রবিবার ১৫ই মার্চ, ২০২৬ ইং ১লা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সরকারের করুণা চায় পরিবার-বিএনপি

আকাশবার্তা ডেস্ক :

  • প্যারোল আবেদনে সামনে শামীম ইস্কান্দার পেছনে: মির্জা ফখরুল 
  • খালেদা জিয়ার মুক্তি-পরবর্তী হিসাব মেলাচ্ছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি
  • আন্দোলন না করে খালেদার জন্য কাকুতি-মিনতি করছে বিএনপি : নাসিম
  • চিকিৎসকরা খালেদার চিকিৎসার্থে সুপারিশ করলে তবেই বিবেচনাযোগ্য : কাদের

২ বছর ৩৩ দিন কারাগারে খালেদা জিয়া। দীর্ঘ সময়ে আন্দোলনে ব্যর্থ দল। আইনি পথও অন্ধকার। নেই কার্যত নেতৃত্ব। অবশেষে খালেদা জিয়াকে জীবন্ত পেতে রাষ্ট্রের কাছে করুণা চেয়েছে পরিবার ও বিএনপি।

মানবিক কারণে খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা চেয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিঠি দেয়ার পর সমপ্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে চিঠি দেয় পরিবার। সেই চিঠি যায় আইন মন্ত্রণালয়ে।

সরকারের সবুজ ইঙ্গিতেই বিএনপি গোপনে এমন আবেদন করে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বছরে রাজনৈতিক সমঝোতায় খালেদা জিয়া মুক্তি পেতে পারেন এমন খবর এখন বিএনপির নীতিনির্ধারক মহলে।

এছাড়া গতকাল এক আইনজীবী মানবিক কারণে খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন। তার অনুলিপি আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংসদ সচিবালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

পর্দার আড়ালে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য সবকিছুই ঠিক হয়ে আছে। সরকার চায় মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী চাপ প্রয়োগ ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে পালন করতে।

অন্যদিকে বিএনপি চায়,ব্যর্থতা ডেকে শুধু রাজনীতিতে টিকে থাকতে। ভেতরে ভেতরে মুক্তির বিষয়টি অনেক এগুলেও ক্ষমতাসীন দল ও বিএনপি বিষয়টি কেউ স্বীকার করছে না। খালেদা জিয়ার মুক্তির পর রাজনৈতিক মাঠে কী প্রভাব পড়তে পারে দুই দলই হিসাব মেলাচ্ছে।

বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর, মানবিক কারণে আবেদনের কথা বললেও বিএনপি মূলত প্যারোলের আবেদনই করেছে। সামনে থেকে খালেদা জিয়ার ভাই শামীম ইস্কান্দার সবকিছু এগিয়ে নেন আর পেছন থেকে সবকিছু পরিচালনা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তথ্যফাঁসের ভয়ে সতর্কতার সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয়টি এখনো গোপন রাখা হচ্ছে। দলের একাধিক নেতার সঙ্গে এ নিয়ে কথা বললে সবাই বিষয়টি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের ওপর চাপিয়ে দেন। খালেদা জিয়ার মুক্তিতে দলের কী করণীয় দীর্ঘ দুই বছরেও তারা কোনো ম্যাসেজ পাননি।

আলাদা কোনো বৈঠক হয়নি। দলের নেতাকর্মীর শক্তির চাইতে মহাসচিবের কাছে গুরুত্ব ছিলো বছরজুড়ে ড. কামাল হোসেনরা। এমন বলেই অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে নির্বাচনে অংশগ্রহণ, সংসদে গিয়ে সরকারকে বৈধতা ও নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিকল্পিত ছকের মতো এবারো খালেদা জিয়ার মুক্তি মহাসচিব ও সরকারের সঙ্গে সমঝোতায় হচ্ছে এমন ভাষ্য বিএনপির একটি নীতিনির্ধারক সূত্রের।

গতকাল বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দণ্ড মওকুফ করে তার কারামুক্তি চেয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ।

রেজিস্ট্রি ডাকযোগে রাষ্ট্রপতি ও প্রধামমন্ত্রী বরাবর এ আবেদনটি পাঠানো হয়। আবেদনের অনুলিপি আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংসদ সচিবালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়েছে, ‘সংবিধানের প্রস্তাবনা ১১, ৪৮(৩)৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মানবিক কারণে দণ্ড মওকুফের পাশাপাশি কারামুক্তির আবেদন করছি।’

তিনি বলেন, ‘মুজিবশতবর্ষ পালনের দিন (১৭ মার্চ) উপলক্ষে খালেদা জিয়াকে যেকোনো শর্তে সব ধরনের দণ্ডের মার্জনা, বিলম্বন ও বিরাম মঞ্জুর করার এবং যেকোনো ধরনের দণ্ড স্থগিত বা হ্রাসের আবেদন করছি।’

খালেদা জিয়ার মুক্তির আবেদন বিষয়ে আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মানবিক কারণে জনস্বার্থে আমি এ আবেদনটি করেছি। খালেদা জিয়া একজন প্রথম শ্রেণির নাগরিক এবং তিনি একজন বয়স্ক মহিলা।’

ইউনুস আলী আকন্দ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকার একটি আসন থেকে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন নিয়ে অংশ নেন।

এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবী বিএনপির আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল আমার সংবাদকে বলেন, ম্যাডামের আইনগত মুক্তির জন্য যা যা করা দরকার আমরা আইনজীবীরা করে যাচ্ছি। আমরা আদালতের ওপর আস্থা রেখে মুক্তি চাচ্ছি, যদিও বারবার খারিজ হয়ে যাচ্ছে।

এরপরও খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আইনের পাশাপাশি আন্দোলন বা অন্য কোনো রাজনৈতিক পদক্ষেপ রয়েছে কিনা তা বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেখছেন।

এ বিষয়ে আপনারা মহাসচিবকে জিজ্ঞেস করুন ওনারা কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন।

খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য এক আইনজীবী নিজ উদ্যোগে মুজিববর্ষ উপলক্ষে মানবিক কারণে জামিন চেয়েছেন, এ বিষয়ে জানতে চাইলে কায়সার কামাল বলেন, উনি কোনো বিএনপির আইনজীবী নন, কী জন্য তিনি আবেদন করেছেন আমরা জানি না।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী জাতীয়তাবাদী দলের আইনজীবী সমর্থকরা। যে আইনজীবী আবেদন করেছেন তিনি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আবেদন করেননি। এ বিষয়ে আমরা কিছু জানি না।

মানবিক কারণ দেখিয়ে পরিবার আবেদন করলেই খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেছেন, ‘পরিবার বা দলের নেতার কথায় দণ্ডিত আসামি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে না। তবে চিকিৎসকরা তার চিকিৎসার্থে কোনো সুপারিশ করলেই কেবল তা বিবেচনাযোগ্য।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যেহেতু মানবিক কারণে বা চিকিৎসার জন্য বেগম জিয়ার জামিন আবেদন আদালত একাধিকবার নাকচ করে দিয়েছে তাই পরিবারের আবেদনে খালেদা জিয়াকে মানবিক কারণে মুক্তি দেয়ার সুযোগ নেই।’

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া দণ্ডিত হয়ে কারাগারে আছেন। আদালত তার জামিন আবেদন একাধিকবার নাকচ করেছেন। এখন পরিবারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মানবিক কারণে চিকিৎসার্থে তার মুক্তি চেয়ে যে আবেদন করা হয়েছে তার মূল্য নেই।

সেতুমন্ত্রী আরও বলেন, খালেদা জিয়ার বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা প্রয়োজন, এ কথা শুধু তার দলের নেতা বা পরিবোরের লোকজন বলছেন। খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকরা সে কথা বলছেন না। তাই স্বভাবতই দল বা পরিবারের কথায় তার জামিন বা মুক্তির সুযোগ নেই।

এছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে একজন ‘দায়িত্বহীন’ ব্যক্তি অভিহিত করে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ‘তার (ফখরুল) কোনো দায়িত্ববোধ নেই।

তাই তাদের নেত্রীর (খালেদা জিয়া) মুক্তির জন্য তাকে কাকুতি-মিনতি করতে হয়। আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করে আমাদের নেত্রীকে (শেখ হাসিনা) মুক্ত করেছিলাম। কাকুতি-মিনতি করিনি কখনো।’

মির্জা ফখরুলকে ইঙ্গিত করে নাসিম বলেছেন, ‘সে কিভাবে বলতে পারে- বিদেশি অতিথিরা আসবে না, তাই মুজিববর্ষের প্রোগ্রাম বাতিল করা হয়েছে। এটাও একটা হাস্যকর ও দায়িত্বহীন বক্তব্য।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, রাজনীতিকদের মুক্তি হয় রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমে কিন্তু আমাদের নেত্রী (বিএনপি চেয়ারপারসন খালোদা জিয়া) জেলখানায় যাওয়ার পর আমরা এমন কোনো আন্দোলন করতে পারি নাই যে সরকার তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হবে।

আর আন্দোলনের কোনো আওয়াজও আমরা আদালতে দিতে পারিনি। আর বেগম জিয়াকে মুক্তি না দিলে জজদের ওপরে জনগণ ক্ষুব্ধ হবে। এই বার্তাও আমরা দেইনি।

বিএনপিপন্থি বুদ্ধিজীবী ও গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী আমার সংবাদকে বলেন, বিএনপি যদি খালেদা জিয়ার মুক্তি চায়, তাহলে তাদের উচিত দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী যেন রাস্তায় বসে থাকে।

চাপ প্রয়োগ ছাড়া খালেদা জিয়া মুক্ত হবেন না। খালেদা জিয়ার জীবনের জন্য এখন সঠিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। কিন্তু এখনো বিএনপির সময়জ্ঞান নেই। খালেদা জিয়ার প্রেসার এখন ১৩-১৪।

খালেদা জিয়া যেকোনো মুহূর্তে পুরো অবশ হয়ে যেতে পারেন। এখনো সঠিক সিদ্ধান্ত কেন বিএনপি নিতে পারছে না। কারণ তাদের সিদ্ধান্ত আসে বিলেত থেকে। যে প্রক্রিয়ায় হোক খালেদা জিয়ার এখন মুক্তি প্রয়োজন।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১