নিজস্ব প্রতিবেদক :
উপ-নির্বাচনে জয়ী হয়ে মাত্র একবছর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে সাধারণ মানুষ ও ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও আস্থা অর্জন করেছেন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নুরুল আমিন। গত একবছরে ইউনিয়ন পরিষদে সেবাপ্রত্যাশী সাধারণ মানুষকে শতভাগ হয়রানিমুক্তভাবে সেবা প্রদান করেছেন তিনি। এতে সেবাগ্রহিতা ইউনিয়নবাসী চেয়ারম্যান নুরুল আমিনের প্রতি সন্তষ্টি প্রকাশ করেছেন।
সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১৬ আগষ্ট করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যান চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুল। এরপর নির্বাচন কমিশন ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদ শূন্য ঘোষণা করেন। এই নির্বাচনে আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন পান, স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি নুরুল আমিন। পরে শূন্য চেয়ারম্যান পদে ২০ অক্টোবর উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনে নৌকা প্রতিকের প্রার্থী (আওয়ামীলীগ) নুরুল আমিন ১৩ হাজার ৩৩৯ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হয়ে ১৫ নভেম্বর শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ঘোষণা করেন, ইউনিয়ন পরিষদে সেবাপ্রত্যাশী কোনো নাগরিককে হয়রানি করা যাবেনা। নাগরিকরা যে কাজে পরিষদে আসবেন, দ্রুত কাজ সম্পন্ন করে বিদায় দিতে হবে এবং একই কাজের জন্য যাতে বার বার আসতে না হয়। গত একছরে সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে নিজ কার্যালয়ে উপস্থিত থেকে নাগরিক সেবা দিয়ে আসছেন এই চেয়ারম্যান।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু সুফিয়ান, আমির মোল্লা, জামাল হোসেন, মো. শাহজাহান তারা জানান, চেয়ারম্যান হিসেবে নুরুল আমিন সবার সেরা। তার কারণ হিসেবে তারা বলেন, বিগত ১৫ বছরে আমরা এমন চেয়ারম্যান পাইনি। যে কোনো কাজে চেয়ারম্যানকে দিনের পর দিন খুঁজতে হয়েছে। একটা নাগরিক সনদপত্র বা ওয়ারিশান সার্টিফিকেটের জন্য ১৫ দিন থেকে ১ মাস ঘুরতে হয়েছে তখন। চেয়ারম্যানরা নিয়মিত পরিষদে বসতেন না। এখনকার চেয়ারম্যান নুরুল আমিন নিজেই পরিষদের কার্যালয়ে বসে থাকেন মানুষকে সেবা দেওয়ার জন্য। এখন ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে বা চেয়ারম্যানের কাছে যে কোনো কাজে গেলে হয়রানিমুক্তভাবে একদিনেই কাজ হয়ে যায়।
এ ব্যাপারে তারা বর্তমান চেয়ারম্যানের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি গত একবছরে ইউনিয়নের যেসব রাস্তা জরুরী ভিত্তিতে সংস্কার করা প্রয়োজন ছিল, সেসব রাস্তা-ঘাট তিনি পাকা করণ সম্পন্ন করেছেন। তারা বলেন, আমরা সাধারণ নাগরিকরা পুনরায় তাকেই চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চাই।

এক স্বাক্ষাতকারে চন্দ্রগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন বলেন, স্বল্প সময়ের জন্য উপ-নির্বাচনে আমি চেয়ারম্যান হয়েছি। গত একবছরে আমি চেষ্টা করেছি, ইউনিয়নের নাগরিকদের হয়রানিমুক্ত সেবা প্রদানের জন্য। কারণ, অতিতে আমি দেখেছি সাধারণ মানুষ ইউনিয়ন পরিষদের এসে যে কোনো কাজে হয়রানির শিকার হয়েছেন। আমার লক্ষ্য, ইউনিয়নবাসীকে হয়রানি না করে সেবা দেওয়া। আমি দায়িত্ব পালনকালে জননেত্রী শেখ হাসিনার সন্মান রক্ষা করেছি। এর কারণ হচ্ছে, মানুষ যখন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তার কাঙ্খিত সেবা পাবেন, তখন তারা শেখ হাসিনার যোগ্য প্রার্থী বাছাইকে মূল্যায়ন করবেন। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনেও আমি আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। আশা করছি, জননেত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় কর্মকান্ডসহ গত একবছরে আমার কাজের সঠিক মূল্যায়ন করে আমাকেই দলীয় মনোনয়ন দিবেন।