আকাশবার্তা ডেস্ক :
অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে বেড়েই চলেছে সিলেটের নদ-নদীর পানি। এরইমধ্যে সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার শূন্য দশমিক ৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এছাড়া কুশিয়ারা, সারি, লোভা ও ধোলাই নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, গত তিনদিন ধরেই সিলেটের সবকয়টি নদীর পানি বেড়ে চলেছে। এছাড়া বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় নিম্নাঞ্চলগুলোতে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
পাউবোর তথ্যমতে, সোমবার দুপুর ৩টায় সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে ছিল ১৩ দশমিক ৩৫ মিটার। এই পয়েন্টে বিপদসীমা ১২ দশমিক ৭৫ মিটার। অর্থাৎ এই পয়েন্টে বিপদসীমার শূন্য দশমিক ৬ মিটার ওপর দিয়ে পানির স্রোত প্রবাহিত হচ্ছে। এ নদীর পানি সিলেট পয়েন্টে ছিল ১০ দশমিক ৪২ মিটার।
কুশিয়ারা নদীর পানি আমলশিদ পয়েন্টে আজ দুপুর ৩টায় ছিল ১৪ দশমিক ৭০ মিটার। এ নদীর পানি শেওলা পয়েন্টে ছিল ১২ দশমিক ৩০ মিটার। পানি বেড়েছে শেরপুর পয়েন্টেও। এখানে পানিসীমা ছিল ৭ দশমিক ৭১ মিটার। এ নদীর পানি বাড়ছে ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টেও। এখানে পানিসীমা ৯ দশমিক ৭৮ মিটার।
এছাড়া লোভা নদীর পানিসীমা আজ দুপুরে ছিল ১৩ দশমিক ৯৫ মিটার। সারি নদীর পানিসীমা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৭২ মিটার। ধোলাই নদীর পানিসীমা ইসলামপুর পয়েন্টে দুপুরে ছিল ৯ দশমিক ৮৩ মিটার।
সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসিফ আহমদ আমার সংবাদকে জানান, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে সবকয়টি নদনদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। যদি বৃষ্টি অব্যাহত থাকে আবারও বন্যা হবে। ফলে দুর্ভোগ বাড়বে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মাসেই সিলেট অঞ্চল বন্যার কবলে পড়তে পারে। তবে এ বন্যার দীর্ঘায়িত হবে না বলে আভাস দিয়েছে তারা।
গেল মাসে দ্বিতীয় সপ্তাহে ভয়াবহ বন্যায় আক্রান্ত হয়েছিল সিলেট ও সুনামগঞ্জ। প্রায় এক সপ্তাহ স্থায়ী সে বন্যায় শত শত কোটি টাকার ক্ষতি হয় এ দুই জেলায়। সে বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই আবারো সিলেট অঞ্চলে চোখ রাঙাচ্ছ বন্যা।