নিজস্ব প্রতিবেদক :
নির্মাণাধীন বহুতল বিশিষ্ট পরিত্যক্ত ভবন সাফওয়ান টাওয়ার এখন মাদক বিক্রেতা ও মাদকসেবীদের নিরাপদ আখড়ায় পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যা নামলেই ভবনটিতে চলে মাদকসেবন ও জুয়ার আড্ডা। পাশাপাশি ভাসমান মক্ষীরানীদের নিয়ে আমোদফুর্তিসহ নানান অনৈতিক কার্মকান্ডের স্বাক্ষী এখন ১০তলা বিশিষ্ট এই ভবনটি। রাতভর জুয়ার আসরের লোকজনের চিৎকার চেঁচামেছিতে অতিষ্ঠ স্থানীয় বাসিন্দারা। এনিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জস্থ আফজাল রোডের আত-তামরীন স্কুলের পাশে অবস্থিত সাফওয়ান টাওয়ার। ভবনটির মালিক স্থানীয় শেখপুর গ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফাতেমা ব্রিকসের মালিক সামসুল আলম। ভবনটির মালিক সামসুল আলম বিপুল পরিমাণ লোনের টাকা ব্যাংকে দেনা রয়েছেন। যার কারণে ব্যাংকে বন্ধক থাকা সাফওয়ান টাওয়ারে যারা ফ্ল্যাট কিনে মালিক হয়েছেন, তাদেরকে দেনার কারণে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দিতে পারছেন না। এতে গত ৩ বছর যাবত ভবনটি পরিত্যক্ত হিসেবে পড়ে রয়েছে।
এদিকে, দীর্ঘদিন যাবত ভবনটি পরিত্যক্ত পড়ে থাকায় মাদক বিক্রি ও সেবনের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদকসেবীরা এখানে ছুটে আসেন। সন্ধ্যা হলেই শুরু হয় মাদকাসক্তদের আনাগোনা। তবে, তারা প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পায়না।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাফওয়ান টাওয়ারের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ইয়াবাসহ মাদক সেবনের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ। ভবনের কক্ষগুলোতে বিভিন্ন সময় ফেন্সিডিল ও মদের বোতল পাওয়া গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
তারা আরো জানান, অনেক সময় দিনের বেলায়ও মাদকাসক্ত লোকজন নাকী এখানে আসর জমান। অথচ, এই ভবনটির সামনেই ব্যক্তি মালিকানাধীন দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। কোমলমতি শিশুরা পড়াশোনা করে এখানে।
স্থানীয় একটি মার্কেটের মালিক নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক শর্তে জানিয়েছেন, যারা এই ভবনটি ঘিরে রমরমা মাদক ব্যবসা চালাচ্ছেন। তারা রাজনৈতিক শেল্টারে থাকায় কেউ ভয়ে কিছু বলেন না। তিনি জানান, সম্প্রতি অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকাবস্থায় কয়েকজনকে হাতেনাতে ধরে তাদের পরিবারের হেফাজতে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে এখানে।
এ ব্যাপারে চন্দ্রগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একে ফজলুল হক জানিয়েছেন, পরিত্যক্ত ভবন ঘিরে মাদক সেবন বা অপরাধ কর্মকান্ডে যারাই জড়িত থাকুক। তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনাসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, এরকম একটি ভবনে অপরাধীদের আড্ডাখানা আছে আমাদেরকে কেউ অবহিত করেনি। এখন আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নিব।