রবিবার ১লা মার্চ, ২০২৬ ইং ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের নির্দেশ ইসরায়েলে ও যুক্তরাষ্ট্রে এমন হামলা হবে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি লক্ষ্মীপুরে আগুনে পুড়ে ৯ দোকান ছাই, ৭৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে সবার সহযোগিতা চাই নবনির্বাচিত ২৯৭ সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ নির্বাচনে ভোটের বক্স নিয়ে যাবে নদীর দিকে, আশঙ্কা জেএসডি নেতার ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মহিমান্বিত রজনী-শবে বরাত জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশ পাকিস্তান হয়ে যাবে : ফজলুর রহমান লক্ষ্মীপুরে ৬ সিলসহ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার : বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন যাদের জন্য দেশে আসতে পেরেছেন, তারা জুলাইয়ের অবদান অস্বীকার করছেন : ডা. শফিকুর রহমান

ভয়াল ২১ আগষ্ট : দানবীয় সন্ত্রাসের বিভীষিকাময় দিন আজ

আকাশবার্তা ডেস্ক :

রাজনৈতিক ইতিহাসে কলঙ্কময়, রক্তস্নাত ও বিভীষিকাময় ২১ আগস্ট আজ। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের এই দিনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ঘটেছিল নারকীয় গ্রেনেডহামলা। হিংস্র দানবীয় সন্ত্রাস এদিন আক্রান্ত করেছিল মানবতাকে। বাংলাদেশের ইতিহাসের সেই মর্মস্পর্শী বারুদ আর রক্তমাখা বীভৎস রাজনৈতিক হত্যাযজ্ঞের এক কলঙ্কময় দিন। হত্যাযজ্ঞ-রক্তস্রোত-ধ্বংস ও নারকীয় গ্রেনেডহামলার চৌদ্দতম বার্ষিকী। এই চাঞ্চল্যকর গ্রেনেডহামলার মামলায় এখন পর্যন্ত ৩০ জন আসামিকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার করেছে। আর ১৯ জন আসামি পলাতক রয়েছেন। আর পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে পুলিশ সদরদপ্তর সূত্র জানিয়েছে।

চাঞ্চল্যকর ২১ আগস্ট গ্রেনেডহামলা মামলার বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর সৈয়দ রেজাউর রহমান আমার সংবাদকে বলেন, গ্রেনেডহামলা মামলায় মোট ৫২ জন আসামির বিরুদ্ধে চার্জসিট হয়েছিল। এখন ৪৯ জন আসামি আছে। ৩ জন আসামির ফাঁসির রায় হয়েছে। আর এই ৪৯ জন আসামির মধ্যে বর্তমানে ২৩ জন আসামি হাজতে আছেন। আর ৮ জন আসামি জামিনে রয়েছেন। এছাড়া, মামলায় বিএনপির নেতা তারেক জিয়া ও হারেস চৌধুরীসহ মোট ১৮ জন আসামি পলাতক রয়েছেন। আগামী ২২ ও ২৩ আগস্ট অর্থাৎ মঙ্গল ও বুধবার মামলার সাফাই সাক্ষীর শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। এখন পর্যন্ত ১১তম সাফাই সাক্ষী নেওয়া হয়েছে। আর ১২তম সাক্ষীর কার্যক্রম শুরু হবে বলে তিনি জানান। গত ২০০৪ সালের এই দিনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সন্ত্রাসবিরোধী এক জনসভায় শেখ হাসিনার ওপর সভ্য জগতের অকল্পনীয় এক নারকীয় গ্রেনেডহামলা চালানো হয়। সেদিনে সেই গ্রেনেডের হিংস্র দানবীয় সন্ত্রাস আক্রান্ত করেছিল মানবতাকে। রক্ত-ঝড়ের প্রচ-তা সেদিন মলিন করে সমস্ত দেশবাসীকে। বঙ্গবন্ধু এভিনিউ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণ সেদিন মুহূর্তেই এক ভয়ঙ্কর-দানবীয় মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমবেশে গ্রেনেডহামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সহধর্মিনী ও তৎকালীন মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নারী-পুরুষ নিহত হন। আর শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছিলেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের

বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের দুঃসহ স্মৃতি বিজড়িত শোকাবহ-রক্তাক্ত আগস্ট মাসেই আরেকটি ১৫ আগস্ট ঘটানোর টার্গেট নিয়েই ঘাতকরা গ্রেনেডহামলা চালিয়েছিল বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের রাস্তায়। আর ১৯৭৫ সালের মতোই সেই টার্গেটও ছিল এক ও অভিন্ন। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগকে সম্পূর্ণ নেতৃত্বশূন্য ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস করতেই ঘাতকরা ২১ আগস্ট দানবীয় হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকাকালে খোদ রাজধানীতে প্রকাশ্য দিবালোকে চালানো হয় ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভয়াল ও বীভৎস গ্রেনেডহামলার ঘটনা। আর তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের প্রত্যক্ষ ইন্ধন ছিল। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরিসহ ওই সরকারের মন্ত্রী থেকে শুরু করে অনেকেই জড়িত। যা পরবর্তীতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে প্রকাশ পায়।

হিংস্র ঘাতকদের গ্রেনেডহামলায় সেদিন মানবঢাল রচনা করে নেতা-কর্মীরা বঙ্গবন্ধুকন্যা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা করতে পারলেও ওই নৃশংস হামলায় বেগম আইভি রহমানসহ ২৪টি তরতাজা প্রাণ ঝরে পড়ে। আর আহত হওয়া পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মীর অনেকেই ঘাতক গ্রেনেডের স্পিøন্টারের দুর্বিষহ যন্ত্রণা নিয়েই মৃত্যুর প্রহর গুনছেন। আবার অনেকেই হাত-পা-চোখসহ দেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ হারিয়ে অসংখ্য নেতাকর্মী পঙ্গুত্ববরণ করে অমানবিক জীবন ধারণ করছেন।

ঢাকার প্রথম নির্বাচিত মেয়র আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ হানিফ মাথায় বিঁধে থাকা স্প্লিন্টারের যন্ত্রণা ভোগ করেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তবে এতসব খারপ খবরের মধ্যেও একটি সন্তোষজনক খবর হচ্ছে- অনেক দেরিতে হলেও বর্তমান সরকার ওই মামলাটির বিচারকাজে আত্মনিয়োগ করেছে। জানা যায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান, তার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী ও কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদসহ পলাতকদের অনুপস্থিতিতেই বহুল আলোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেডহামলা মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। চার্জশিটভুক্ত আসামি এবং দুই পুলিশ কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান ও খান সাঈদ হাসানকে চাকরি থেকে বরখাস্ত এবং চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে দুই জঙ্গি ভারতে ক্রসফায়ারে মারা গেছেন বলে জানা গেছে। এর আগে এই মামলায় জঙ্গি সংগঠন হুজির আমির ও শীর্ষ নেতা মাওলানা ইয়াহিয়াকে ভৈরব এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

সূত্র জানায়, মামলাটির অন্যতম আসামি তারেক রহমান লন্ডনে অবস্থান করছেন। দেশে জরুরি অবস্থার সময় তার বিরুদ্ধে থাকা মামলায় জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি লন্ডন চলে যান। এরপর থেকে তিনি আর দেশে ফেরেননি। আর বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। তাছাড়া ওই দেশ থেকে তিনি লন্ডন যাওয়ার চেষ্টা করছেন। দেশে জরুরি অবস্থা জারির পরপরই হারিছ চৌধুরীও দেশ থেকে পালিয়ে যান।

এছাড়া কুমিল্লার মুরাদনগরের বিএনপির সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ ব্যাংকক, লে. কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ারদার কানাডা, হানিফ পরিবহনের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ হানিফ কলকাতা, ডিজিএফআইর সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) ডক্টর এটিএম আমিন দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকা, মাওলানা তাজউদ্দিন ও তার ছোট ভাই রাতুল বাবু দক্ষিণ আফ্রিকা, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই, আবদুল মালেক, শওকত হোসেন, ইকবাল হোসেন, মাওলানা আবু বকর, খলিলুর রহমান ও মাওলানা লিটন ওরফে জোবায়ের ওরফে দেলোয়ার ভারত ও পাকিস্তানে অবস্থান করছেন। তবে ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক ডিসি (পূর্ব) মোঃ ওবায়দুর রহমান, ডিএমপির সাবেক কমিশনার খান সাঈদ হাসান বাংলাদেশেই অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

সূত্রটি জানায়, আদালতে চার্জশিট দাখিলের পরপরই বিচার প্রক্রিয়া শুরু করতে তোড়জোড় শুরু হয়। পলাতক আসামিদের আদালতে হাজির হতে পত্রিকায় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেয়া হয়। ইতোমধ্যে মামলাটি বিচারের জন্য বিচারিক আদালতে পাঠানোর আদেশ দেয়া হয়েছে। মামলার বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর জানান, চাঞ্চল্যকর এ মামলার সাফাই সাক্ষী চলছে। পলাতক আসামিদের অনুপস্থিতিতেই বিচারকাজ শুরু হবে বলেও নিশ্চিত করেন কয়েকজন আইনজীবী।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেডহামলার পর প্রথমে থানা পুলিশ তদন্ত করে। কিন্তু তদন্তে কোনো কূলকিনারা না হওয়ায় ডিবি পুলিশ তদন্ত চালায়। তারাও ব্যর্থ হলে সিআইডি তদন্তের দায়িত্ব পায়। তদন্তের কয়েক দিন পরই পুলিশ জজ মিয়া নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে গ্রেনেডহামলার রহস্য উদঘাটিত হয় বলে দাবি করা হয়। এরমধ্যে শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন, মোল্লা মাসুদসহ আরও কয়েকজন অপরাধী আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেডহামলা চালিয়েছিল। আর জজ মিয়াকে দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও আদায় করা হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্ন ওঠে। তাছাড়া সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার মোখলেছুর রহমানসহ কয়েকজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে এ মামলায় গ্রেপ্তার করে হয়রানি করার অভিযোগ ওঠে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর নতুন করে মামলাটির তদন্ত শুরু হয়। তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা নিশ্চিত হন এ হামলার সঙ্গে সুব্রত বাইন গং বা জজ মিয়া জড়িত ছিল না।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত হন, জঙ্গি সংগঠন হুজি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে গ্রেনেডহামলা চালানো হয়। এই ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে নিতে হাওয়া ভবনসহ জোট সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও নেতারা সিআইডিকে ইন্ধন জুগিয়েছে। এরপর গত ২০০৮ সালের ১১ জুন সিআইডির সিনিয়র এএসপি ফজলুল কবির ২২ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুই মামলার চার্জশিট দাখিল করেন। মামলা দুটি একই বছর দ্রুত বিচার আদালতে স্থানান্তর হয়। মহাজোট ক্ষমতায় আসার পর আবারও নতুন করে তদন্ত শুরু হয়। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহহার আকন্দ তদন্ত করে তথ্য পান, গ্রেনেডহামলার সঙ্গে হুজির পাশাপাশি হাওয়া ভবনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তারা হুজিদের ব্যবহার করে জোট সরকারের প্রভাবশালী নেতা, মন্ত্রী ও কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান এবং সিআইডির কিছু কর্মকর্তা। মামলাটি ভিন্ন খাতে পরিচালনা ও জজ মিয়া নাটক সাজানোর ঘটনায় সিআইডির সাবেক তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় মামলা করা হয়।

আদালত সূত্র জানায়, গ্রেনেডহামলার ব্যাপারে আদালতে জবানবন্দি দেন মুফতি হান্নান, মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে অভি, শরীফ শাহেদুল আলম বিপুল, মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডা. জাফর, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, জাহাঙ্গীর আলম, আরিফ হাসান সুমন, রফিকুল ইসলাম সবুজ, মাওলানা আবদুস সালাম, মাজেদ ভাট, মাওলানা শেখ ফরিদ, মাওলানা সাব্বির, আবদুল মালেক ওরফে গোলাম আহম্মদ ওরফে জিএম। জবানবন্দিতে হাওয়া ভবনের কর্ণধারসহ অন্য আসামিদের নাম প্রকাশ করেন। জঙ্গিরা ২০০০ সালের জুলাই মাসের প্রথম দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর সুপার মার্কেট সংলগ্ন একটি অফিসে গোপন বৈঠক করে নীলনকশা চূড়ান্ত করে। অপরদিকে সাবেক মন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর সহোদর মাওলানা তাজউদ্দিন লস্কর-ই-তৈয়বা, তেহরিক-ই-জিহাদী ইসলামী এবং হিজবুল মুজাহিদীনের সঙ্গে জড়িত। এছাড়া, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। ২০০৪ সালের প্রথমদিকে বনানীর হাওয়া ভবনে তারেক রহমান ও হারিছ চৌধুরীর সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করে জঙ্গিরা। তদন্তে তারও প্রমাণ পাওয়া গেছে। ২১ আগস্টের ভয়ানক সেই গ্রেনেডহামলায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন ১৬ জন। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সহধর্মিনী ও তৎকালীন মহিলা আওয়ামী লীগের সভনেত্রী এবং বিশিষ্ট নারী নেত্রী আইভি রহমান ৫৮ ঘণ্টা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ২৪ আগস্ট মারা যান। আর আহত হওয়ার পর প্রায় দেড় বছর মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে হেরে যান আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় নেতা ও ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র মোহাম্মদ হানিফ।

রক্তাক্ত-বীভৎস ওই ভয়াল গ্রেনেডহামলায় নিহত অন্যরা হলেন- শেখ হাসিনার দেহরক্ষী ল্যান্স করপোরাল (অব.) মাহবুবুর রহমান, হাসিনা মমতাজ, রিজিয়া বেগম, রফিকুল ইসলাম (সবার প্রিয় আদা চাচা), রতন শিকদার, মোহাম্মদ হানিফ ওরফে মুক্তিযোদ্ধা হানিফ, মোশতাক আহমেদ, লিটন মুনশি, আবদুল কুদ্দুছ পাটোয়ারী, বিল্লাল হোসেন, আব্বাছ উদ্দিন শিকদার, আতিক সরকার, মামুন মৃধা, নাসিরউদ্দিন, আবুল কাসেম, আবুল কালাম আজাদ, আবদুর রহিম, আমিনুল ইসলাম, জাহেদ আলী, মোতালেব ও সুফিয়া বেগম। পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া এন্ড পিআর) সহেলী ফেরদৌস বলেন, চাঞ্চল্যকর গ্রেনেডহামলার মামলায় এখন পর্যন্ত ৩০ জন আসামিকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার করেছে। আর ১৯ জন আসামি পলাতক রয়েছেন। আর পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, বিএনপি-জামায়াত চার দলীয় জোট সরকারের আমলে সারাদেশে বোমাহামলা এবং গোপালগঞ্জে পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে কেন্দ্রীয়ভাবে সন্ত্রাসবিরোধী এক সমাবেশের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। ঘটনার দিন বিকাল ৪টার দিকে সমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশের পর শোক মিছিলের কর্মসূচি ছিল। বিকাল সাড়ে ৪টার মধ্যেই বঙ্গবন্ধু এভিনিউ এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। প্রধান অতিথি শেখ হাসিনা বিকাল ৫টার দিকে সমাবেশস্থলে পৌঁছেন। তিনি বুলেটপ্রুফ মার্সিডিজ বেঞ্জ জিপ থেকে নেমে নিরাপত্তাকর্মী বেষ্টিত অবস্থায় ট্রাকের ওপর তৈরি মঞ্চে উঠে বক্তৃতা শুরু করেন। বক্তৃতায় দেশব্যাপী অব্যাহত বোমাহামলার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। এর ২০ মিনিটের বক্তৃতা শেষে তিনি ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ উচ্চারণ করে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করার ঘোষণা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিকাল ৫টা ২২ মিনিটে দক্ষিণ দিক থেকে মঞ্চকে লক্ষ্য করে একটি গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। গ্রেনেডটি মঞ্চের পাশে রাস্তার ওপর পড়ে বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এরপর একে একে আরও ১২টি গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে উল্লেখিত ব্যক্তিরা হতাহত হন।

সূত্র : আমার সংবাদ।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১