আকাশবার্তা ডেস্ক :
এখন থেকে দেশের যেকোনও জায়গা থেকে যেকোনো সময় অনলাইনে জমির খাজনা দেয়া যাবে। ফলে মানুষের ভূমি-সংক্রান্ত হয়রানি কমবে, একইসঙ্গে ভূমি অফিসের দুর্নীতি বন্ধ হবে বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী।
‘হাতের মুঠোয় ভূমিসেবা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভূমি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে অনলাইনভিত্তিক ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার পাইলটিং (প্রথম পর্যায়) কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
নতুন সফটওয়্যারের উদ্বোধন করে ভূমিমন্ত্রী বলেন, এখন যেকোনো সময়, যে কোনো জায়গা থেকে ভূমি উন্নয়ন কর সংক্রান্ত তথ্য দেখার পাশাপাশি তা পরিশোধ করা যাবে। ফলে সময় ও যাতায়ত খরচ বাঁচবে। এছাড়া ভূমি উন্নয়ন কর আদায় ও ব্যবস্থাপনা সহজ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও নিশ্চিত হবে।
তিনি বলেন, ২০২১ সালের জুলাই মাস নাগাদ দেশব্যাপী অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থা চালু করতে পারবো।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রতি বছর দেশের ৫১১টি উপজেলা ভূমি অফিসের অধীন তিন হাজার ৪৬২টি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের মাধ্যমে প্রায় পাঁচ কোটি হোল্ডিং থেকে ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ প্রায় ৬০৬ কোটি টাকা আদায় করা হয়। প্রায় তিন কোটি ৬০ লাখ মানুষ এসব ভূমি অফিস থেকে সেবা নেন।
গত ১০ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রয়াসে ভূমি ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের দূরদর্শী উদ্যোগের ফসল হিসাবে ভূমি মন্ত্রণালয় মর্যাদাপূর্ণ ‘ইউনাইটেড ন্যাশনস পাবলিক সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড-২০২০’ অর্জন করেছে, জানান মন্ত্রী।
মৌজা রেট বিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে ভূমিমন্ত্রী বলেন, এ সংক্রান্ত বিষয় মূলত আইন মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ার। আমরা আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে বিষয়টি তুলে ধরবো।
এসময় ভূমি সচিব মো. মাক্ছুদুর রহমান পাটওয়ারী জানান, ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি রাজস্ব আদায়ের পাইলটিং কার্যক্রম চালানোর জন্য নির্বাচিত ভূমি অফিসে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।
ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. ইয়াকুব আলী পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভূমি সচিব ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয় ও ভূমি সংস্কার বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকসহ মাঠ পর্যায়ে কর্মরত বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠান শেষে ভূমিমন্ত্রী উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।