শুক্রবার ১৩ই মার্চ, ২০২৬ ইং ২৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘গত ১৩ বছরে কী কী করেছি, তা আপনারাই মূল্যায়ন করবেন’

আকাশবার্তা ডেস্ক :

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনগণের সরকার হিসেবে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা আমাদের দায়িত্ব এবং কর্তব্য বলেই আমি মনে করি। গত ১৩ বছরে আমরা আপনাদের জন্য কী কী করেছি, তা আপনারাই মূল্যায়ন করবেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের বর্তমান মেয়াদের তিন বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে শুক্রবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ কথা বলেন সরকারপ্রধান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক ষড়যন্ত্রের জাল আর প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করতে যাচ্ছি। এই সেতু দেশের দক্ষিণাঞ্চলকে সরাসরি রাজধানীসহ অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করবে।

পদ্মা নদীর ওপর ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সেতু দেশের জিডিপিতে ১ দশমিক ২ শতাংশ হারে অবদান রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ বছরের শেষ নাগাদ নাগাদ উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এ অংশে পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে।

উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২০ দশমিক ১০ কিলোমিটারের এমআরটি-৬ লাইনের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৬ সালে। ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ প্রকল্পের সমন্বিত অগ্রগতি হয়েছে ৭২ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

এর মধ্যে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অংশের কাজ প্রায় ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে। এ বছর ডিসেম্বরে ওই অংশে যাত্রী পরিবহন শুরু করা যাবে বলে আশা করছে সরকার। আর মতিঝিল পর্যন্ত বৈদ্যুতিক ট্রেন চলাচল শুরু হবে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আশা করা যায়, মেট্রোরেল রাজধানী ঢাকার পরিবহন খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসবে।

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মাণ কাজের তিন চতুর্থাংশ শেষ হয়ে গেছে। আগামী অক্টোবরেই দেশের প্রথম এই টানেল চালু করা যাবে বলে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে আশা প্রকাশ করেন।

কর্ণফুলী নদীর দুই পাড়ে চীনের সাংহাইয়ের আদলে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ গড়ে তুলতে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল নির্মাণ’ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সরকার। ৩ দশমিক ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই টানেল হলে চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্যের আর প্রসার ঘটবে, জীবনমানেও পরিবর্তন আসবে বলে সরকার আশা করছে।

দেশের অন্য বড় প্রকল্পগুলোর কাজও এগিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ভাষণে বলেন, দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিট আগামী বছরের এপ্রিল নাগাদ চালু হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, জনগণের সরকার হিসেবে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা আমাদের দায়িত্ব এবং কর্তব্য বলেই আমি মনে করি। গত ১৩ বছরে আমরা আপনাদের জন্য কী কী করেছি, তা আপনারাই মূল্যায়ন করবেন। তবে আমি দৃঢ়ভাবে বলতে পারি আমরা যেসব ওয়াদা দিয়েছিলাম, আমরা তা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পেরেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের বর্তমান এবং আগামী দিনের সব কার্যক্রমের লক্ষ্য হচ্ছে নতুন প্রজন্মের জন্য একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ বিনির্মাণ। অফুরন্ত জীবনীশক্তিতে বলীয়ান তরুণ প্রজন্মই পারে সকল কূপমণ্ডুকতা এবং প্রতিবন্ধকতা দূর করে একটি প্রগতিশীল অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে। যে বাংলাদেশের স্বপ্ন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেখেছিলেন।

তিনি বলেন, গত ১৩ বছরে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়েছে। দারিদ্র্য দূরীকরণ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন, মাতৃমৃত্যু-শিশুমৃত্যুর হার হ্রাস, গড় আয়ু বৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষার হার বৃদ্ধিসহ নানা আর্থ-সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ আজ দক্ষিণ এশিয়ায় নেতৃত্ব দিচ্ছে। এটা সম্ভব হয়েছে আমাদের ওপর আস্থা রাখার ফলে।

শেখ হাসিনা বলেন, পর পর তিনবার রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ দিয়ে আপনারা উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়তা করেছেন। এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে আমরা একটি কল্যাণকামী, উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি, যাতে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত দেশগুলোর কাতারে সামিল হতে পারে। এজন্য অতীতে যেমন আপনারা আমাদের সঙ্গে ছিলেন, ভবিষ্যতে আমাদের সঙ্গে থাকবেন, এ আশাবাদ ব্যক্ত করছি।

তিনি বলেন, মহামারীর কারণে এক গভীর সঙ্কটের মধ্য দিয়ে আমাদের বিগত ২০২০ এবং ২০২১ সাল অতিক্রম করতে হয়েছে। সেই সঙ্কট এখনও কাটেনি। এর মধ্যেই আবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নতুন করে করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। আমাদের এখনই সাবধান হতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। যারা টিকা নেননি তাদের দ্রুত টিকা নেওয়ার অনুরোধ জানাই।

দেশে এখন পূর্ণোদ্যমে টিকাদান কার্যক্রম চলছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বলেন, এখন পর্যন্ত ১২ কোটি ৯৫ লাখ ৮০ হাজার ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ডোজ পেয়েছেন  প্রায় ৭ কোটি ৫৮ লাখ এবং দুই ডোজ পেয়েছেন ৫ কোটি ৩৫ লাখ ৮২ হাজার মানুষ।

সব মিলিয়ে দেশের ৪৪ শতাংশের বেশি মানুষ অন্তত এক ডোজ টিকা পেয়েছেন, দুই ডোজ পেয়েছেন ৩১ শতাংশের বেশি নাগরিক। এছাড়া গতমাস থেকে বুস্টার ডোজ দেওয়ার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের হাতে সাড়ে ৯ কোটির বেশি ডোজ টিকা মজুদ আছে।

মহামারী যে বিশ্ব অর্থনীতিতে এক ‘গভীর ক্ষতের’ সৃষ্টি করেছে, সে বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক দেশের অর্থনীতিতে ধস নেমেছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিও ক্ষতির মুখে পড়েছে, নেমে এসেছিল স্থবিরতা। তবে, আপনাদের সহায়তায় আমরা তা অনেকটা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি। বিভিন্ন নীতি-সহায়তা এবং বিভিন্ন উদার-নৈতিক আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ প্রদানের মাধ্যমে আমরা অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

এখন পর্যন্ত ২৮টি প্যাকেজের মাধ্যমে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এর মধ্যে অক্টোবর পর্যন্ত ১ লাখ ৬ হাজার ৫২২ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে, যা মোট বরাদ্দের ৫৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এতে প্রায় ৬ কোটি ৭৪ লাখ মানুষ এবং প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার প্রতিষ্ঠান উপকৃত হয়েছে।

করোনাভাইরাসের অভিঘাত মোকাবিলা করেও গত অর্থবছরে দেশের জিডিপি ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ হারে বেড়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রক্ষেপণ অনুযায়ী জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২১ সালে মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৫৪ মার্কিন ডলারে।

করোনাভাইরাসের নতুন ঢেউ থেকে সবার সুরক্ষার জন্য প্রার্থনা রেখে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণের শেষাংশে বলেন, সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১