শুক্রবার ১৩ই মার্চ, ২০২৬ ইং ২৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিদ্রোহীতে বিভক্ত আ.লীগ

আকাশবার্তা ডেস্ক : 

ইউপি নির্বাচনে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে আওয়ামী লীগের তৃণমূল। দলটির দলীয় প্রতীক নৌকা ও বিদ্রোহী কর্মী-সমর্থকদের মাঝে রক্তাক্তের ঘটনাও ঘটছে প্রতিদিন। কেন্দ্রের কঠোর অবস্থান কোনো কাজে আসছে না। নিজ নিজ স্বার্থে বিদ্রোহীদের সরাসরি মদত দিচ্ছেন স্থানীয় সাংসদ ও প্রভাবশালী নেতারা।

যদিও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, বিদ্রোহীদের বিষয়ে আওয়ামী লীগের অবস্থান পরিষ্কার। কেউ যদি বিদ্রোহী করে দলের বিরুদ্ধে অবস্থান করে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেয়া হবে না। সকলকেই দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হবে। নৌকার প্রার্থীদের সমর্থন দিতে হবে ও প্রচার-প্রচারণা করতে হবে।

আ.লীগের দপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অভিযোগের পাহাড় জমা পড়েছে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে। অভিযোগের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে  বিগত দিনের যে কোনো নির্বাচনকে। মূলত অযোগ্য, বিতর্কিত, দুর্নীতিবাজ, বিএনপি-জামায়াত থেকে আগত হাইব্রিড ও অনুপ্রবেশকারীদের নৌকার মনোনয়ন দেয়ায় তৃণমূল থেকে এসব অভিযোগ দেয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও আবার স্থানীয় এমপি ও দলের প্রভাবশালী নেতাদের সরাসরি পক্ষপাতিত্বকেও দায়ী করা হয়েছে অভিযোগপত্রে। প্রায় প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে আসা এসব অভিযোগপত্র নিয়ে বিপাকে পড়েছে আওয়ামী লীগ।

নেতারা বলছেন, দপ্তরে জমা পড়া অনেক অভিযোগ ভুয়া। নিজ স্বার্থে ও প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অযথা বিষোদগার করার জন্যই কেউ কেউ ভিত্তিহীন অভিযোগ কেন্দ্রে দিয়েছেন। ওইসব অভিযোগ মাঠপর্যায়ে জরিপ করতে গিয়েও কোনো সত্যতা পায়নি বলে জানা যায়। যদিও মনোনয়ন প্রাপ্তদের বিরুদ্ধে নানামুখী অভিযোগ এনে অনেকেই বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৬৯০ জনের অধিক বিদ্রোহী প্রার্থী এখনো মাঠে রয়েছেন। ওইসব বিদ্রোহীরা নিজ নিজ কর্মী-সমর্থক নিয়ে সকাল-সন্ধ্যা নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা, মিছিল-মিটিং, সভা-সমাবেশ ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন।

বিদ্রোহীদের এমন অবস্থানে অধিকাংশ স্থানে নির্বাচনি প্রচারণায় কোণঠাসা হয়ে পড়েছে নৌকার প্রার্থী ও সমর্থকরা। ভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই নৌকা ও বিদ্রোহী কর্মী-সমর্থকরা নিজেরা নিজেরা খুনোখুনি, মারামারি, সংঘর্ষে জড়াচ্ছে। ভাইয়ে ভাইয়ে রক্ত ঝরাচ্ছে। প্রতিদিনই রক্তাক্তের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অধিকাংশ নির্বাচনি এলাকায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীদের সহিংসতা ঘটছে। এ নিয়ে শুধু ইউপি নির্বাচনে ২৩ জনের প্রাণহানি হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, ওইসব বিদ্রোহীদের সরাসরি মদত দিচ্ছেন স্থানীয় সাংসদ ও দলের প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। তাদের নিজ নিজ বলয় বা আস্থাভাজনরা নৌকার মনোনয়নবঞ্চিত হওয়ায় বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন। ফলে বিপাকে পড়েছেন নৌকার প্রার্থী ও সমর্থকরা। ফলে নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, নির্বাচনকেন্দ্রিক তৃণমূল আওয়ামী লীগ ততই দ্বিধাদ্বন্দ্বে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিদ্রোহী ও তাদের মদতদাতাদের দল ও সহযোগী সংগঠন থেকে বহিষ্কার করার জন্য সুপারিশ কেন্দ্রে পাঠিয়েছেন। এরই মধ্যে অনেক জায়গায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের দল থেকে বহিষ্কারের চিঠিও দেয়া হয়েছে।

আ.লীগ সূত্রে জানা যায়, বিএনপিবিহীন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকছে আওয়ামী লীগ। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলছেন, বিদ্রোহী করে যারা দলের অভ্যন্তরে বিভেদ সৃষ্টি করছেন, কর্মীদের মাঝে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন, কোন্দল ও দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করছেন, বিদ্রোহীদের সঙ্গ দিচ্ছেন, তাদের কাউকে কোনোভাবেই ছাড় দেয়া হবে না। দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতাকারীদের কর্মকাণ্ড তদন্তসাপেক্ষে মূল দল বা সহযোগী সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হবেও বলে হুঁশিয়ারি দেয়া হচ্ছে।

মূলত দলটির পূর্ব ঘোষণা ছিলো— যারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এমন পরিস্থিতিতে দলের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে যারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তাদের নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ বলেন, বিদ্রোহীদের বিষয়ে আওয়ামী লীগের অবস্থান পরিষ্কার। সকলকেই দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হবে। নৌকার প্রার্থীদের সমর্থন দিতে হবে। প্রচার-প্রচারণা করতে হবে। কিন্তু কেউ যদি বিদ্রোহ করে দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেয়া হবে না। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের মধ্যে থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী হলে আর যাই হোক অন্তত আওয়ামী লীগ করা যাবে না।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন প্রায় ডজনখানেক এমপি। তারা নিজেদের স্বার্থে ভোটের মাঠে বিদ্রোহী দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন। এমন এমপিদের বিরুদ্ধেও জমা পড়েছে আওয়ামী লীগের দপ্তরে। তৃণমূল থেকে আসা ওইসব এমপির বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন দলটির দায়িত্বশীল নেতারা। নৌকা নিয়ে নির্বাচিত এমপিরা নৌকার মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান করাকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ হিসেবে দেখছে দলটি।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক  আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘ভোটের মাঠে দলীয় বিদ্রোহী থাকা বড় সমস্যা। বিদ্রোহী ও তাদের মদতদাতাদের কোনোভাবেই ছাড় দেয়া হবে না। এজন্য তৃণমূলে বার্তা দেয়া হয়েছে।’

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘নির্বাচনের সকল বিষয়ে সব সময় খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। কোথাও কোথাও কিছু ঘটনাও ঘটছে। সে বিষয়েও খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। দোষীদের চিহ্নিত করে সাংগঠনিক শাস্তির মুখোমুখি করা হবে।’

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১