আকাশবার্তা ডেস্ক :
বাংলাদেশসহ প্রায় সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে ভয়াবহ করোনাভাইরাস। দেশে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় প্রয়োজনে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হবে।
এছাড়াও প্রয়োজনে দেশের কিছু কিছু জায়গা শাট ডাউন করা হবে বলে জানিয়েছেন সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
বুধবার (১৮ মার্চ) সকালে করোনা নিয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন সেতুমন্ত্রী।
অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে শাটডাউন করতে হয়, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রস্তুতি আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে শার্টডাউন করা হবে।
যেখানে শাটডাউন প্রয়োজন, করা হবে। সবার আগে মানুষকে বাঁচাতে হবে। সেজন্য যা যা করণীয় করা হবে। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের ডিরেক্টর জেনারেল গতকাল যযে বক্তব্য দিয়েছেন, সেখানে কথা একটাই ছিল টেস্ট টেস্ট অ্যান্ড টেস্ট, তিনবার এটি উচ্চারন করেছে।
তিনি বলেছেন, টেস্টের উপর গুরুত্ব দেয়া উচিত, আমরাও সেটি অনুসরন করে এগিয়ে যাবো।
তিনি বলেন, আমেরিকার মতো বিরাট শক্তি সেখানেও বিভিন্ন এয়ারপোর্টে স্ক্রিনিং বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছিল। আমাদের তো অভিজ্ঞাতা নেই। তবুও ভুল থেকে শিক্ষা নিচ্ছি। পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য যা প্রয়োজন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তবুও সতর্কভাবে করোনা মোকাবেলার সকল প্রস্তুতি নেবো। এ ব্যাপারে কি করণীয় মিডিয়ার সাজেশনও প্রয়োজন। সম্মিলিত প্রয়াসের চেয়েও শক্তিশালী।
সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, করোনা প্রতিরোধে সরকারিভাবে কঠোর নজর দেবো। সাংবাদিকরাও সঠিক রিপোর্ট করবেন। এখানে প্রাণ বাঁচানোর বিষয়। প্রাণঘাতি ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছি। এখানে রাজনীতি না করে সকল রাজনৈতিক দলের কাছে অনুরোধ, করোনা অভিন্ন শত্রু, কোন পলিটিক্স না করে ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা করতে হবে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, সারাবিশ্বের জন্য এটি নতুন অভিজ্ঞতা। মানসিকভাবে আমরা ওয়েল ইক্যুয়িড। এটা একটা বড় শক্তি। যে ইক্যুয়িপমেন্ট দরকার তার যে ঘাটতি সেটি পূরণের চেস্টা করছি। ঘাটতি পূরণে আন্তরিকতার ঘাটতি নেই।
ওবায়দুল কাদের জানান, করোনাভাইরাসের কারণে আন্তঃজেলা যাত্রীবাহী যান চলাচল বন্ধের প্রয়োজন হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় করোনা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় মাস্ক, ওষুধ, কীটসসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হবে। সবার অভিন্ন শত্রু হিসেবে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় করোনা মোকাবিলা করব।
এসময় রাজনীতি না করে করোনা মোকাবিলায় এগিয়ে আসার জন্য সব দলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেছেন, পরিবহন মালিকরা হতাশ, যাত্রী কমে গেছে। এগুলো অটোমেটিকালি কমে যাবে। পরিস্থিতি কমিয়ে ফেলবে। তারপরও যদি প্রয়োজন হয় আমরা ব্যবস্থা নেব।
তিনি বলেন, আমাদের শত্রু করোনা ভয়ঙ্কর। আমরা জাতি হিসাবে গতকালও প্রমাণ করেছি ভয়ঙ্কর করোনার যে শক্তি তারচেয়েও বড় শক্তি আমাদের সম্মিলিত শক্তি। আমরা এটি পরাজিত করতে পারব বলে আশা করছি।
রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ করার বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি সভা সমাবেশে যাব না। সেজন্য বঙ্গবন্ধুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সীমিত করেছি। টুঙ্গিপাড়ায় মানুষের ঢল নামার কথা, সেখানে মানুষের উপস্থিতি সীমিত করেছি। বিশ্বব্যাপী করোনার যে আতঙ্ক তা সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলা করব। করোনা আমাদের সকলের অভিন্ন শত্রু। রাজনৈতিক যে চিন্তা চেতনা সব কিছুর ঊর্ধ্বে এখন লক্ষ্য করোনা মোকাবিলা। আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই।
উল্লেখ্য, দেশে করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত ১০ জন আক্রান্ত হয়েছেন-এমন তথ্য জানিয়েছে আইইডিসিআর। তবে দেশে বিভিন্ন স্থানে হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন অনেকে। তারা সবাই বিদেশ ফেরত। এ ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনায় কারো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।