রবিবার ৮ই মার্চ, ২০২৬ ইং ২৪শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চৌমুহনীতে মন্দিরে আগুন, ভাংচুর, লুট, নিহত ২, পুলিশসহ আহত ১০

আকাশবার্তা ডেস্ক :

নোয়াখালীতে শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসবের সময় কুমিল্লায় কোরআন শরীফ অবমাননার জেরে শুক্রবার চৌমুহনীতে জুম্মার নামাজ শেষে কয়েকটি মসজিদ থেকে সহ¯্রাধিক মুসল্লী মিছিলসহকারে হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দিরে আগুন, ভাংচুর ও লুটপাট করেছে। এ সময় বাধা দিতে গেলে চৌমুহনী পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড গণিপুর এলাকার যতন লাল সাহা ও নিমাই চন্দ্র মজুমদার নামে দুইজন নিহত এবং পুলিশসহ ১০ জন আহত হয়েছেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান চৌমুহনী বড় মসজিদ, গোলাবাড়ীয়া মসজিদ, কাচারী বাড়ী মসজিদ, সাটিহাটা মসজিদ, হকার্স মার্কেট মসজিদ থেকে শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে সহ¯্রাধিক মুসল্লী ও সাধারণ লোকজন বিভিন্ন ধরনের দেশিয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে মিছিল সহকারে ঠাকুর আশ্রম এবং রাধা মাধব জিউর আশ্রমে হামলার চেষ্টা চালায়।

এসময় একদল পুলিশ তাদেরকে বাধা দিলে সংঘর্ষ বেধে যায়। এসময় পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করলে মিছিলকারীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ব্যাংকরোড, রাধা মাধব জিউর, কলেজ রোড পোড়া বাড়ী, ইসকন মন্দির, বিজয়াসহ ১০/১২টি মন্দিরে হামলা চালায়।

তম্মধ্যে ইসকন মন্দিরে হামলা চালানোর সময় বাধা দেয়ায় যতীন লাল সাহা ও নিমাই চন্দ্র মজুমদার নামে দুইজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে তাদেরকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পর প্রথমে যতীন লাল সাহাকে মৃত ঘোষণা করার হয়। এরপর চিকিৎসাধিন অবস্থায় নিমাই চন্দ্র মজুমদারও মারা যায়।

এ ব্যাপারে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাবেক ট্রাষ্টি তপন চন্দ্র মজুমদার জানান, সাম্প্রদায়িক শক্তি সংখ্যালঘুদের দেশ ত্যাগের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে কুমিল্লার ঘটনাকে ইস্যু করে চৌমুহনীতে হিন্দুদের মন্দিরে হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগসহ হতাহতের ঘটনা ঘটায়। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেন।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশ পাহারা জোরদার করা হয়েছে।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১