আকাশবার্তা ডেস্ক :
প্রায় সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। এ অদৃশ্য ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে জোনভিত্তিক লকডাউন যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রাজধানীর বাইরে ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জের তিনটি এলাকায় লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।
করোনা সংক্রমণ বিবেচনায় করায় চিহ্নিত করা লাল, হলুদ ও সবুজ এলাকা কীভাবে পরিচালিত হবে, তার গাইডলাইন ঠিক করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সংক্রমণ ছড়ানো বন্ধ করতে আক্রান্ত সকলকে আইসোলেশন সেন্টারে নেয়া হবে এবং কার্যকরভাবে আক্রান্তদের সংস্পর্শে যারাই এসেছেন তাদের খুঁজে বের করা হবে।
লকডাউন ঘোষিত এলাকায় চলাচল বন্ধ থাকবে। কেবল রাতে মালবাহী যান চলতে পারবে। ওই এলাকার মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের জন্য থাকবে হোম ডেলিভারি ও নির্ধারিত ভ্যানে করে কাঁচাবাজার কেনাবেচার সুযোগ।
এখানকার অফিস-আদালত বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও সাধারণত বন্ধ থাকবে। খুব প্রয়োজনে চললেও তা হবে খুবই নিয়ন্ত্রিতভাবে। করোনাভাইরাসের পরীক্ষার জন্য থাকবে প্রয়োজনীয়সংখ্যক নমুনা সংগ্রহ বুথ। থাকবে চিকিৎসা পরামর্শের সুযোগ।
লাল চিহ্নিত এলাকার মানুষের চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে। এই এলাকার মানুষের করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ‘নমুনা সংগ্রহ বুথ’ স্থাপন করা হবে।
আর হলুদ এলাকায় অফিস, কারখানা, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ-শিল্পে ৫০ শতাংশ কর্মী দিয়ে চালু রাখতে পারবে। এ ধরনের ক্ষেত্রে স্থানীয় আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানাকে আগেই জানিয়ে রাখতে হবে। তবে এই এলাকায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।
লকডাউন এলাকার কোনো ব্যক্তিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এলাকার বাইরে আসার প্রয়োজন হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের অনুমতি নিয়ে বাইরে আসা যাবে।
কোনো রোগীকে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হলে রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে ১৬২৬৩ বা চিকিৎসক ‘পুলে’ ফোন করলে কোন হাসপাতালে ভর্তি করা যেতে পারে, সে বিষয়ে সহযোগিতা করা হবে।
আর লকডাউন এলাকায় কেউ মারা গেলে ‘আল মারকাজুল ইসলাম, আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম বা এই ধরনের কাজে নিয়োজিত সংস্থার মাধ্যমে দাফন বা সৎকার করা হবে।
লাল এলাকায় মানুষদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের জন্য হোম ডেলিভারির ব্যবস্থা থাকবে। লাল ও হলুদ এলাকায় শপিং মল বন্ধ থাকবে। তবে হলুদ ও সবুজ এলাকায় মুদি দোকান খোলা থাকবে।
হলুদ এলাকায় অর্ধেক যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন চলতে পারবে। একজন করে যাত্রী নিয়ে রিকশা ও অটোরিকশা চলতে পারবে।
এই এলাকায় মালবাহী যানও চলবে। আর সবুজ এলাকায় যানবাহন চলতে পারবে। লাল এলাকার মসজিদে সাধারণের প্রবেশ নিষেধ থাকবে। তবে হলুদ ও সবুজ এলাকায় দূরত্ব বজায় রেখে যাওয়া যাবে।
লাল ও হলুদ এলাকার মানুষের অবাধ যাতায়াত বন্ধ করার জন্য ভৌগোলিক বাস্তবতা অনুসরণ করে সড়ক ও গলির মুখ বন্ধ করা হবে। এ ছাড়া মহল্লার ভেতরে আড্ডাও বন্ধ থাকবে।
লাল ও হলুদ এলাকায় কাঁচাবাজারের জন্য নির্ধারিত ভ্যান সার্ভিসের ব্যবস্থা করা হবে। আর লকডাউন এলাকায় বস্তি থাকলে দুই সপ্তাহের খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার কথা রয়েছে গাইডলাইনে।
লাল বা হলুদ জোনে অবস্থিত অফিস–আদালত নিয়ন্ত্রিতভাবে চলা বা বন্ধ রাখার পক্ষে সিটি করপোরেশন। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নির্দেশনা আসতে হবে বলে মনে করে সিটি করপোরেশন।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম রোববার (৭ জুন) গাইডলাইন তৈরির বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, এখন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে এলাকা চিহ্নিত করে দেয়া হলেই তা বাস্তবায়িত করা হবে। প্রাথমিকভাবে শুরুর জন্য ইতিমধ্যে দু-একটি জায়গা ঠিক করা হয়েছে।
এদিকে, করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) তথ্য আপডেটসংক্রান্ত সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে ঢাকা মহানগরসহ সারাদেশের লকডাউন এলাকার তালিকা।
আনুষ্ঠানিকভাবে জোনিংয়ের কোনো ঘোষণা না এলেও ওয়েবসাইটে দেশের তিনটি বিভাগ, ৫০টি জেলা ও ৪০০টি উপজেলাকে পুরোপুরি লকডাউন (রেড জোন বিবেচিত) দেখানো হয়েছে।