মঙ্গলবার ১০ই মার্চ, ২০২৬ ইং ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দ্বন্দ্ব নিরসনে কৌশলে এগোবে আ.লীগ

আকাশবার্তা ডেস্ক :

তৃণমূলে সৃষ্ঠ দ্বন্দ্ব নিরসনে আরও কৌশলী হবে আওয়ামী লীগ। এ জন্য দলের জেলা-উপজেলার শীর্ষ নেতাদের সাথে ধারাবাহিক বৈঠকে বসবেন দলটির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দ্বন্দ্ব নিরসনের পাশাপাশি তৃণমূল আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী করতে বৈঠকে বসবেন তিনি।

দলটির শীর্ষ নেতারা বলছেন, নেত্রীর সাথে বৈঠকের পর তৃণমূল আরও চাঙ্গা হবে। ঐক্য ফিরে আসবে। রাজনীতির প্রাণ ফিরে আসবে। ফলে আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে তৃণমূলের বৈঠককে দ্বন্দ্ব নিরসনের কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্রে, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপিসহ সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর আন্দোলন সংগ্রাম, মিছিল-মিটিং, সভা-সামাবেশে বাধা না দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি চান দেশের সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক।

ওই নির্বাচনে যাদের জনসমর্থন পেয়ে নির্বাচিত হবে, তারাই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসবে। ফলে আসন্ন এ নির্বাচনকে অনেকটাই চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনের এ চ্যালেঞ্জ উত্তরণে দলের তৃণমূলকে আরও গুরুত্ব দিতে চান আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ বিষয়ে দলের বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকদের ইতোমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। গত ১৪ আগস্ট বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত আট নেতার সাথে বৈঠকও করেছেন আওয়ামী লীগপ্রধান। তৃণমূল আওয়ামী লীগের চলমান কোন্দল মিটিয়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা, ডিসেম্বরের মধ্যে তৃণমূল গোছানোর কাজ শেষ করা, সম্মেলন সম্পূর্ণ হওয়া জেলা-উপজেলায় পূর্ণঙ্গ কমিটি গঠনের কাজ শেষ করা, প্রতিটি ইউনিটে ব্যাপক হারে সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু করা ও বিরোধী দলের কার্যক্রমে বাধা না দেয়ার জন্য দলের সাংগঠনিক সম্পাদকদের নির্দেশনাও দেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

আ.লীগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের তৃণমূল এখন দ্বিধা-দ্বন্দ্বে বিভক্ত। অধিকাংশ স্থানে সংসদ সদস্য বিমুখ জেলা-উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা। পদবঞ্চিত হয়ে দুর্দিনের ত্যাগীরাও দূরে সরে গেছেন। নিজেদের ক্ষমতার বলয় ধরে রাখতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের প্রভাবশালীরা ছিলেন নৌকাবিরোধী। ফলে দল দীর্ঘদিন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকলেও দুর্বল হয়েছে তৃণমূল আওয়ামী লীগ। এ অবস্থায় তৃণমূলের এসব দ্বন্দ্ব আগামী নির্বাচনে দলটির জন্য হবে বিষফোঁড়া। গত ১৪ আগস্ট দলের সাংগঠনিক সম্পাদকদের রিপোর্টে উঠে আসে এসব তথ্য।

এগুলো সমাধানের জন্য নেত্রীর মতামত চান বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্তরা। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য আগামী সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে বিবদমান এসব এলাকার নেতাদের গণভবনে ডাকবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তৃণমূল নেতাদের সাথে বিস্তর আলোচনা করবেন তিনি। মূলত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে যেন তৃণমূলে কোনো ধরনের দ্বন্দ্ব ও কোন্দল না থাকে, সে জন্য ধারাবাহিক বৈঠক করবেন আওয়ামী লীগ প্রধান।

আ.লীগের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলছেন, ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় সম্মেলন। ওই সম্মেলনে আগে তৃণমূলের মেয়াদোত্তীর্ণ সব ইউনিটের সম্মেলন শেষ করার টার্গেট ক্ষমতাসীনদের। তারা মনে করছেন, নির্বাচনের বছরে দেশের পরিবেশ কী হবে! নির্বাচনের পরিবেশ কেমন হবে! রাজনীতির পরিবেশ কেমন হবে! বিএনপি-জামায়াত গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নামে দেশের অভ্যন্তরে কি পরিবেশ তৈরি করবে!

সব বিষয় মাথায় রেখেই চলতি বছরকে সাংগঠনিক কাজে লাগাতে চায় আওয়ামী লীগ। জন্যই তৃণমূলের সম্মেলন, নতুন সদস্য সংগ্রহ, সদস্য নবায়ন, দ্বন্দ্ব দূরীকরণ, ত্যাগীদের মূল্যায়ন, হাইব্রিডমুক্তকরণ ও যে সব জেলা-উপজেলার সম্মেলন শেষ হয়েছে, সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার তাগাদা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, নেত্রীর সাথে বসা মানেই তৃণমূল চাঙ্গা হওয়া। সাংগঠনিক গতি ফিরিয়ে আশা। মাঠের রাজনীতিতে সাহসী হওয়া। নেত্রীর সাথে বসে তৃণমূল অনুপ্রেরণা পাবে, সাহস পাবে, শক্তি পাবে। নির্বাচনি হাওয়া তৈরি হবে এবং নৌকার বিজয়ে জোয়ার সৃষ্টি হবে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘তৃণমূলের সাথে আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক সংসদ নির্বাচনের আগে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই বৈঠকের মধ্যে দিয়ে তৃণমূলের নেতাদের মাঝে ঐক্য ফিরে আসবে। সংসদ নির্বাচনের আগে তৃণমূলের রাজনীতিতে প্রাণ ফিরে আসবে।’

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে দ্বন্দ্ব থাকতে পারে কিন্তু নির্বাচনের মাঠে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সবসময় ঐক্যবদ্ধ থাকে। আগামীতেও এই ঐক্য বহাল থাকবে। নেত্রীর সাথে বৈঠকের পর এই ঐক্য আরও গতি পাবে।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম বলেন, ‘আওয়ামী লীগের প্রাণশক্তি তৃণমূল। এই তৃণমূলে গতিশীল রাজনীতি ফিরিয়ে আনার মধ্য দিয়ে জাতীয় নির্বাচনে জণগণের সমর্থন ও ম্যান্ডেট নেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, তৃণমূলের অনেক স্থানে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আছে। কোন্দল আছে। বিভক্তি বিভাজন আছে। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে তৃণমূল নেতাদের বৈঠকের পর দেশের কোথাও আর দ্বন্দ্ব থাকবে না। সবাই দলের জন্য, নেত্রীর জন্য, নৌকার বিজয়ের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।’

সূত্র : দৈনিক আমার সংবাদ।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১