আকাশবার্তা ডেস্ক :
শপথ নিলেন নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) সাবেক সিনিয়র সচিব কাজী হাবিবুল আউয়াল ও চার নির্বাচন কমিশনার। রবিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী তাদের শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মোহাম্মদ আলী আকবর। সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে এই শপথ অনুষ্ঠিত হয়।
আগামীকাল (সোমবার) থেকে তিনি নির্বাচন কমিশন ভবনে দায়িত্ব পালন শুরু করবেন। সেখানে সকালে তাকে বরণ করে নেওয়া হবে। আর দুপুর ১টায় সাংবাদিকদের ব্রিফ করার কথা রয়েছে।
দ্বাদশ নির্বাচন অনুষ্ঠানের গুরুদায়িত্ব পালন করবেন কারা- এই নিয়ে কৌতূহলের শেষ ছিল না। অবশেষে গতকাল শনিবার অবসান হয় সেই অপেক্ষার। নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন করে দেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। সাবেক সিনিয়র সচিব কাজী হাবিবুল আউয়ালকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হিসেবে নিয়োগ দিয়ে নতুন ইসি গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। তিনি আইন, ধর্ম ও সর্বশেষ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ছিলেন।

অন্য চার নির্বাচন কমিশনার (ইসি) হন- সাবেক জেলা ও দায়রা জজ রাশিদা সুলতানা, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আহসান হাবীব খান, সাবেক সিনিয়র সচিব মোহম্মদ আলমগীর ও সাবেক সিনিয়র সচিব আনিছুর রহমান।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী সার্চ কমিটির সঙ্গে বৈঠকে হাবিবুল আউয়ালের নাম প্রস্তাব করেন বলে জানা যায়।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে গতকাল শনিবার জানানো হয়- সংবিধানের ১১৮(১) ধারামতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সংবিধান প্রদত্ত ক্ষমতাবলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য চার নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দিয়েছেন। স্বাধীনতার ৫০ বছর পর গত ২৭ জানুয়ারি সংসদে নির্বাচন কমিশন গঠনসংক্রান্ত আইন পাস করা হয়। সেই আইন অনুযায়ী দেশে প্রথমবারের মতো নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়।
গত শনিবার নিয়োগ পাওয়ার খবরের পরপরই প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, শপথের পর তার কমিশনের প্রথম চ্যালেঞ্জ হবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেয়া। বড় দলগুলো যেন নির্বাচনে অংশ নেয় সেই চেষ্টা করা হবে।
সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশনার মো. আনিছুর রহমান বলেন, আইন ও বিধি অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করব। সংবিধান যেটুকু ক্ষমতা দিয়েছে তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করব। শপথ নেয়ার পরে সবাই মিলে বসেই চ্যালেঞ্জগুলো এবং অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা করব।
সাবেক সিনিয়র সচিব মোহম্মদ আলমগীর তার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জানান, সংবিধান মোতাবেক দেয়া ক্ষমতার সুষ্ঠু প্রয়োগ করে জাতীয় নির্বাচনসহ সব নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য করার জন্য চেষ্টা করব।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগের লক্ষ্যে ১০ জনের নাম সুপারিশের জন্য গত ৫ ফেব্রুয়ারি ৬ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করেন রাষ্ট্রপতি। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসানকে এর প্রধান করা হয়। যোগ্য ব্যক্তিদের নাম বাছাই করতে গত ১২ ও ১৩ ফেব্রুয়ারি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে তিনটি বৈঠক করে সার্চ কমিটি। এসব বৈঠকে অংশ নেয়া বিশিষ্টজনরা নির্বাচন কমিশনার হিসেবে যোগ্য ব্যক্তিদের কিছু নাম প্রস্তাব করেন।
এর আগে সার্চ কমিটির পক্ষ থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে এবং ব্যক্তিপর্যায়ে সবার কাছে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে যোগ্য ব্যক্তিদের নাম চাওয়া হয়। আওয়ামী লীগসহ অনেক রাজনৈতিক দল নাম পাঠায়। অনেকে ব্যক্তিগতভাবেও নাম পাঠান। তবে বিএনপি, সিপিবিসহ কয়েকটি দল এ প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়নি।
সার্চ কমিটির কাছে সম্ভাব্য সিইসি ও ইসি হিসেবে মোট ৩২২ জনের নাম জমা পড়ে। এরপর কমিটির সদস্যরা নিজেদের মধ্যে কয়েকটি বৈঠক করে ওই ৩২২ জন থেকে প্রথমে ৫০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা করেন, পরবর্তী বৈঠকে তা নেমে আসে ১২-১৩ জনে। গত ২২ ফেব্রুয়ারি সার্চ কমিটি ১০ জনের নাম চূড়ান্ত করে। একদিন পর গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে ১০ জনের এ তালিকা জমা দেন সার্চ কমিটির সদস্যরা। এর দুদিন পর গতকাল বিকালে নতুন ইসি গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।