আকাশবার্তা ডেস্ক :
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনে আওয়ামীলীগ-বিএনপি ও একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ৩জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। তবে এই নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী (নৌকা) নুরুল আমিন প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটালেও মাঠে নেই বিএনপি প্রার্থী (ধানের শীষ) মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহম্মদ। ৩ অক্টোবর প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর নৌকার প্রার্থীর পক্ষে দলের কর্মী-সমর্থকরা বিভিন্ন ওয়ার্ডে সরব প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে, সড়ক-মহাসড়কে ও পাড়া-মহল্লায় সাঁটানো হয়েছে নৌকার প্রার্থীর পোষ্টার। অন্য দিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে এই উপ-নির্বাচন নিয়ে তেমন একটা আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। তাদের মধ্যে একধরণের চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সরেজমিনে নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থীর পোষ্টারে ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা। কিন্তু বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে তেমন কোনো পোষ্টার দেখা যায়নি। বিএনপি সমর্থকদের (নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক) সাথে কথা হলে তারা জানায়, এমনিতেই গত ১০/১২ বছর পর্যন্ত হামলা-মামলায় জর্জরিত। তার উপর ৬ মাসের জন্য এই উপ-নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে নতুন করে প্রশাসনের হয়রানির শিকার হতে চাই না। তাই আমরা এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী নই।
অন্যদিকে নৌকা প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী ও চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি নুরুল আমিনকে বিজয়ী করতে দলের তৃণমূল নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। বাড়িতে বাড়িতে চলছে উঠান বৈঠক। পাড়া-মহল্লায় এবং ইউনিয়নের ছোট-বড় বাজারগুলোতে নৌকার প্রার্থী নুরুল আমিন নিজের নির্বাচনী অঙ্গিকারের লিপলেটসহ কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে ভোটারদের মধ্যে প্রচারণা চালাচ্ছেন। ভোটারদের সাথে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নিজের নির্বাচনী ওয়াদা পালনসহ ইউনিয়নের উন্নয়নে নানান প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তবে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বঞ্চিতদের কাউকে দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিতে দেখা যায়নি।
এদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তোফায়েল আহম্মদ অভিযোগ করে বলেন, গ্রামে কিছু কিছু এলাকায় ধানের শীষের পোষ্টার লাগানো হয়েছে। তবে চন্দ্রগঞ্জ বাজারসহ অনেক এলাকায় আমার পোষ্টার লাগাতে বাঁধা দিচ্ছেন আওয়ামীলীগ প্রার্থীর লোকজন। তিনি বলেন, আমি গণসংযোগ করছি। ভোটাররা আমার পক্ষে যথেষ্ট সাঁড়া দিচ্ছেন। ইনশাল্লাহ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ধানের শীষ প্রতীকে আমি বিজয়ী হবো।
অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থীর অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী নুরুল আমিন বলেন, পোষ্টার লাগাতে দিচ্ছেন না আমার লোকজন এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ। এ ধরণের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। তারা নিজেরাই নির্বাচনে জিততে পারবে না জেনে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা করছেন। নুরুল আমিন বলেন, উন্নয়নের মার্কা হচ্ছে নৌকা। জনগণ এবং ভোটাররা উন্নয়নের পক্ষে। ইনশাল্লাহ নির্বাচন সুষ্ঠু হবে এবং নৌকা প্রতীক চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নে বিজয় লাভ করবে।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা স্বপন কুমার ভৌমিক বলেন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তোফায়েল আহম্মদের পোষ্টার লাগাতে কেউ বাঁধা দিচ্ছেন এমন অভিযোগ তিনি নির্বাচনী অফিসে করেননি। যদি তিনি লিখিত অভিযোগ করেন তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ না করে বাইরে অপপ্রচার চালানো শোভনীয় নয়।
চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসীম উদ্দীন বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান পদের উপ-নির্বাচনকে ঘিরে কোনো ধরণের অপরাধমূলক কর্মকান্ড হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ আগষ্ট তারিখে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধিন অবস্থায় ঢাকা নেওয়ার পথে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে মৃত্যুবরণ করেন, চন্দ্রগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা নুরুল ইসলাম বাবুল। তাঁর মৃত্যুতে চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হলে উক্ত পদে উপ-নির্বাচন ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। আগামী ২০ অক্টোবর তারিখে উপ-নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।