শুক্রবার ১৩ই মার্চ, ২০২৬ ইং ২৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দ্বন্দ্ব-বিভক্তি কমাতে চায় আ.লীগ

আকাশবার্তা ডেস্ক :

চলমান স্থানীয় সরকারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে সরকারি দল আওয়ামী লীগে। নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব, কোন্দল, বলয় ও বিভক্তির রাজনীতির কারণে প্রতিদিন বাড়িঘর ভাঙচুর, মুখোমুখি সংঘর্ষ ও খুনোখুনির ঘটনা ঘটছে।

তবে এসব বিভক্তির রাজনীতি ভেঙে দিয়ে ভোটের মাঠে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে চায় আওয়ামী লীগ। এ জন্য জেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতাদের ঢাকা এনে সমস্যার সমাধান করছেন ক্ষমতাসীন দলটি।

তথ্যমতে, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, কোন্দল, বিভক্তি ও বলয়সহ নারায়ণগঞ্জ জেলা আ.লীগের চলমান গৃহদাহ নিরসনের উদ্যোগ নিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। এর অংশ হিসেবে গতকাল সোমবার ধানমন্ডিস্থ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে জেলা ও মহানগর আ.লীগের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে যৌথসভা করেছেন তারা।

মূলত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে এমন উদ্যোগ নিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি। দীর্ঘ দিন ধরে চলে আশা নারায়ণগঞ্জ জেলা আ.লীগের এই কোন্দল নিরসন করতে না পারলে ভোটের মাঠে বড় ধরনের বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

এমন শঙ্কা থেকেই যৌথসভা করেছেন আ.লীগ। গতকাল দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সাথে এ যৌথসভার এক পর্যায়ে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকের মুঠোফোনে কল দিয়ে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এসময় তিনি উপস্থিত সব নেতার উদ্দেশে বলেন, ‘একটাই কথা, নৌকা জেতাতে হবে। প্রার্থী হয়তো কারো পছন্দ, কারো পছন্দ না। এটা থাকতে পারে। কিন্তু একজনই তো মনোনয়ন পাবে। কাজেই আমরা একজনকে মনোনয়ন দিয়েছি। এখন সবাই মিলে নৌকার পক্ষে কাজ করতে হবে। এটাই আমি চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য একটি কমিটি করে দেয়া হয়েছে। এখন প্রত্যেককে যার যার অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে। যেন আমরা এগিয়ে যেতে পারি।’

খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, শুধু নারায়ণগঞ্জ নয়, সারা দেশে চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন কেন্দ্র করে তৃণমূলে দ্বন্দ্ব, কোন্দল, বিভক্তি, বলয়, এমপি লীগ, ভাই লীগ ও দল-উপদল তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও স্থানীয় এমপি ও প্রভাবশালীদের ইন্ধনে দাপট দেখিয়েছে বিদ্রোহীরা। নির্বাচন কেন্দ্র করে প্রায় প্রতিদিন নিজেদের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর, মুখোমুখি সংঘর্ষ ও খুনোখুনির ঘটনাও ঘটছে। বিদ্রোহীদের বহিষ্কারসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের কঠোর নির্দেশনাও কোনো কাজে আসছে না।

বিএনপিবিহীন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলের অভ্যন্তরে সৃষ্ট এসব সমস্যার সমাধান করতে কৌশল অবলম্বন করছেন আ.লীগের বিভাগীয় দায়িত্বশীল নেতারা।

যদিও তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের খোঁজখবর নিয়ে দেখা যায়, দলীয় বিদ্রোহী ও বিদ্রোহীদের সমর্থকদের কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তাদের দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হলেও তারা ভোটের মাঠে দাপট দেখাচ্ছেন। তৃণমূলের নেতারা বলছেন, স্থানীয় এমপি ও প্রভাবশালী নেতাদের দাপটে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন বিতর্কিত, অযোগ্য ও অজনপ্রিয় নেতারা।

কেউ কেউ দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকলেও সুযোগ বুঝে নৌকার মনোনয়ন বাগিয়ে নিয়েছেন। ফলে মনোনয়নবঞ্চিত হয়েছেন দলের দুর্দিনের ত্যাগী, পরীক্ষিত, জনপ্রিয় ও মেধাবীরা। ফলে ক্ষোভ থেকে কেউ কেউ দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। তবে অধিকাংশ বিদ্রোহীই স্থানীয় এমপি বলয়ের রাজনীতির সাথে যুক্ত। তারা দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত হওয়ায় বিদ্রোহী করেছেন। এ বিদ্রোহীদের সরাসরি ইন্ধন দিচ্ছেন ওই সব এমপিরা।

তবে আ.লীগের শীর্ষ নেতারা বলছেন, দল ও দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে যারা ভোটের মাঠে বিদ্রোহী হয়েছেন এবং বিদ্রোহীদের মদত দিচ্ছেন তাদের বিষয়ে আ.লীগের অবস্থান পরিষ্কার। আগামীতে আর তারা কোনো পদ-পদবিতে আসতে পারবেন না।

তারা আরও বলছেন, ভোটের মাঠে বিদ্রোহী আ.লীগের দুর্বলতার প্রকাশ। বিদ্রোহী থাকা দলের নীতি-আদর্শের ওপর আঘাত। ঐক্যবদ্ধ তৃণমূলে ভাঙন সৃষ্টির অপচেষ্টা। যা আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন ক্ষমতাসীন দলটি।

আ.লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘নির্বাচনে অনেকেই মনোনয়ন চান। কিন্তু সবাইকে তো আর মনোনয়ন দেয়া যায় না। মনোনয়ন একজনকেই দিতে হয়। তাই আমাদের নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তেই প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়। নেত্রী যাকে মনোনয়ন দেন তাকে নির্বাচিত করাই আমাদের দলীয় আদর্শ ও লক্ষ্য। মনে রাখতে হবে, আমাদের মধ্যে মতবিরোধ থাকতে পারে, তবে তা হবে পার্টির সমালোচনা কিন্তু পাবলিকলি তা আলোচনা আসতে পারবে না। দল দায়িত্বশীল নেতাকর্মীদের থেকে অদায়িত্বশীল কথাবার্তা আশা করে না।’

জানতে চাইলে আ.লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান আমার সংবাদকে বলেন, ‘নৌকার মনোনীত প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে আ.লীগ কাজ করে যাচ্ছে। এ বিষয়ে আমাদের সভানেত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। আশা করি জেলা-উপজেলাসহ সকল ইউনিটির নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকার পক্ষে কাজ করবে এবং নৌকার বিজয় নিশ্চিত করবে। তবে যারা দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে বিদ্রোহী হয়েছেন তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেয়া হবে না। তাদের সাংগঠনিক শাস্তির মুখোমুখি করা হবে।’

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১