আকাশবার্তা ডেস্ক :
রাজধানীতে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ৯টি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় বিএনপির প্রয়াত নেতা সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেনসহ ৫ শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে ১৩টি মামলা করেছে পুলিশ। মামলাগুলোতে গ্রেপ্তার হওয়া ৪১ জনের মধ্যে ৩২ জনকে রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।
ডিএমপি জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে নাশকতাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ৯টি বাস পোড়ানোর ঘটনায় জড়িতদের ধরতে বেশির ভাগকে এরই মধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগে পরিচালক উপপুলিশ কমিশনার ওয়ালিদ হোসেন বলেন, নাশকতায় ভাড়াটে অপরাধীরা অংশ নেয়। জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই বাস পোড়ানো হয়। রাজনৈতিক পরিচয়ধারী অনেক আসামি রয়েছেন যারা আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। বৃহস্পতিবারের ঘটনার পর রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের ৫১৭ জনকে আসামি করে ৮ থানায় ১১টি মামলা করেছে পুলিশ। শাহবাগ ও মতিঝিল থানার ৬ মামলায় আসামি করা হয়েছে বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ইশরাক হোসেন, যুবদল সাধারণ সম্পাদক টুকু এবং ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ২৩৪ জনকে। তবে একটি মামলায় সর্বোচ্চ ৯৫ জনকে আসামি করেছে ভাটারা থানা।
তবে এসব মামলাকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে ইশরাক হোসেন বলেন, গত কয়েকদিন ধরে আমি অসুস্থ থাকায় বাসায় আইসোলেশনে আছি। বাসা থেকে একেবারেই বের হচ্ছি না। আইসোলেশনে থেকেও যেসব মামলার প্রধান আসামী হতে হয় সেসব মামলার কতটুকু ভিত্তি আছে তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।
তিনি বলেন, বিএনপি গণতন্ত্রের রাজনীতি করে। আমরা আন্দোলন করি রাজপথে। তবে এমন আন্ডারগ্রাউন্ড রাজনীতিতে আমরা বিশ্বাস করি না। যখন বিএনপি রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালীরুপে মাঠে নামা শুরু করছে, ঠিক তখনই সরকার বিএনপির বিরুদ্ধে গাড়ি পোড়ানোসহ নাশকতার মতো ঘটনা ঘটিয়ে দমন পীড়নের জন্য ষড়যন্ত্রমুলক মামলা দিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে গত ১২ নভেম্বরে ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনে কারচুপি, জোরপূর্বক ভোটগ্রহনের অভিযোগ এনে রাজধানীর বিভিন্নস্থানে বিক্ষোভ মিছিল করে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীরা। এ সময় রাজধানীর বিভিন্নস্থানে অগ্নিসংযোগ ও বাসে আগুনের ঘটনাও ঘটে।