শুক্রবার ১৩ই মার্চ, ২০২৬ ইং ২৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভেসে যাবে লকডাউন!

আকাশবার্তা ডেস্ক :

  • এখনো জনগণ সচেতন না হওয়া খুবই দুঃখজনক- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
  • দায়িত্ব ও নিয়মের অপব্যবহার করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে: মাসুদুর রহমান (ডিএমপির উপ-কমিশনার)
  • একজন থেকে অন্য কেউ আক্রান্ত হোক আমরা চাই না: ডা. সাকলায়েন রাসেল (ভাসকুলার সার্জন, ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতাল)।

বিশ্ব আক্রান্ত করোনা ভাইরাসে। বিশ্ব নেতৃত্বের বড় বড় ব্যক্তিরাও মৃত্যুর প্রহর গুনছেন। যাদের ইশারা-ইঙ্গিতে দুনিয়া কাঁপতো, তারাও আজ কুপোকাত। অসহায় সবাই। উপরের হাতের এখন সাহায্য চাচ্ছে।

বাংলাদেশও একই মিছিলে। পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের খবরও আসছে। মোকাবিলায় নেই পুরো প্রস্তুতি। ২৬ মার্চ থেকে আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত গণছুটিতে দেশ। অঘোষিতভাবে রাজধানীসহ সারা দেশে চলছে লকডাউন। ট্রেন বন্ধ, বাস নেই, বন্ধ দোকানপাট। সবাই যার যার সীমানায় আটকা।

চিকিৎসাবিদরা বলছেন, এভাবে অন্তত হোম কোয়ারেন্টাইনের ১৪ দিন বিচ্ছিন্নতা থাকতে পারলে বড় ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে। সবাইকে নিজ উদ্যোগে নিজ গৃহে অবস্থানের জন্যও বলা হচ্ছে।

একমাত্র সামাজিক বিচ্ছিন্নতাই পারে মহামারি ঠেকাতে। কিন্তু তিন দিন পার না হতেই গত শনিবার পুলিশ প্রশাসন মানবিক নির্দেশনা দিয়ে জানায়, খোলা থাকবে খাবার দোকান, চলা যাবে একা।

এরপরই মানুষজন রাস্তায় নেমে আসছে। অলি-গলির দোকানে সিগারেট, পান, চা খেতে ভিড় জমাচ্ছে। দল বেঁধে দুই-তিনজন হাঁটছে।

সরকারি গণছুটির ১০ দিন কিংবা অন্তত ১৪ দিন পার না হতেই এমন মানবিকতা— খোলা থাকবে খাবার দোকান, চলা যাবে একা, পুলিশের এ নির্দেশনায় ভেসে যেতে পারে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা। বিপর্যস্ত হতে পারে পুরো বাংলাদেশ, একজন থেকে অন্যজন আক্রান্ত হতে পারে, ভাষ্য বিশ্লেষকদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনা প্রতিরোধে অতি প্রয়োজনীয় দোকান ছাড়া অন্যান্য দোকান ও গণজমায়েত নিষিদ্ধ করেছে সরকার।

কিন্তু ঢাকার অলিগলিতে, অনেকেই মানছেন না এসব বিধি নিষেধ। চিকিৎসকরা বলছেন, খুব প্রয়োজনে যারা বাইরে যাচ্ছেন, তারা যেনো নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেলা করেন।

গত ২৬ ও ২৭ মার্চ প্রশাসনের কঠোরতায় রাজধানীতে একটা শঙ্কামুক্তের দৃশ্যপট সৃষ্টি হয়। মানুষ প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হয়নি।

এমন দৃশ্যপট দেশ সুরক্ষায় আরো কিছুদিন চান চিকিৎসকরা। করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের গণজমায়েত নিষিদ্ধ করা হলেও অনেকেই এখন মানছেন না সেই নিষেধাজ্ঞা।

নিয়ম না মেনে মানুষের মাঝে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়েও নেই কোনো সচেতনতা। নিত্যপণ্য ও খাবারের দোকান ছাড়া অন্যান্য দোকানেও একই চিত্র। সুরক্ষা নিশ্চিতে বিভিন্ন বাহিনীর অভিযান চলাকালীন এসব দোকান সাময়িক বন্ধ হলেও, কিছুক্ষণ পরই সেই আগের অবস্থা।

গতকাল রাজধানীর মিরপুর, মালিবাগ রেলগেট, পান্থপথ, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, মতিঝিলের কয়েকটি গলিতে মানুষের দল বেঁধে আড্ডা দেয়া, এক সাথে বসে চা খাওয়ার দৃশ্য চোখে পড়ে।

গতকাল বিকেলে দেখা যায়, মতিঝিলে ফুটবল ফেডারেশনের সামনে দল বেঁধে সাত-আটজন চা খাচ্ছেন।

এসময় জানতে চাইলে আসিফ নামের এক গামেন্টকর্মী বলেন, ‘গত কয়েক দিন ঘরে বন্দি থেকে বিরক্ত হয়ে যাচ্ছি। এ জন্য বের হচ্ছি। চা খাচ্ছি।’ পাশেই বসা ছিলেন ৫০-৬০ বছর বয়সি আরেক মুরব্বি।

তিনি বলেন, ‘আজ তো শুনেছি খাবার দোকান খুলে দিতে বলেছে, তাই বের হয়েছি। এ কয়দিন তো নামাজ পড়েই ঘরে চলে যেতাম। আজ দোকান খোলা দেখে চা খাচ্ছি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির জনসংযোগ শাখার উপ-কমিশনার (ডিসি) মাসুদুর রহমান আমার সংবাদকে হোটেল রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখতে আমরা বলিনি।

তবে আমরা সরাসরি খোলা রাখার ঘোষণা দিচ্ছি না। অনেক সময় যারা ব্যাচেলর আছে তারা খাবে কোথায়? এই বিবেচনায় হোটেল গিয়ে কেউ শুধু খাবার কিনতে পারবে, কিন্তু সেখানে বসে খেতে পারবে না। ভিড় জমাতে পারবে না। দূরত্বের মধ্যে থেকে খাবার কিনতে হবে।

পুলিশ সদস্যদের আরও জানানো হয়েছে যে, হোটেল ও বেকারি খোলা রাখার ক্ষেত্রে এসব দোকানে যারা কাজ করেন, তাদের স্বাধীনভাবে চলাফেরার সুযোগ দিতে হবে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দোকান খোলা থাকবে। তাদের কর্মীরাও নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারবে। একজন ব্যক্তি যেকোনো মাধ্যম ব্যবহার করে রাস্তায় চলাফেরা করতে পারবেন। তবে সে ক্ষেত্রে অবশ্য স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’

পুলিশের এমন মানবিক নির্দেশনায় অনেককে এখন সড়কে দেখা যাচ্ছে, দল বেঁধে খাবারের জন্য আসতে দেখা গেছে— এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের জায়গা থেকে যথাসম্ভব চেষ্টা করছি সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার জন্য। আমরা এখনো বলছি, আপনারা নিজ উদ্যোগে সচেতন হোন। যদি দায়িত্ব ও নিয়মের অপব্যহার করা হয়, তাহলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের ভাসকুলার সার্জন ডা. সাকলায়েন রাসেল বলেন, মানুষকে ঘরে ঢোকানোর জন্য পুলিশ পেটানোর মতো উদ্যোগ নিচ্ছে— এটা খুবই দুঃখজনক।

একজন সচেতন ব্যক্তি কখনোই এটি করতে পারেন না। সরকারের নির্দেশনা অমান্য করা জনগণের জন্য ঠিক নয়। করোনায় আপনি আক্রান্ত হোন কিংবা আপনার মাধ্যমে আপনার আপনজন কিংবা অন্য কেউ আক্রান্ত হোক, এটি আমরা কেউ চাই না।

করোনা পরিস্থিতে এখনো অনেক সচেতন নয়, সড়কে বাজারে ভিড় করছেন, দোকানপাড় খোলার নির্দেশনার পর অনেকেই রাস্তায় নামছেন এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘এখনো জনগণ সচেতন না হওয়া— এটা খুবই দুঃখজনক, আমাদের দুর্ভাগ্য।’

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১