শনিবার ১৪ই মার্চ, ২০২৬ ইং ৩০শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দলকে সংশোধনের জন্যেই প্রতিবাদ করছি : কাদের মির্জা

আকাশবার্তা ডেস্ক : 

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জা বলেছেন, আমি মূলত নোয়াখালীর অপরাজনীতির বিরুদ্ধে বলেছি, নোয়াখালীতে দলকে ব্যবহার করে টেন্ডারবাজী, চাঁদাবাজী ও চাকরি বানিজ্যসহ সকল প্রকার অপরাজনীতির বিরুদ্ধে বলেছি। আওয়ামী লীগের ঘোষণা পত্রে ৫৮ পৃষ্ঠায় ৩এর ২-এ মৌলিক চাহিদা পূরণে বলা আছে বাক, ব্যক্তি, চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। অতএব স্বাধীনতা আছে বলেই আমি সাহস করে সত্য কথা বলেছি।

মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে বসুরহাট পৌর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি আরও বলেন, আমিতো সংগঠনের বহির্ভূত কিছু করিনি, আমার বিশ্বাস আমার প্রতি জননেত্রী শেখ হাসিনার আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। কারন তিনি যেমন অপরাজনীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষনা করেছেন ঠিক আমিও এই অপরাজনীতি ও মাদক সহ সকল প্রকার অপরাধের বিরুদ্ধে বলেছি।

তিনি আরও বলেন, আমি মূলত দলকে সংশোধনের জন্যে এ কথাগুলো বলেছি। আল্লাহকে হাজীর নাজির রেখে বলছি আমি কখনো অস্ত্রবাজী করিনি, এই অস্ত্রবাজীর কারণে টেন্ডারবাজী, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসীসহ সকল প্রকার অপরাধ বেড়েই চলছে। মাদক বন্ধ করতে সরকারকে আরো কঠিন ব্যবস্থা নিতে হবে। আমাদের নেতা কর্মীরা ও প্রশাসন মাদকসহ সকল অপকর্মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেনি। আগামীতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ও কমিটিতে দায়ীত্ব দেয়ার পূর্বে মাদকের সাথে সম্পৃক্ততার বিষয়টি যাচাই করার অনুরোধ জানান কাদের মির্জা।

নিজের এলাকায় টেন্ডারবাজীর প্রশ্নে কাদের মির্জা বলেন, আমার এখানেতো টেন্ডারবাজীর সিস্টেইমও রাখিনি, যারা বাস্তবতায় টেন্ডার পাওয়ার যোগ্য নিয়মানুযায়ী তারাই পাচ্ছে, তবে তারা যে অনিয়ম বা দুর্নীতি করছে না তা ঠিক নয়, তবে আমি তাদেরকে সংশোধনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

ভাবির সাথে মনোমালিন্যের প্রশ্নে কাদের মির্জা বলেন, মূলত গত উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী নির্ধারণে আমি নোয়াখালীর এক ত্যাগী নেতার পক্ষে সাপোর্ট দিয়েছি আর উনি (ভাবি) অন্য এক নেতার পক্ষে সাপোর্ট দিয়েছে, এটা নিয়ে আমাদের মাঝে সামান্য দূরত্ব সৃষ্ঠি হয়েছে, এটা ছাড়া আর কিছুই না।

পূনরায় হরতালের প্রশ্নে কাদের মির্জা বলেন, আমাদের দাবি হচ্ছে নোয়াখালীতে অপরাজনীতি, টেন্ডারবাজী, চাঁদাবাজি, চাকুরি বানিজ্যসহ জেলার প্রস্তাবিত কমিটি ভেঙে দেয়া। দাবি আদায়ে আমরা গত ২৪ জানুয়ারি হরতালের ডাক দিলেও নেতাদের আশ্বস্ত অনুরোধে স্থগিত করেছিলাম। কিন্তু জেলা সভাপতির আচরণে আমরা হতাশ, তিনিও অপরাজনীতির কাছে বিক্রি হয়ে গেছেন। তাই পূনরায় আগামী রোববার (৩১ জানুয়ারি) হরতালের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

নোয়াখালী জেলা কমিটি নিয়ে কাদের মির্জা বলেন, যারা ওয়ান ইলেভেনের পর নেত্রীকে জেলে দিয়েছে, আমাদের নেতাকে গ্রেপ্তার করে নির্যাতন করেছে, তারা কি করে জেলা কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়, তাদের গ্রুপের ২০/২৫ জন কি করে জেলা কমিটিতে একসাথে দায়িত্বে আসে। এই জেলা কমিটির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে বেগমগঞ্জের উপজেলা চেয়ারম্যান স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেছে। নোয়াখালী শহরে আজ ত্যাগী নেতাদের অপরাজনীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ ছিলো কিন্তু প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারী করেছে। এই অপরাজনীতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আজ আমি অপরাধীদের শত্রু হলেও জনগনের কাছে শত্রু নই।

আলোচনা সমালোচনার বিপ্লব ঘটিয়ে কেন্দ্রীয় নেতা হতে চান কিনা? গণমাধ্যমের প্রশ্নে কাদের মির্জা বলেন, আমি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা হতে চাই না, জেলা কমিটিতেও আমি যেতে চাই না এবং যাবো না। আমি আমার জনগনকে নিয়ে কোম্পানীগঞ্জের আওয়ামী লীগের কমিটিতে সদস্য হিসেবে কাজ করতে চাই, আমরা প্রকৃত বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১