আকাশবার্তা ডেস্ক :
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচী শুরু হয়েছে দেশজুড়ে। রোববার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় মহাখালী স্বাস্থ্য ভবনে ভার্চুয়ালি টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এরপর দেশের ১ হাজার ৫ টি কেন্দ্রে শুরু হয়েছে এ টিকাদান কর্মসূচি।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘করোনার টিকাদানের মাধ্যমে দেশে একটি মহৎ কাজের শুরু হলো আজ।’
এসময় তিনি জানান, এর আগে যারা টিকা নিয়েছেন তারা সবাই সুস্থ আছেন।
টিকাদান কর্মসূচির প্রথম দিনে দেশের বিভিন্ন জেলার ৯৫৫টি হাসপাতালে টিকা দেওয়া হবে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে মোট দুই হাজার ১৯৬টি দল কাজ করছে।
এদিকে শনিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টা পর্যন্ত মোট তিন লাখ ২৮ হাজার ১৩ জন ভ্যাকসিন নিতে অনলাইনে নিবন্ধন করেছেন।
প্রসঙ্গত, দেশের ১ হাজার ৫ টি কেন্দ্রের মধ্যে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে মোট ৫০টি হাসপাতালে টিকা দেয়া হবে।
করোনার টিকা দেওয়া হবে যেসব হাসপাতালে, সেগুলোর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটিতে ২৬টি, দক্ষিণ সিটিতে ১৯টিসহ মোট ৪৫টি হাসপাতালের নামের তালিকা দুই সিটির স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
তবে ঢাকার আরও পাঁচটি হাসপাতালে করোনার টিকা দেওয়া হবে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।
ঢাকা উত্তর (ডিএনসিসি) সিটি কর্পোরেশন
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের টিকাদান কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ সংসদ সচিবালয় ক্লিনিক, মিরপুরের ঢাকা ডেন্টাল কলেজ, শ্যামলীর ঢাকা শিশু হাসপাতাল, মহাখালীতে সংক্রামক রোগ হাসপাতাল, উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, মিরপুরের লালকুঠি হাসপাতাল, মোহাম্মদপুর ফার্টিলিটি সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার, জাতীয় বাতজ্বরজনিত হৃদরোগ প্রতিরোধ কেন্দ্র, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় নাক কান ও গলা ইনস্টিটিউট, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতাল, জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল), শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, শ্যামলীর ২৫০ শয্যার টিবি হাসপাতাল।
এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটির পাঁচটি নগর মাতৃসদন কেন্দ্র মগবাজারের নয়াটোলা, মোহাম্মদপুরের বাঁশবাড়ি, মিরপুর মাজার রোডের নেকি বাড়ির টেক, মিরপুরের বর্ধিত পল্লবী এলাকা ও উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরের মাতৃসদনে করোনার টিকা দেওয়া হবে।
এই বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটির জনসংযোগ শাখা থেকে জানানো হয়, রোববার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় মোহাম্মদপুর ফার্টিলিটি সেন্টারে টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে। সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা এর উদ্বোধন করবেন।
ঢাকা দক্ষিণ (ডিএসসিসি) সিটি কর্পোরেশন
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) টিকাদান কেন্দ্রগুলো হলো শাহবাগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ সচিবালয় ক্লিনিক, ফুলবাড়িয়ায় সরকারি কর্মজীবী হাসপাতাল, আজিমপুর মা ও শিশু হাসপাতাল, মাতুয়াইল শিশু মাতৃসদন হাসপাতাল, রাজারবাগে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল, কামরাঙ্গীরচরে ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পুরান ঢাকায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট, পিলখানার বিজিবি হাসপাতাল, নয়াবাজারে ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতাল, লালবাগে ঢাকা মহানগর শিশু হাসপাতাল।
এছাড়া দক্ষিণ সিটির পাঁচটি নগর মাতৃসদন কেন্দ্র ধলপুরে নগর মাতৃসদন, বংশালের কসাইটুলী নগর মাতৃসদন, হাজারীবাগে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন নগর মাতৃসদন, উত্তর মুগদা মাতৃসদন ও খিলগাঁওয়ের তিলপাপাড়া মাতৃসদন কেন্দ্রে করোনার টিকা দেওয়া হবে।
এই প্রসঙ্গে দক্ষিণ সিটির মুখপাত্র ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু নাছের বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এখন পর্যন্ত ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল, ক্লিনিক ও মাতৃসদন চূড়ান্ত করা হয়েছে।
করোনার টিকা প্রয়োগে ইতিমধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসক, নার্স ও স্বেচ্ছাসেবককে চার পর্যায়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সকাল ১০টায় পুরান ঢাকার নয়াবাজার এলাকায় অবস্থিত ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতালে টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে। দক্ষিণ সিটির মেয়র ফজলে নূর তাপস এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।