আকাশবার্তা ডেস্ক :
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, শীর্ষ নেতৃত্বের দুর্নীতি ও এতিমের অর্থ আত্মসাতের দায়ে বিএনপি এখন দেউলিয়া ও দিশেহারা। জনবিচ্ছিন্ন দলটির নেতারা মিথ্যাচার, গুজব ও অপপ্রচারে ব্যস্ত। দলটির নেতাদের মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের পথ পরিহার করে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আস্থা রেখে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের।
সোমবার (২৩ মে) আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা ‘ভূতের মুখে রাম নাম’ ছাড়া কিছু নয় উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওই বিবৃতিতে বলেন, বিএনপি-জামায়াতের অশুভ জোট শাসনামলে বিবিসির সাংবাদিক মানিক চন্দ্র সাহা, খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক জন্মভূমি পত্রিকার সম্পাদক হুমায়ুন কবির বালুসহ ১৬ জন সাংবাদিককে তারা হত্যা করা হয়েছিল। তাদের শাসনামলে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ৫০০টিরও বেশি মামলা এবং ৮০০ হামলার ঘটনা ঘটেছিল। বিট্রিশ টেলিভিশন চ্যানেল ৪-এর সাংবাদিক লিওপোল্ড ব্রুনো সরেন্তিনো. জেইবা মালিকসহ কয়েকজন বিদেশি সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করে নির্যাতন চালানো হয়েছিল। জঙ্গি হামলার ঘটনায় উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত অনেক সাংবাদিককে আসামি করা হয়েছিল। এগুলো কিন্তু দেশের মানুষ ভুলে যায়নি।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে জাতিকে জ্ঞান দিচ্ছেন! অথচ প্রতিদিন গণমাধ্যমে বিএনপি নেতাদের মিথ্যাচারের বিস্তারিত সংবাদ পরিবেশিত হচ্ছে। টেলিভিশনে তাদের বিভিন্ন কর্মসূচি সরাসরি লাইভ সম্প্রচার করা হচ্ছে। টকশোসহ বিভিন্ন প্রোগ্রামে বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচার ও অপপ্রচার সম্প্রারিত হচ্ছে। তারপরও তারা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে অবান্তর প্রশ্ন তুলছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতার উন্মুক্ত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে শুধু সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন বাণিজ্যিক সম্প্রচারের সুবিধা ভোগ করছে। অর্ধশত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল, অনলাইন টিভি, আইপি টিভির দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। সহস্রাধিক দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক পত্রিকা এবং অসংখ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল রয়েছে। যেখানে সকল রাজনৈতিক দলের সংবাদ কর্মসূচী বিস্তারিতভাবে প্রকাশিত হচ্ছে। অথচ বিএনপির শাসনামলে সাংবাদিকদের মর্যাদা ও অধিকার বিবেচনা করা হয়েছিল শ্রম আইন-এর আওতায়। তাদের সময় সাংবাদিকদের নূন্যতম সামাজিক মর্যাদা রক্ষা করা হয়নি।
বিএনপির সমালোচনা করে বিবৃতিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, অসাংবিধানিক পন্থায় নিজেকে অবৈধভাবে রাষ্ট্রপতি ঘোষণার মধ্য ক্ষমতাদখল করেন স্বৈরাচার জিয়াউর রহমান। ক্ষমতা দখলের পর তিনি বিএনপি প্রতিষ্ঠা করে। সেই দলের নেতাদের মুখে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা মানায় না। স্বাধীনতার নেতৃত্বাদানকারী সংগঠন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করতে বিএনপির নেতারা বাক-স্বাধীনতার অপব্যবহার করে আসছে। গণমাধ্যম নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতা বিরোধী নতুন ষড়যন্ত্রের বর্হিপ্রকাশ।