আকাশবার্তা ডেস্ক :
বাংলাদেশ পুলিশের নবনিযুক্ত মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে র্যাংক ব্যাজ পরালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে র্যাঙ্ক ব্যাজ পরানো হয়। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিতি ছলেন।
এছাড়া অনুষ্ঠানে সদ্য সাবেক আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আজ থেকেই নতুন আইজিপি হিসেবে বেনজীর আহমেদের নিয়োগ কার্যকর হবে। গত বুধবার (৮ এপ্রিল) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
সপ্তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তা বেনজীর আহমেদ ১৯৮৮ সালে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। বেনজীর আহমেদের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জে।
র্যাবের ডিজি হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন ছয় বছরের বেশি। মেধাবী, সৎ ও চৌকোস পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে বেনজীর আহমেদের পরিচিতি রয়েছে।
তার আগে তিনি প্রায় সাড়ে চার বছর ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ছিলেন। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাবস্থায় একটি নির্দিষ্ট জেলার জন্য তার পদোন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ ছিল।
এছাড়া তিনি কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার, ডিএমপিতে ডিসি নর্থ, পুলিশ একাডেমির প্রধান প্রশিক্ষক, পুলিশ সদর দফতরের এআইজি, পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার টাঙ্গাইলের কমান্ড্যান্ট, ডিআইজি (প্রশাসন ও অপারেশনস্) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তাছাড়া জাতিসঙ্ঘের শান্তিরক্ষা বিভাগে চিফ অব মিশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট সার্ভিসেস হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত জাতিসঙ্ঘ সদর দফতরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। কর্মদক্ষতায় তিনবার জাতিসঙ্ঘ শান্তিপদক অর্জন করেন।
পুলিশের সর্বোচ্চ পদক লাভ চাকরিজীবনে সব সময় দায়িত্ববান ছিলেন বেনজীর আহমেদ। এজন্য অর্জন করেছেন পুলিশের সর্বোচ্চ পদক পুলিশ মেডেল (বিপিএম)।
২০২০ সালে ষষ্ঠ বারের মতো বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ পদক বিপিএম (সাহসিকতা) অর্জনের রেকর্ড গড়েন বেনজীর আহমেদ। এর আগে তিনি ২০১১, ২০১২, ২০১৪, ২০১৬ ও ২০১৯ সালে পদক পেয়েছিলেন।
২০১৯ সালে বেনজীর আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। ‘কনট্রিবিউশন অব বাংলাদেশ ইউএন পিস কিপিং ফোর্স টু আওয়ার ন্যাশনাল ইকোনমি’ শিরোনামে তার অভিসন্দর্ভে জাতীয় অর্থনীতিতে পুলিশ শান্তিরক্ষীদের অবদান এবং শান্তিরক্ষা মিশনে প্রায় তিন দশক দায়িত্ব পালনে লব্ধ অভিজ্ঞতা দেশের পুলিশ বাহিনী সংগঠনে ইতিবাচক পরিবর্তনে কী ধরনের ভূমিকা পালন করেছে তা তুলে আনেন বেনজীর আহমেদ।
গবেষণায় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশের বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের বিশ্বশান্তি রক্ষায় অনন্য অবদান রাখার পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরেন।
প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় শান্তিরক্ষা মিশনের ভূমিকা বস্তুনিষ্ঠভাবে তথ্য-উপাত্তের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়।
গতবছরের ২৯ নভেম্বর দক্ষিণ এশীয় দাবা কাউন্সিলের প্রথম নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচিত হন বেনজীর আহমেদ। সার্ক অঞ্চলের এই আট দেশের দাবা কাউন্সিলরদের সর্বসম্মত ভোটে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন।
এর আগে তিনি বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সভাপতি ছিলেন। এরপর শতশত দাবাড়ু তৈরি করতে কাজ শুরু করেন তিনি।
তার উদ্যোগে দক্ষিণ এশীয় আট দেশ নিয়ে ঢাকায় হয় ‘ফার্স্ট সার্ক চেজ চ্যাম্পিয়ন’ প্রতিযোগিতা। ‘বাংলাদেশ স্কুল দাবা টুর্নামেন্টের’ জন্য বেনজীর আহমেদের আহ্বানে স্পন্সর হয় আবুল খায়ের গ্রুপ।