সম্পাদক জাহিদ  লক্ষ্মীপুরে যুবলীগ নেতাকে মব করে অপহরণ, ছাত্রদল নেতা আটক লক্ষ্মীপুরে বাজুসের নির্বাচনে চেয়ারম্যান সমীর, সেক্রেটারী পলাশ লক্ষ্মীপুরে বাজুসের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে চলছে ভোট গ্রহণ চন্দ্রগঞ্জে ১২ মামলার পলাতক আসামি শাহাদাত গ্রেপ্তার শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা : হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল লক্ষ্মীপুর বাজুস নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের সভা লক্ষ্মীপুরে ছুরিকাঘাতে শিশু নিহত, ঘাতক পলাতক

মহান মে দিবস আজ

আকাশবার্তা ডেস্ক :

আজ মহান মে দিবস বা আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। মানব সভ্যতা গড়ে উঠেছে শ্রমিকেরই শ্রমে, ঘামে। গিজার পিরামিড, আগ্রার তাজমহল, চীনের মহাপ্রাচীর, প্যারিসের আইফেল টাওয়ারসহ যে স্থাপনার কথাই বলা হোক না কেন সেখানে মিশে আছে অগণিত শ্রমিকের শ্রম। অথচ বরাবরই সমাজের শোষিত ও অবহেলিত অংশ শ্রমজীবী মানুষ। যারা তৈরি করেন বিশাল স্থাপনা, যারা শ্রম দেন কারখানায়, যাদের হাতে ঘোরে অর্থনীতির চাকা। বণ্টন ব্যবস্থার নির্মম বিচারে সেই শ্রমজীবী মানুষ বাস করেন বস্তিতে, তাদেরই ঘরে থাকে না অন্ন, তারা পরেন মলিন কাপড় আর তারাই বঞ্চিত চিকিৎসা ও শিক্ষা থেকে। মহান মে দিবস শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার ঘোষণার দিবস।

শিল্প বিপ্লবের পর থেকেই ইউরোপজুড়ে প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে শিল্প কারখানা। এসব কারখানায় মূলত ভূমিহীন চাষি, ভূমিদাস ও ছিন্নমূল জনগোষ্ঠীকে শ্রমিক হিসেবে নিয়োজিত করা হয়। প্রথম থেকেই কারখানায় শ্রমিকরা মালিকের শোষণ ও নিপীড়নের শিকার হতে থাকে। সে সময় কারখানায় নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ন্যূনতম বয়সসীমা ছিল না। কোনো নির্দিষ্ট শ্রম ঘণ্টাও মানা হতো না। ছিল না ন্যূনতম মজুরির বিধান এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা। নিতান্ত শিশুদেরও অমানুষিক পরিশ্রম করানো হতো। ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করানো হতো নারীদেরও। দিনে ১০ থেকে ১৪ ঘণ্টাও শ্রম দিতে বাধ্য করা হতো শ্রমিকদের। খাবারের জন্য ছুটির ব্যবস্থা ছিল না। মালিকপক্ষ যেমন খুশি মজুরি দিত।

ধীরে ধীরে এসব নির্যাতন ও অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হতে থাকে। শ্রমিকরা সংগঠিত হতে থাকেন।

আঠারশ শতকের মধ্যভাগ থেকেই ইউরোপ ও আমেরিকায় শ্রমিকরা বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে নিজেদের অধিকার আদায়ে সংগঠিত হতে থাকেন। ১৮৮৪ সাল থেকেই শ্রমিকরা ১৮৮৬ সালের ১ মের মধ্যে ৮ ঘণ্টা শ্রমদিবস কার্যকর করার দাবি জানাতে থাকেন। কিন্তু মালিকপক্ষ সে দাবি মেনে নেয় না। ১৮৮৬ সালের ৪ মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটে শ্রমিকরা সমাবেশ করেন। ৮ ঘণ্টা কর্মসময় নির্ধারণের দাবিতে এই সমাবেশ চলছিল। অদূরে ছিল পুলিশের দল। এই সময় আন্দোলনকে ভন্ডুল করার জন্য অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তি পুলিশের ওপর বোমা নিক্ষেপ করে। শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও পুলিশের গুলিবর্ষণ। আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণে ৪ জন শ্রমিক নিহত হন। একজন পুলিশ কর্মকর্তাও নিহত হন। পরদিন ৫ মে উইসকনসিনের মিলওয়াকিতে ধর্মঘটরত শ্রমিকদের ওপর পুলিশের গুলিতে এক বালকসহ ৭ জন নিহত হন। পুলিশ হত্যার দায়ে গ্রেপ্তার হন অগাস্ট স্পিসসহ ৮ শ্রমিক নেতা। ১৮৮৭ সালের ১১ নভেম্বর অগাস্ট স্পিসসহ ৬ শ্রমিক নেতাকে প্রকাশ্যে ফাঁসি দেওয়া হয় যদিও তারা ছিলেন নিরাপরাধ। একজনের ১৫ বছরের জেল হয়। আরেকজন বন্দি অবস্থায় আত্মহত্যা করেন। সেই বোমা নিক্ষেপকারীর পরিচয় অজানাই থেকে যায়।

১৮৮৯ সালে প্যারিসে ফরাসি বিপ্লবের শতবর্ষে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিকের প্রথম কংগ্রেসে শিকাগোর শ্রমিক আন্দোলন স্মরণে প্রতিবছর পহেলা মে উদযাপনের ঘোষণা দেওয়া হয়। পরের বছর দ্বিতীয় কংগ্রেসে এই প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রমিক সংগঠনসমূহ দ্বারা গৃহীত হয়।

১৯০৪ সালে নেদারল্যান্ডসের অ্যামস্টারডামে অনুষ্ঠিত কমিউনিস্টদের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দৈনিক ৮ ঘণ্টা শ্রমসময় নির্ধারণের দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে সারা বিশ্বের মেহনতী মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য পহেলা মে দিবসে কাজ বন্ধ রাখা এবং শান্তিপূর্ণ মিছিল ও সমাবেশ আয়োজনের আহ্বান জানানো হয়। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শ্রমিক সংগঠন, ট্রেড ইউনিয়ন এবং কমিউনিস্ট ও বামপন্থি সংগঠনগুলো মে দিবসে শ্রমিকদের কর্মবর্জন ও মিছিল-সমাবেশের আয়োজন করতে থাকে। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পূর্ব ইউরোপের সাবেক কমিউনিস্ট দেশগুলোতে পহেলা মে সাধারণ ছুটি এবং শ্রমিক দিবস হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হতো। বর্তমানে চীন, উত্তর কোরিয়া, কিউবা ও কমিউনিস্ট ভাবাপন্ন বিভিন্ন দেশে মে দিবস গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হয়।

ভারত, বাংলাদেশসহ এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ ও আমেরিকা মহাদেশের ৮০টিরও বেশি দেশে মে দিবস সাধারণ ছুটি ও শ্রমিক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে থাকে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে মে দিবস শ্রমিক দিবস হিসেবে পালিত হয় না। যুক্তরাষ্ট্রে সেপ্টেম্বর মাসে শ্রমিক দিবস পালিত হয়।

পাকিস্তান আমলে মে দিবস পালন সরকারিভাবে নিষিদ্ধ থাকলেও বামপন্থি ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল ও ট্রেড ইউনিয়নসহ শ্রমিক সংগঠনগুলো দিনটি পালন করত।

স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে পহেলা মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে সাধারণ সরকারি ছুটি পালন করা হয়।

শ্রমিকের অধিকার আদায়ের দিবস হলো মে দিবস। পোশাক শিল্পসহ অন্যান্য শিল্পে শ্রমিকদের নিরলস শ্রমই চালু রেখেছে অর্থনীতির চাকা। বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক প্রবাসী শ্রমিক আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান আয়কারী। শুধু কারখানা শ্রমিক নয়, কৃষি শ্রমিক থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে শ্রমিকরাই তাদের শ্রমে-ঘামে এদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। রানা প্লাজা ট্র্যাজেডিসহ বিভিন্ন সময়ে দুর্ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানির শিকার হয়েছেন এদেশের শ্রমিকরা। উন্নয়নের স্বার্থে শ্রমিকের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বিষয়। শ্রমিকের নিরাপত্তাসহ সকল প্রকার ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা মে দিবসের অঙ্গীকার।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণী দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপরসন বেগম খালেদা জিয়াও। এ ছাড়া বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা শ্রমজীবী মানুষদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।

এ ছাড়া বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় পার্টি, জাতীয় শ্রমিক লীগ, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল, জাতীয় শ্রমিক জোট, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি, সিপিবি, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন, জাসদ, গণফোরামসহ পোশাকশিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের বিভিন্ন সংগঠন পৃথকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে শ্রমিক সমাবেশ, শোভাযাত্রা, আলোচনাসভা, সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রয়েছে।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

October 2026
S S M T W T F
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31