আকাশবার্তা ডেস্ক :
করোনাভাইরাসের কারণে প্রায় ১৪ মাস বন্ধ থাকার পর আগামী জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে পর্যায়ক্রমে এসব প্রতিষ্ঠান খোলা হবে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে বুধবার দুপুর ১২টায়। ভার্চুয়াল প্রেস কনফারেন্সে অংশ নিয়ে এ কথা জানান দিপু মনি। এছাড়া সোমবার শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলও এমন ইঙ্গিত দেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা জুনকে টার্গেট করছি। একটা হিসাবে দেখা গেছে, করোনা পরিস্থিতির কারণে পৃথিবীতে মাত্র ১৪টি দেশে পুরোপুরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। যেহেতু আমরা অল্প কয়েকটি দেশের মধ্যে একটি, তাই এখন আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার কথা ভাবছি।’
দেশে করোনা শনাক্ত হওয়ার পর মহামারি ঠেকাতে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। দফায় দফায় তা বাড়িয়ে এ মাসের ২৯ তারিখ পর্যন্ত করা হয়েছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে করোনা পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে কয়েক দফা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত হলেও শেষ পর্যন্ত তা আর হয়ে ওঠেনি।
সরকার মানুষের চলাচল ও সার্বিক কার্যক্রমে বিধিনিষেধ আগামী ৩০ মে পর্যন্ত পালনের নির্দেশ দিয়েছে। এর সঙ্গে মিল রেখে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর ছুটির মেয়াদ ৩০ তারিখ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে।
এর আগে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘করোনাভাইরাস সংক্রমণ ৫ শতাংশের নিচে এলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সীমিত আকারে খুলে দিয়ে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার জন্য তৈরি সংক্ষিপ্ত সিলেবাস শুরু করা হবে। আর অন্যান্য ক্লাসও শুরু করা হবে পর্যায়ক্রমে।’
করোনা শনাক্তের হার এখনও পাঁচ শতাংশের নিচে নামেনি। মঙ্গলবার শনাক্তের হার ছিল ১০ দশমিক ০৮ শতাংশ, আগেরদিন সোমবার যা ছিল ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। মাঝের কয়েকদিন সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা কমে গেলেও গত দুদিন ধরে দুটিই আবার উর্ধ্বমুখী। মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টায় ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে করোনা ভাইরাসে। সোমবার মৃত্যু হয়েছিল ২৫ জনের। এক দিনের ব্যবধানে মৃত্যু বেড়েছে ১৫ জন। এই সময়ে নতুন করে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে আরও ১ হাজার ৬৭৫ জনের শরীরে।
প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসে মাধ্যমিক (এসএসসি) ও এপ্রিলে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষা শুরু হলেও এ বছর করোনার কারণে এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষা এখনও নেয়া সম্ভব হয়নি। গত বছর এসএসসি পরীক্ষা নেয়া গেলেও এইচএসসিতে শিক্ষার্থীদের অটোপাস দেয় সরকার।