চন্দ্রগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি :
প্রায় সাড়ে ৪শ’ বছরের ঐতিহ্য লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানা এলাকার রামচন্দ্রপুরে ফকির হযরত দেওয়ানশাহ্ মাঝার প্রাঙ্গণে সপ্তাহব্যাপি শুরু হয়েছে মেলা (দরগাহ)। শুক্রবার (১৯ জানুয়ারী) দুপুরে ফিতা কেটে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য (লক্ষ্মীপুর-৩) গোলাম ফারুক পিঙ্কু।
পরে মাঝার জেয়ারত ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়। এর আগে আয়োজক কমিটির সাথে মতবিনিময় করেন, এমপি গোলাম ফারুক পিঙ্কু। এসময় তিনি বলেন, ঐতিহ্যগতভাবে মেলাটি স্থানীয়দের কাছে জনপ্রিয় হওয়ার আমি জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলে মেলার অনুমোদন করিয়ে দিয়েছি। মেলাকে ঘিরে যেন কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকা- এবং নিজেদের মধ্যে কোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা না ঘটে। আগামী ২৩ জানুয়ারী পর্যন্ত এ মেলা চলবে। মেলায় দর্শনার্থী ও আগত ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় স্থানীয় চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশ ও মেলা কমিটির নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক টিম যৌথভাবে কাজ করবে বলে জানা গেছে।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন, মেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক মুনছুর আহম্মদ। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন- মেলা পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এম ছাবির আহম্মেদ, স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী সোলায়মান, চন্দ্রগঞ্জ থানা কৃষকলীগের সভাপতি জাকির হোসেন জাহাঙ্গীর, মেলা কমিটির কোষাধ্যক্ষ ও চন্দ্রগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কাজী মামুনুর রশিদ বাবলু, সহ কোষাধ্যক্ষ ও ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক রিংকু, থানা শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ। এসময় বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
এখানে কাঠের তৈরী আসবাবপত্র, স্টীল ও বেতের তৈরী দেশীয় সামগ্রী, বাচ্চাদের বিভিন্ন খেলনা, কসমেটিকস, রকমারী দেশীয় খাবার দোকানসহ নাগরদোলা, পুতুলনাচ, যাদু প্রদর্শণীসহ ইত্যাদির আয়োজন করা হয়েছে।
ফকির হযরত দেওয়ানশাহ্ (রাঃ) :
মাঝারের খাদেম ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে কথা বলে যতটুকু জানা গেছে- বাংলাদেশে আগত অগনিত আওলিয়ার মধ্যে ফকির দেওয়ান শাহ্ (রাঃ) আনুমানিক ৪শ’ ৩৬ বৎসর পূর্বে আরবের মক্কানগরী হতে ইসলাম প্রচারের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামে এসে আস্তানা স্থাপন করেন। আমৃত্যু তিনি চন্দ্রগঞ্জের আশপাশের এলাকায় ইসলাম প্রচারের কাজ করে যান। পরে তিনি মৃত্যুবরণ করলে স্থানীয় ভক্তগণ বর্তমান মেলা এলাকার নিকটে তাঁকে সমাহিত করেন।
পরবর্তীতে স্থানীয় জনগণ তাঁর সমাধিকে হযরত দেওয়ানশাহ্ (রাঃ) মাঝার শরীফ নামে অভিহিত করেন। দেওয়ানশাহ্ (রাঃ) এর সমাধি এলাকায় একটি দিঘি, মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানা, লাইব্রেরী, দেওয়ানশাহ প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কমিনিউটি ক্লিনিকসহ আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেছে।