আকাশবার্তা ডেস্ক :
চলতি বছরের শুরু হয়েছিল ভয়াল করোনা সংকটের মধ্যেই। ২০১৯ সালে শুরু হওয়া বৈশ্বিক মহামারির দ্বিতীয় ও তৃতীয় ঢেউে কেটেছে বছরের অর্ধেকের বেশি সময়। বিগত দুই বছরের ধারাবাহিকতায় সেই সময়ে মানবিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্ব দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।
সংগঠনটির কেন্দ্র থেকে তৃণমূল প্রতিটি স্তরের নেতাকর্মীরা সারা দেশে অসহায় মানুষের পাশে ছিল। করোনা সংকট কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসার পর থেকে অদ্যাবধি দল গোছানোর কাজে জোরেশোরে মাঠে নেমেছে আওয়ামী ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা।
২০২১ সাল শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা বিশ্বকে বিপর্যয়ের বছর হিসেবে চিহ্নিত থাকবে। বছরের প্রায় আট মাস ঘরবন্দি ছিল বাংলাদেশের রাজনীতি। মাঠের রাজনীতি ছিল না বললেই চলে। তবে করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় আকাশচুম্বি সাফল্য কুড়িয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।
মাঠের রাজনীতি ঘরবন্দি থাকলেও মানবিক কর্মকাণ্ডে জয় করেছে মানুষের মন। বছরের শেষ দিকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও সুবর্ণজয়ন্তী ঘিরে নানা উৎসব ও সাংগঠনিক কাজে ফিরে দলীয় রাজনীতি।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, করোনায় সারাবিশ্ব যখন বিপর্যস্ত, সেই অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আওয়ামী লীগ মানবিক মূল্যবোধ, মানবতায় সাড়া দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।
আপন আত্মীয়-স্বজনও যখন ভয়ে দূরে ছিল, সেই সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পরম আত্মীয় হয়ে বুকে তুলে নিয়েছে। মানবিক সহায়তা দিয়েছে, মূল্যবোধ জাগ্রত করেছে— এটাই আওয়ামী লীগের প্রকৃত রাজনীতি। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর সাংগঠনিক কাজ শুরু হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও সুবর্ণজয়ন্তী ঘিরে নানা উৎসব পালন করা হচ্ছে।
দুর্যোগকালীন সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা আসার পরপরই সারা দেশে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে মাঠে নামে আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।
করোনা সংকটে দেশব্যাপী মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ, মাইকিং, কর্মহীন ঘরবন্দি মানুষের মাঝে খাদ্য ও অর্থ সহায়তা, ফ্রি টেলিহেল্থ সার্ভিস, ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, করোনা রোগী বহন, করোনায় মৃত লাশের গোসল, জানাজা, দাফন ও সৎকার, দরিদ্র কৃষকের ধান কেটে মাড়াই করে ঘরে তুলে দেয়া, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, বৃক্ষরোপণ ও বিতরণ, ঘূর্ণিঝড় আম্ফান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে।
এছাড়া বছর জুড়েই প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয় প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে গৃহহীনদের জমিসহ ঘর প্রদান কর্মসূচিতে সরব ছিল আওয়ামী লীগ। দেশের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সামগ্রী উন্নতমানের মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, ভেন্টিলেটর, অক্সিজেন সিলিন্ডার বিতরণ করেছে দলটির নেতারা।
ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বাড়লে সচেতনতা বাড়াতে মাঠে নামে আওয়ামী লীগ। পাশাপাশি পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিও পরিচালনা করে। সেপ্টেম্বর মাস থেকে সাংগঠনিক কাজে মনোযোগ দেয় আওয়ামী লীগ।
ইতোমধ্যে বেশ কিছু জেলায় বর্ধিত সভা ও সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা হয়েছে। বেশ কিছু জেলায় সম্মেলন সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণে ইউনিট পর্যায়েও সম্মেলন করে আওয়ামী লীগ।
রাজশাহী বিভাগে ৩৫টি উপজেলার সম্মেলন হয়েছে। স্থানীয় নির্বাচনে শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও বেফাঁস মন্তব্য করে দলীয় পদ হারিয়েছে অন্তত তিন শতাধিক নেতা। এর মধ্যে রয়েছে— গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও নগরের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম।
তথ্য প্রতিমন্ত্রীর পদ ও দলীয় পদ হারিয়েছেনর ডা. মুরাদ হাসান। সহযোগী সংগঠন যুবলীগের উদ্যোগে সারাদেশে করোনায় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায় নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রীয়, ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ মহানগরসহ সব মহানগর, জেলা-উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড যুবলীগের প্রতিটি ইউনিট অসহায় মানুষকে সহায়তা করে। যুবলীগের মাধ্যমে সরাসরি সাড়ে ৭৫ লাখ মানুষ খাদ্য সহায়তা পেয়েছে। যুবলীগের টেলিমেডিসিন সেবা পেয়েছে ২০ লাখ সাধারণ মানুষ।
প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রায় ১২৪টি পরিবারকে ঘর উপহার দিয়েছে যুবলীগ। বছরের শেষ দিকে সাংগঠনিক কাজে মনোযোগী হয় যুবলীগ। ইতোমধ্যে ৬০ জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেশ কয়েকটি জেলা সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।
যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, করোনাকালীন মানবিক কাজে প্রতিটি নেতাকর্মীকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করেছি। পাশাপাশি সাংগঠনিক কাজও এগিয়ে আনা হচ্ছে, ইতোমধ্যে বর্ধিত সভা ও সম্মেলনের কাজ চলমান রয়েছে।
আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের উদ্যোগে বৈশ্বিক করোনা সংকটে দেশব্যাপী মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ, মাইকিং, কর্মহীন ঘরবন্দি মানুষের মাঝে খাদ্য ও অর্থ সহায়তা, ফ্রি টেলিহেল্থ সার্ভিস, ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, করোনা রোগী বহন, করোনায় মৃত লাশের গোসল, জানাজা, দাফন ও সৎকার, দরিদ্র কৃষকের ধান কেটে মাড়াই করে ঘরে তুলে দেয়া, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, বৃক্ষরোপণ ও বিতরণ, ঘূর্ণিঝড় আম্ফান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণসহ বিভিন্ন মানবিক কর্মসূচি পালিত হয়। আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ কমে আসার পর সেপ্টেম্বর থেকে সাংগঠনিক কাজ শুরু হয়েছে।
প্রায় প্রতিটি জেলায় সাংগঠনিক সফর, বর্ধিত সভা, কর্মিসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১০টি জেলায় সম্মেলন এবং অর্ধশতাধিক উপজেলায় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের উদ্যোগে করোনা সংকটে বছরজুড়ে দেশব্যাপী মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ, খাদ্য ও অর্থ সহায়তা, কৃষকের ধান কেটে মাড়াই করে ঘরে তুলে দেয়া, বৃক্ষরোপণ ও বিতরণসহ বিভিন্ন মানবিক কর্মসূচি পালিত হয়। গত ৬ মাসে সাংগঠনিক কাজেও সাফল্য পেয়েছে সংগঠনটি।
আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আজগর নস্কর বলেন, মানবিক কাজের পাশাপাশি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছি। ইতোমধ্যে ৩ টি জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৬১ টি জেলায় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি (আহ্বায়ক কমিটি) অনুমোদন পেয়েছে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে সব ইউনিটের সম্মেলন করার টার্গেট নিয়ে কাজ করছি।




























